কাজী মিনহাজ উদ্দিন রুদবী

শশ্রু উপাখ্যান

Sonali News    ১১:৪৯ এএম, ২০২০-০৯-১৫    337


শশ্রু উপাখ্যান

পৃথিবীর প্রত্যেকটি জাতি বা গোষ্ঠির মধ্যে কিছু স্বাতন্ত্রবোধ বা স্বকীয়তা রয়েছে যা তাদের একান্ত নিজস্ব ঐতিহ্যকে ধারন করে। যেমন এমেরিকাতে ইহুদীদের চিনতে কোন অসুবিধা হয় না। দাঁড়ি, দুদিকে ছোট বেনী বিশিষ্ট জুলফি, কালো লম্বা পোষাক,মাথার তালুতে ছোট টুপি ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের অন্য জাতি থেকে আলাদা করা যায়। ইহুদীরা তাদের এই স্বকীয় বৈশিষ্ট্য নিয়ে কোন প্রকার হীনমন্যতায় ভোগে না।  বরং এসবকে তারা তাদের গর্ব ও আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে ধারণ করে। স্বকীয় বৈশিষ্ট্যমন্ডিত স্বল্প কিছু ইহুদী সমগ্র এমেরিকার অর্থনিতী ও রাজনিতীকে প্রচ্ছন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। ইহুদী লবিকে সমীহ না করে এমেরিকায় কোন সরকার ক্ষমতায় আসতে পারেনা। 

ভারতের শিখজাতি সারা পৃথিবীতে তাদের পৃথক বৈশিষ্ট্যর জন্য সুপরিচিত। সকল শিখ তাদের ধর্মগুরু নানকের নির্দেশকে শিরোধার্য করে  শ্রশ্রæমন্ডিত থাকেন এবং বিশেষ এক ধরণের পাগড়ি ব্যাবহার করেন। পাগড়ী ও দাড়ি গোঁফের জন্য তারা বিব্রতবোধ করেননা  বরং তাদের এসব ধর্মীয় এতিহ্য তাঁরা সর্বাবস্থায় ধারন করেন। যে কারনে খেলার মাঠ থেকে শুরু করে সেনাবাহিনী পর্যন্ত সকল স্থানে তাদের একই রুপ দৃষ্টিগোচর হয়।  ভারতের প্রতিরক্ষা বিভাগ শিখদেরকে সেনাবাহিনীর ক্যাপ ব্যবহার করাতে, কিংবা ক্লিন শেভড থাকতে বাধ্য করতে পারেনি। শিখরা তাদের ধর্মীয় চেতনা ও চিহ্ন সমূহ ধারন করেই গর্বের সাথে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে  প্রশংসিত অবদান রেখে যাচ্ছেন। 

দু:জনক হলেও সত্য  আমরা যারা মুসলমার তারা ইসলামী ঐতিহ্য নিয়ে প্রচন্ড হীনমন্যতায় ভোগী। দাঁড়ি, টুপি, টাখনুর উপর পোষাক পরিধান আমাদের ইসলামী ঐতিহ্যের নিশান বা ”শিয়ার” হলেও আমরা তা পালন করতে দ্বিধাবোধ করি এবং এসব পালনের ব্যাপারে নানা অজুহাতের অবতারনা করি। আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ), সাহাবায়ে আজমাইন, তাবেয়ী, তাবেতাবেয়ী ,আইয়ামে মুজতাহিদীন, চার মাজহাবের সকল ঈমাম ও বুযুর্গবৃন্দ,আহলে হাদীস - আহলে জাহীরের আলেমসহ বর্তমান যুগের সকল হাক্কানী ওলামাবৃন্দ সকলেই এক মুষ্টির চেয়ে বেশী বা কমপক্ষে একমুষ্টি শশ্রæ রাখাকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা(আবশ্যিক সুন্নাহ) বলেছেন। বর্তমান যুগের কোন কোন স্কলারগন যথেস্ট গবেষনা ও পরীক্ষানিরীক্ষার পর দীর্ঘ ও ঝুলন্ত শশ্রæ রাখেকে ফরজ বলেছেন। সুন্নাতে মুয়াক্কাদা হোক আর ওয়াজিব হোক মোদ্দা কথা মুহাম্মদ (স) এর উম্মত হিসাবে এক মুষ্টি দাড়ি রাখাএকজন মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য কারন এটা মুসলমানের পরিচয় বহন করে। দুঃখের বিষয় বর্তমানে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত সাধারন মুসলমানবৃন্দ কোনোভাবেই এই বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না। শুধু তাই নয় মাদ্রাসা শিক্ষিত কিছু আলেমও এ দলে রয়েছেন। এদের কেউ বলছেন দাঁড়ি রাখা জরুরি নয় এটা একটা সাধারণ সুন্নাত,শেভ করা মাকরুহে তানজিহী হারাম নয়। কেই বলছেন দাঁড়ি রাখা আবশ্যক, তবে কতটুকু দাঁড়ি রাখতে হবে এ ব্যপারে কোন দিক নির্দেশনা ইসলামে নেই, যে কোন ভাবেই দাঁড়ি কিছু মুখে থাকলেই চলবে। 

মজার ব্যাপার হচ্ছে সুন্দর - সহনীয় লম্বা এবং ঝুলন্ত দাঁড়ি রাখা যে অবশ্য কর্তব্য বা আবশ্যিক সুন্নাত এটি প্রমাণ করার জন্য ইজমা বা ক্বিয়াসের প্রয়োজন হয় না। বরং কোরান থেকে প্রচ্ছন্ন ভাবে এবং সহীহ হাদীস থেকে পরিষ্কারভাবে আমরা তা জানতে পারি।

পবিত্র কোরআনের সূরা আল ইমরানের ৩১ নং আয়াতে আল্লা বলেছেন, “হে নবী আপনি লোকদের বলে দিন, তোমরা যদি আাল্লাহকে ভালবাসতে চাও তবে আমার অনুসরন কর। তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপ সমূহ ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াদ্র।” সুরা হাশরে আল্লাহ বলেন “রাসূল (সাঃ) যা নিয়ে এসেছেন তা গ্রহন করো এবং যা কিছু নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাক।” সূরা আহযাবে বলা হয়েছে “প্রকৃতপক্ষে তোমাদের মধ্যে যারা পরকালে আশা রাখে এবং আল্লাহকে গভীরভাবে স্মরণ করে তাদের জন্য রাসূল (সাঃ) এর জীবনে রয়েছে এক সর্বোত্তম নমুনা ।”

পবিত্র কোরআনের ভাষ্য অনুযায়ী সর্ব বিষয়ে প্রিয় নবী মুহাম্মদ (স:) কে নমুনা হিসাবে গ্রহন করে তাঁকে  পুরোপুরি অনুসরন ও অনুকরণ করলেই আমরা আল্লার ভালবাসা পাব এবং এবং আল্লার সন্তুষ্টি অর্জন করে ক্ষনস্থায়ী ধরিত্রী থেকে চীরস্থায়ী স্বর্গে প্রবেশ করতে পারব। 

ইসলামী শরিয়তের অনেক বিধান কোরানে স্পষ্ট করে উল্লেখ নেই।কোরআনে আল্লাহ নবী (স:) কে লক্ষ্য করে  ’সুরা নাহলে’ বলেছেন “এই কোরআন আপনার প্রতি নাজিল করেছি যাতে মানুষের প্রতি অবতীর্ণ বিষয়গুলোকে আপনি স্পষ্ট করে দেন।”

যে কারনে প্রিয় নবী (স:) আল্লাহর নির্দেশে ইসলামের বিধান গুলো নিজমুখে বর্ননা করে ,নিজে প্রত্যক্ষভাবে আমল করে এবং একদল সংশপ্তক সাহাবীদের মাধ্যমে আমল করিয়ে আমাদের  সন্মুখে দেদীপ্যমান ও স্বচ্ছ উদাহরন রেখে গেছেন।

যেমন কোরানে বিভিন্ন জায়গায় বলা হয়েছে ” নামাজ প্রতিষ্ঠিত কর ,যাকাত আদায় কর” কিন্ত কিভাবে নামাজ পড়তে হবে ,কোন কোন সময়ে মোট কত রাকাত নামাজ পড়তে হবে তার বিশদ বর্ননা কোরানে অনুপস্থিত। নবী (স:)বলেছেন ”তোমরা আমাকে যেরুপ নামাজ পড়তে দেখ সেরুপ নামাজ পড় (সহীহ বুখারী)।” নামাজের সকল ফরজ,ওয়াজিব, সুন্নাত সবই আমরা নবীজী (স:) এর কাছ থেকে অর্থাৎ তাঁর হাদীস বা সুন্নাহ থেকে পেয়েছি। একইভাবে ঈমানের অন্যান্য খুঁটি যেমন সিয়াম, যাকাত ও হজ্ব এর বিষয়ে কোরানে সংক্ষিপ্ত ভাবে উল্লেখ আছে। এসবের বিস্তারিত নিয়ম নিতী আমরা হাদীস বা সুন্নাহ থেকে পেয়েছি। সুতরাং ঈমানের মূল বিষয়গুলো যদি হাদীস থেকে গ্রহন করে আমরা সন্তুষ্ট থাকতে পারি তবে ইসলামের গুরুত্বপূর্ন অন্যান্য বিষয়ে কেন আমরা সহী হাদিসের উপর আমল করবনা ?

এখন শশ্রæ বা দাঁড়ির প্রসংগে আসছি । আমি এ ব্যাপরে অধিকাংশ হাদীস সিহাসিত্তা বা বিশুদ্ধ ছয় হাদিস ( বুখারী,মুসলিম,আবু দাউদ,তিরমিজী,ইবনে মাজা,নাসায়ী) থেকেই গ্রহন  করেছি ।  সিহা সিত্তার বাহিরেও অনেক বিশুদ্ধ হাদীস রয়েছে বলে সকল মাযহাবের ও আহলে হাদীসের ওলামা বৃন্দ  স্বীকার করেন, তাই শেষের দিকে সর্বজনগ্রাহ্য  কিছু বিশুদ্ধ হাদিস উল্লেখ করেছি।

আমাদের প্রিয় নবী (স:)  নিম্নবর্নিত হাদীস সমূহে সন্দেহাতীত ও পরিষ্কারভাবে দাঁড়ির ব্যাপারে মতামত ব্যক্ত  করেছেন। 

সহীহ বোখারী শরীফের ২৭৪২ নং হাদীসে হযরত ইবনে ওমর (রাঃ) বর্ণনা করেন- রাসূলূল্লাহ (সাঃ) বলেছেন তোমরা গোঁফ একবারে কেটে ফেল এবং দাঁড়ি লম্বা কর।সহীহ “মুসলিম শরীফ”এর ২৪৯ নং হাদীস এ বর্নিত আছে-হযতে আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূলূল্লাহ (সাঃ) বলেছেন দশটি কাজ প্রকৃতি বা ফিতরাতের অন্তর্ভূক্ত “গোঁফ খাট করা, দাঁড়ি বড় করা, মিসওয়াক করা, নাকে পানি দেয়া, নখ কাটা, আঙ্গুলের গিরাগুলো ঘসে মেজে ধোয়া, বগলের পশম উপড়িয়ে ফেলা, নাভীর নিচের অবাঞ্চিত লোম মুড়িয়ে ফেলা এবং মলমূত্র ত্যাগের পর পানি ব্যবহার করা।”সহীহ “মুসলিম শরীফ”এর ২৪৭  নং হাদীসে আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলূল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- তোমরা গোঁফ ছোট রাখ এবং দাঁড়িকে বড় হতে দাও।সহীহ “মুসলিম শরীফ”এর ২৪৮ নং হাদীসে আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলূল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মুশরিকরা যা করে তোমরা তার উল্ট করো। গোঁফ কেটে ফেলো এবং দাঁড়ি বড় কর।সহীহ ইবনে মাজাহ এর ২৯৩ নং হাদীসে হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে তিনি বলেন রাসূলূল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- দশটি জিনিস ফিতরাত বা মানবীয় স্বভাবজাত। তা হলো মোচ ছোট করে কাটা, দাঁড়ি লম্বা করা, মিসওয়াক করা, নাকে পানি দিয়ে পরিষ্কার করা, নখকাটা, আঙ্গুলের সংযোগস্থলের ময়লা ধুয়ে ফেলা, বগলের নিচের লোম পরিষ্কার করা, ও শৌচ করা অর্থ্যাৎ পেশাব পায়খানার পর পানি দিয়ে পবিত্রতা হাসিল করা। সহীহ তিরমিজি শরীফের ২৭০০ নং হাদীসে  হযরত ইবনে ওমর (রাঃ)  হতে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলূল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন তোমরা গোঁফ খাট করো এবং দাঁড়ি লম্বা কর।

সহীহ তিরমিজি শরীফের ২৭০১ নং হাদীসে হযরত ইবনে ওমর (রাঃ)  হতে বর্ণিত। তিনি বলেন আমাদের রাসূলূল্লাহ (সাঃ) গোঁফ খাট করতে এবং দাঁড়ি লম্বা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। 

সহীহ তিরমিজী শরিফ থেকে গ্রহনকৃত মিশকাত শরীফের ৪২৪০ নং হাদীসে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত হুযুর পাক (সাঃ) নিজের গোঁফ ছাটতেন অথবা বলেছেন তাহা ছাটাতেন। আল্লার বন্ধু ইব্রাহীম (আঃ) ও এটা করতেন।

সহীহ তিরমিজী ,নাসায়ী ও আহমাদ থেকে গ্রহনকৃত মিশকাত শরীফের ৪২৪১ নং হাদীসে হযরত যায়েদ ইবনে আকরাম (রাঃ) হতে বর্ণিত রয়েছে যে, রাসূল (সাঃ)  ইরশাদ করেন যে ব্যক্তি গোঁফ ছাঁটেনা সে আমাদের মধ্যে নেই। সহীহ আবু দাউদ শরীফের ৪১৫৩ নং হাদীসে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল (সাঃ) গোঁফ ছাঁটতে ও দাঁড়ি লম্বা করতে নির্দেশ দিয়েছেন।সহীহ নাসায়ী শরীফের ৪১৫৩ নং হাদীসে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) সূত্রে রাসূল (সাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন তোমরা গোঁফ ছোট করো এবং দাঁড়ি বাড়াও।ইমাম আবু জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল মিসরী আত তাহাবী প্রনীত” তাহাবী শরীফ ” নামক হাদীস সংকলনটি  সমগ্র মুসলিম জাহানে একটি বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থ হিসাবে যথেস্ট গ্রহনযোগ্যতা পেয়েছে। আমি আলোচ্য বিষয়ে তাহাবী শরীফের কয়েকটি হাদীস তুলে ধরছি”তাহাবী শরীফের ৬০৮৭ নং হাদীসে ইউনুস ও মুহাম্মদ ইবনে আমের ইবনে ইউনুস  তাদের নিজ নিজ সূত্রে নাফে হতে, তিনি তার পিতা হতে এবং ইবনে উমর হতে, আর উভয়ে রাসূল (সাঃ)  হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, তোমরা গোঁফ গোড়া হতে চেছে ফেল এবং দাঁড়ি বৃদ্ধি কর।৬০৮৭ নং হাদীসে  ইয়াজীদ ইবনে সিনান হযরত আনাস (রাঃ) হতে একই বর্ণনা করেন এবং তিনি অতিরিক্ত এক কথা বর্ণনা করেন যে, তোমরা ইয়াহুদীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করোনা।৬০৯০ নং হাদীসে হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন রাসূল (সাঃ)  বলেন- তোমরা দাঁড়ি ছেড়ে দাও অথবা তিনি বলেন তোমরা দাঁড়ি লম্বা কর। ৬০৯১ নং হাদীসে হযরত আবু সালমা হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন- তিনি বলেন তোমরা গোঁফ গোড়া হতে চেঁছে ফেল এবং দাঁড়ি লম্বা কর।

মসনদে আহমদ ইবনে হাম্বলও একটি সর্বজনস্বীকৃত গ্রহনযোগ্য হাদীস সংকলন। এই হাদীস গ্রন্থের একটি সহী হাদীসে হজরত আবু হোরাইরা (রা:) থেকে বর্নীত আছে হুজুর (স:) বলেন-দাঁড়ি বাড়াও গোঁফ কাট এবং এই ক্ষেত্রে ইহুদী খৃস্টানদের সাদৃশ্য অবলম্বন করো না। 

আল্লামা ইবনে কাছীরের লিখিত বিখ্যাত গ্রন্থ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থের চতুর্থ খন্ডে পারস্যের স¤্রাটের সাথে মহানবী (স:) এর পত্র বিনিময় সংক্রান্ত একটি ঐতিহাসিক ঘটনার দীর্ঘ বর্ননা রয়েছে যেখানে উল্লেখ আছে-” পারস্য স¤্রাটের পক্ষ থেকে দুজন দূত নবী করিম (স:) এর দরবারে আগমন করেন, তারা উভয়ে শশ্রæ মুন্ডানো এবং বড় গোঁফ বিশিষ্ট ছিল,হুজুর (স:) তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করতে ঘৃনাবোধ করলেন এবং তাদের বললেন,তোমাদের ধ্বংশ অনিবার্য,তোমাদের চেহারা বিকৃত করার হুকুম কে দিল? তারা বলল এটা আমাদের মালিক পারস্য স¤্রাটের হুকুম,তখন নবী (সে:) বললেন আমার রব তো আমাকে দাড়ি বৃদ্ধি করার এবং গোঁফ ছোট করার হুকুম দিয়েছেন। ” ঘটনাটি শুধু হাদীসে  নয় একটি ঐতিহাসিক সত্য ঘটনা হিসাবে ইসলামের ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে।  

এ ধরনের আরেকটি সহী ( রাবী বা বর্ননাকারীদের হালত দেখে ওলামাগন এ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন) হাদীস ”মুসান্নাফে ইবনে আবি সাইবাতে” বর্নিত আছে ” ওবাইদুল্লাহ ইবনে ওতবা(রহ.) বলেছেন-এক অগ্নিপূজক নবী (স:) এর দরবারে এল যার দাড়ি মুন্ডানো ছিল এবং লম্বা গোঁফ ছিল। তাকে দেখে নবী (স;) বললেন-একি অবস্থা তোমার? সে বলল এটা আমাদের ধর্ম। নবী (স:) বললেন আমাদের ধর্ম হচ্ছে গোঁফ কর্তন করা এবং দাড়ি বৃদ্ধি করা। 

প্রিয় নবী (স:) বলেছেন ”যে ব্যাক্তি আমার পরে জীবিত থাকবে সে অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। তখন তোমাদের জন্য জরুরী হলো তোমরা আমার সুন্নাত ও আমার হেদায়েতপ্রাপ্ত চার খলীফার সুন্নাতকে মজবুত করে ধরবে ( সহীহ ইবনে মাজাহ)।তিনি (স:) আরো বলেন ”বনী ইসরাইল বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল। আর আমার উম্মাত তিহাত্তর দলে বিভক্ত হবে। কিন্তু সব দলই জাহান্নামী। শুধু এক দলই জান্নাতী। সাহাবাগন জিজ্ঞাসা করলেন ইয়া রাসুলুল্লাহ,ঐ জান্নাতী দল কোনটি ? মুহাম্মাদ (স:)  উত্তর দিলেন-যারা আমার ও আমার সাহাবাদের পথে সুপ্রতিষ্ঠিত ও অবিচল থাকবে (সহীহ আবু দাউদ)। 

পবিত্র কোরানের সুরা তওবার ১০০ নং আয়াতে আল্লা রাব্বুল ইজ্জত বলেন””অগ্রগামী মুহাজির ও আনসার সাহাবাগন এবং যে সমস্ত মুসলমানগন নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরন করে,আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লার প্রতি সন্তুষ্ট” সুরা নিসার ১১৫ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন ”যে কেউ রাসুলের বিরুদ্ধাচারন করে তার কাছে সরল পথ প্রকাশিত হওয়ার পর এবং মুমিনদের (সাহাবা আজমাইন) অনুসৃত পথের রিরুদ্ধে চলে,আমি তাকে ঐ দিকেই ফিরাবো ,যে দিকে সে অবলম্বন করেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো” সুতরাং পবিত্র কোরান ও প্রিয় নবী (স:) এর হাদীস অনুযায়ী বিরুপ সময়ে বিতর্কীত বিষয়ে সমাধানের জন্য সাহবীদের অনুসরনকরাও আমাদের জন্য জরুরী।

সহীহ বোখারী শরীফের ২৭৪৩  নং হাদীসে উল্লেখ আছে আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলূল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতায় দাঁড়ি লম্বা রাখ এবং গোঁফ কেটে ফেল। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) যখন হজ্ব কিংবা ওমরা করতেন তখন দাঁড়ি মুঠো করে ধরেতেন এবং মুঠোর বাহিরের যা বেশী হত তা কেটে ফেলতেন। 

সহীহ আবু দাউদ শরীফের ৪১৫৫ নং হাদীসে হযরত জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন। আমরা হজ্ব ও ওমরা ছাড়া সবসময় দাঁড়ি লম্বা রাখতাম।

হাফেজ হাজার আসকালানীর আল ইছাবাহ গ্রন্থে আছে-হযরত ওছমান(রা:) বড় দাড়ি বিশিষ্ট ছিলেন,জালালুদ্দিন সুয়ুতি ”তারিখুল খুলাফা” গ্রন্থে লিখেন-হযরত আলী (রা:) অনেক বড় দাড়ি বিশিষ্ট ছিলেন। এভাবে বিভিন্ন প্রামান্য গ্রন্থে খুলাফায়ে রাশেদীন সহ সকল অনুসরনীয় জলিল কদর সাহাবীদের যে লম্বা ও ঝুলন্ত সুন্দর মানাসই শশ্রæছিল এব্যাপারে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই।

সাহাবীদের সেই আমলও সুন্নাহ’র অন্তর্ভুক্ত যাতে মুহাম্মদ (স:) এর সম্মতি ছিল বা যা দেখে তিনি নিষেধ করেন নি। 

উপরের আলোচনা থেকে এই কথা স্পষ্ট প্রতিয়মান হয় যে কোন বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থে প্রিয় নবী (স:) তোমরা দাড়ি রাখ এ কথা বলেন নি , কারন কোন মুসলমান তাঁর পবিত্র সুন্নাত চেঁছে ফেলে দিবে তিনি তা কল্পনাই করেন নি । শুধু তাই নয় সে যুগে আরবে অগ্নিপূজক ব্যাতীত মুশরিক,ইয়াহুদী-নাছারা প্রায় সকলেই বিভিন্ন স্টাইলে ছোট দাড়ি ও বড় গোঁফ রাখতেন। তাই নবী (স:) তাদের সাদৃশ্য থেকে বেঁচে থাকার জন্য বেশীর ভাগ জায়গায় বলেছেন দাড়িকে বৃদ্ধি কর,কোথাও বলেছেন দাড়িকে ছেড়ে দাও বা বড় হতে দাও এবং প্রত্যেক জায়গায় মোচকে ছোট বা চেঁছে ফেলতে বলেছেন। নবী (স:) এই নির্দেশ বা উপদেশটি ছিল মূলত  বিশেষ একটি দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে এবং সেটি হচ্ছে মুসলিম জাতির স্বকীয়তা, স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট বা আলাদা পরিচিতি কে পৃথিবীর সামনে তুলে ধরা। শুধু দাঁড়ি- গোঁফ রাখার পদ্ধতিতে নয়, নবী (স:) তৎকালীন মুশরিক ইহুদী খৃষ্টানদের বিরোধীতা বা তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন না করার  জন্য সাহবীদের অন্যান্য আরো অনেক বিষয়েও পরামর্শ দিয়ে গেছেন । বিশুদ্ধ ছয় হাদীস ও বির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থ সমূহে এ ব্যাপারে অনেক হাদীসের উল্লেখ রয়েছে যেমন-তিনি সাহবীদের বলতেন মহররমে ইহুদীরা একটি রোজা রাখে, তোমরা তাদের বিরোধীতা করে দুইটি রোজা রাখ, রোজাতে ইয়াহুদিরা সেহরী খায়না তোমরা সেহরী খেয়ে তাদের বিপরীত করো, অহংকারী মুশরিকদের মত তোমরা টাখনু গীরার নীচে কাপড় পরোনা ,ইয়াহুদীরা দাড়িতে রংগীন খেজাব লাগায়না তোমরা রংগীন খেজাব কিংবা মেহেদী লাগাও,ইয়াহুদীরা জুতা খুলে নামাজ পড়ে তোমরা জুতা পরে নামাজ পড়,মুশরীকরা টুপি ছাড়া পাগড়ী পরে তোমরা টুপি দিয়ে পাগড়ী পরে তাদের বৈসাদৃশ্য হও ইত্যাদি । একইভাবে মূর্তিপূজক,অগ্নিপূজারী ও ইহুদী-খ্রীস্টানদের থেকে স্বতন্ত্র বৈশিস্টমন্ডিত হয়ে মহিমান্বিত হওয়ার জন্যেই মহান আল্লার নির্দেশেই আল্লার নবী (স:) দাড়িকে লম্বা করতে বা বাড়াতে এবং গোঁফকে ছোট করতে বা চেঁছে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছেন । এ ব্যাপারে আরো সতর্ক হওয়ার জন্য রাসুল (স:) বলেছেন-যে ব্যাক্তি যে জাতির অনুকরন করবে সে ব্যাক্তি সে জাতির মধ্যে গন্য হবে(সহী আবুদাউদ)।” বুখারী শরীফের ৬৩৭৪ নং হাদীসে নবী (স:) বলেছেন- আল্লার নিকট তিন শ্রেনীর লোক সবচেয়ে বেশী ঘৃনিত। ১ম শ্রেনী হচ্ছে যারা হারাম শরীফের মধ্যে কুফরী কার্যকলাপ করে,২য় শ্রেনী হচ্ছে যারা ইসলামে থাকা অবস্থায়( মুসলমান হয়েও) জাহিলিয়্যাতের রীতি-নীতি ও আদর্শ ( কাফের মুশরিকদের অনুকরন-অনুসরন)পালন করে,৩য় শ্রেনী হচ্ছে যে ব্যাক্তি অন্যায়ভাবে কারো রক্ত প্রবাহিত করে।”  পবিত্র কোরানের সুরা হাদীদের ১৬ নং আয়াতে স্বয়ং আল্লাও বিশ্বাসীদের লক্ষ্য করে বলেন ”পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল( ইয়াহুদী-নাছারা) ওরা( মুসলমানবৃন্দ) যেন তাদের মত না হয়।”


জগদবিখ্যাত আলেমেদ্বীন বিশিস্ট বুজুর্গ যাঁকে হাকীমুল উম্মত  বা উম্মতের চিকিৎসক বলাহয় সেই মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (র:)তাঁর বিখ্যাত ” ইসলাহুর রুসুম” গ্রন্থে লিখেছেন যে ”বুখারী ও মুসলিম শরীফের (সহিহাইন) হাদীসে উল্লেখ রয়েছে-আ’ফুল লূহা ওয়া আহ্ফুস্ শাওয়ায়েব যার অর্থ তোমরা দাড়ী বড় কর ও মোচ ছোট কর। হুজুর (স:) হুকুম করেছেন ছিগায়ে আমর দ্বারা অর্থাৎ হুকুমবাচক ক্রিয়াপদ দ্বারা। আর ’আমর’(আদেশ) হাকীকাতান (মূলত) ওয়াজিবের জন্য ব্যবহার হয়।  দাড়ীর ব্যাপারে এই স্পস্ট নির্দেশবাচক হাদীসের কারনে বুজুর্গানেদ্বীন সহ চার ইমাম দীর্ঘ দাড়ী রাখাকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বা অবশ্য পালনীয় সুন্নাতের সাথে সাথে এটিকে ওয়াজীবও বলেছেন। হানাফী মাযহাবের মশহুর ফকীহ ইবনুল হুমাম বলেন ” এক মুষ্টির ভিতর দাড়ি কর্তন করা কারো মতেই বৈধ নয়”মালিকী মাযহাবের প্রখ্যাত ফকীহ ইমাম আবুল আব্বাস কুরতুবী মালিকী মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থ” আল-মুফহিম” এ লিখেন-দাড়ি মুন্ডানো ও উপড়ানো কোনটাই বৈধ নয়।হাম্বলী মাযহাবের প্রখ্যাত ইমাম আলাøামা ইবনে তাইমিয়া হাম্বলী বলেন- দাড়ি মুন্ডন করা হারাম।শাফেয়ী মাজহাবের প্রখ্যাত আলেম ইবনুর রিফায়া শাফিয়ী তার বিখ্যাত রচনা”আলকিফায়াতু ফি শারহিত তানাবিয়াহ’তে লিখেন -ইমাম শাফেয়ী (রহ.) তাঁর ”আল-উম্ম” পুস্তকে দাড়ি মুন্ডনকে হারাম বলেছেন”

উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর বেশ কিছু ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ এবং মুক্তমনের গবেষক চার মাজহাবের অনুসরন থেকে বেরিয়ে এসে কোরান ও সহী হাদীসের আলোকে জীবন যাপনের ব্যপারে মুসলমানদের উৎসাহিত  করেছেন। এ ধারায় বিশিষ্ট ফকিহ-আলেম এবং আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত গবেষকবৃন্দও রয়েছেন।  এদের মধ্যে ইমাম আল্লামা ইবনে হাযম যাহিরী ,আল্লামা আহমদ বিন আবদুর রহমান আল বান্না,মুহাদ্দিস শাইখ নাছিরউদ্দিন আলবানী,সৌদি আরবের গ্রান্ড মুফতি আব্দুল আজিজ বিন বায,ডা. জাকির আব্দুল করিম নায়েক,সৈয়দ আবুল আলা মওদুদী উল্লেখযোগ্য। 

ইবনে হাযম দাড়ি মুন্ডানো (শেভ করা) কে মুছালা (বিকৃতি) ও হারাম বলেছেন। আব্দুর রহমান আল বান্না তার প্রসিদ্ধ ” আল-ফাতহুর রব্বানী” গ্রন্থে লিখেন-দাড়ি মুন্ডানো (শেভ করা) হারাম।  আল বানী তার  ” আদাবুয যুফাফ” গ্রন্থে দাড়ি মুন্ডানো (শেভ করা) হারাম হওয়ার উপর চারটি দলিল উল্লেখ করে বলেন এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই যে দাড়ি বৃদ্ধি করা ওয়াজিব এবং দাড়ি মুন্ডান (শেভ করা) করা হারাম ।সৌদি আরবের গ্রান্ড মুফতি আব্দুল আজিজ বিন বায বলেন-দাড়ি সংক্রান্ত হাদীস সমূহের আলোকে একথা প্রতিয়মান হয়যে দাড়ি লম্বা করা ও ছেড়ে দেয়া ওয়াজিব এবং  মুন্ডানো (শেভ করা) ও ছোট করা হারাম হওয়ার দাবী রাখে।

পিস টিভির স্বত্বাধিকারী ডা.জাকের নায়েক-দাড়ি রাখা সুন্নাত নাকি ফরজ এ প্রশ্নের উত্তরে নাতিদীর্ঘ বর্ননার পর সর্বশেষে বলেন-”সুতরাং অধিকাংশ আলেমদের মতে দাড়ি রাখা ফরজ।” দাড়ির দৈর্ঘের ব্যাপারে সিদ্ধন্ত কি? এ প্রশ্নের উত্তরে ডা.জাকির নায়েক দীর্ঘ বক্তব্যের পর সবশেষে বলেন-”শেখ নাসির আলবানী এক মুঠের নীচের দাড়ী কেটে ফেলতে বলেছেন অন্যথায় অতিরিক্ত লম্বা দাড়ি রাখা মাকরুহ হবে।এটা অনেক শক্তিশালী ফতোয়া এবং আমি ব্যাক্তিগতভাবেএই মতের সাথে একমত।কারন তিনি সাহাবী ইমাম মালিক,হাম্বলি এবং অন্যান্যদেরকে উদাহরন দিয়েছেন।”(ডা.জাকির নায়েক লেকচার সমগ্র-৫,সংকলন-মো: রফিকুল ইসলাম পৃষ্ঠা নং-৩০৪,৩০৫)

বিশ্ববিখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক সৈয়দ আবুল আলা মওদুদী সাহেব  ১৯৬৩ খ্রী: উর্দু প্রেস,লাহোর থেকে মূদ্রিত উর্দু ভাষায় লিখিত তাঁর ” রাসায়েল ও মাসায়েল” নামক গ্রন্থের ২য় এডিশনের প্রথম অধ্যায়ের ২৪৭ নং পৃষ্ঠায়  দাঁড়ি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে লিখেছেন- “দাঁড়ি সম্পর্কে রাসূল (সাঃ) কোন পরিমাণ নির্দিষ্ট করেননি। শুধু এতটুকু বলেছেন যে, দাঁড়ি রাখা চাই।” একটু পরে তিনি আরও লিখেন “আপনি যদি এতটুকু দাঁড়ি রাখেন যে, সাধারণ ধারণায় দাঁড়ি রেখেছেন বলা যায়, তবে শরীয়তের উদ্দেশ্যে পূরণ হয়।” মাওলানা মওদুদির বক্তব্যে কোরান হাদীসের কোন রেফারেন্স নেই এটা সম্পূর্ন তাঁর নিজস্ব ইজতিহাদ।সম্ভবত তিনি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত ও আধুনিক চালচলনে অভ্যস্ত মুসলিম সমাজকে ইসলামের দিকে আকৃস্ট করার জন্য শশ্রæর ব্যাপারে কঠোর না হয়ে এটাকে হেকমত ভেবে সহজিয়া ঢংয়ে উত্তর দিয়েছেন।

জামায়েতে ইসলামের সাবেক রুকন ও প্রতিষ্ঠাতা নায়েবে আমির যিনি জামায়েতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠা অধিবেশনে সংগঠনের আমির হিসাবে মাওলানা মওদুদি সাহেবের নাম প্রস্তাব করেছিলেন এবং যার মুনাজাতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা অধিবেশন সমাপ্ত হয়েছিল সেই প্রখ্যাত আলেম  আল্লামা মনজুর নোমানী সাহেব তাঁর স্মৃতিচারনমূলক ”মাওলানা মওদুদি কে সাথ মেরী রেফাকাত কী সার গুযাশত আওর আব মেরা মাওকাফ” গ্রন্থে মওদুদীর সাথে তাঁর বন্ধত্বসুলভ স্মৃতিচারন করতে গিয়ে এক জায়গায়  ক্ষুদ্র শশ্রæ মন্ডিত মাওলানা মওদুদীর নিকট দাড়ীর ব্যাপারে জানতে চাইলে মওদুদি বলেন ”আমার মতামত হলো এই ,যাতে দূর থেকে দৃষ্টিগোচর হয়, সে পরিমান দাড়ি রাখা জরুরী এবং একমুস্টি পরিমান দাড়ি রাখা সুন্নাত”, তখন দাড়ি বৃদ্ধি করা বিষয়ক সীহাসিত্তার বিশুদ্ধ হাদীস সমূহ এবং ফিকহী অলংঘনীয় যুক্তি সমূহ মওদুদী সাহেবের সামনে আলোচনা করে মনজুর নোমানী সাহেব মওদুদী কে যা বলেন তার শেষাংশে আছে ”শুধু এ পরিমান দাড়ি রাখলে-যা আপনার কথা মতে ’শুধু দূর থেকে দৃষ্টিগোচর হয়’ উক্ত শব্দ দ্বয়ের অর্থ যথাযথ ভাবে পূর্ন হয় না। বরং শব্দ দ্বয়ের পরিষ্কার দাবী ও যথার্থ অর্থ হলো-দাড়ি কিছু পরিমান লম্বা,বর্ধিত ও লটকানো হওয়া। অথচ বর্তমানে আপনার দাড়ি অত্যন্ত ছোট। সুতরাং আমাদের মতে হাদীসের দৃষ্টিতেও এ ধরনের দাড়ি রাখা জায়েজ হওয়ার কোন অবকাশ নাই।আমার স্মরন আছে ,আমার কথা শুনে তিনি বেশ কিছুক্ষন নীরবে চিন্তা করার পর বলেছিলেন-আমি এভাবে এই দিকটা কোন সময় চিন্তা করিনি। এখন ধারনা হলো যে,আপনার কথাই যথার্থ এবং আমার সংশোধন করে নেয়া দরকার।”

এর পর থেকে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মওদুদি সাহেব লম্বা দাড়ি রাখলেও তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগঠনের ও তাদের ছাত্র সংগঠনের অধিকাংশ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ কেন এখনো খসখসে চাপদাড়ি রেখে তাঁর সংশোধিত সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে তা আল্লাই ভাল জানেন।

ভারতের দারুল উলুম দেওবান্দের অনুসারী আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার ইসলামি আইন ও গবেষণা বিভাগ ( ইফতা বিভাগ) কতৃক প্রনীত ফতোয়া সর্বশ্রেনীর আলেমদের নিকট স্বীকৃত ও গ্রহনযোগ্য। আল্লামা আহমদ শফী সাহেব  কর্তৃক সম্পাদিত হাটহাজারী মাদ্রাসার মুখপত্র মাসিক  মুঈনুল ইসলাম বর্ষ-১৮, সংখ্যা-১২, মে ২০০৯ এর জিজ্ঞাসা ও সমাধান নামক নিয়মিত অধ্যায়ের পৃষ্ঠা নং ৩১ এ  ৫৮৯৬নং প্রশ্নে দাঁড়ি সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তরে ইফতা বিভগ থেকে যা লিখা হয়েছে তার কিয়দাংশ হুবহু নিম্মরুপ “শরীয়তের দৃষ্টিতে এক মুষ্ঠি পরিমাণ লম্বা দাঁড়ি রাখা ওয়াজিব তথা অত্যাবশ্যকীয়। এক মুষ্ঠি থেকে কম রাখা বা ছাটা বা সেভ করা হারাম। উক্ত সিদ্ধান্ত সকল ফোকাহায়ে কেরাম একমত।” (আল মাওছুআতুল ফিকহিয়্যা। ৩৫/২২৫, হিদায়া-১/২৩৫, মিরক্বাত শরহে মিশকাত জাদীদ, ফতওয়ায়ে হিন্দিয়্যা জাদীদ), আহছানুল ফাতওয়া, ইমদাদুল আহকাম, ফাতওয়ায়ে রহিমিয়া)।

আধুনিক ভাবধারায় অনুপ্রানীত বাংলাদেশের বিশিষ্ট আলেম, কয়েকটি ইসলামী ব্যাংকের শরীয়া বোর্ডের সদস্য বিশিষ্ট ইসলামী  লিখক মাওলানা মুহিউদ্দিন খান সম্পাদিত ”মাসিক  মদিনা”র জুলাই - ২০০৪ সংখ্যায়  প্রশ্নোত্তর অধ্যায়ের  ৫৪ পৃষ্ঠায় ৬০ নং প্রশ্নের জবাবে দাঁড়ি রাখার ব্যাপারে যা বলা হয়েছে তা হুবহু এইরুপ “দাঁড়ি এক মুষ্টি পরিমাণ রাখা ওয়াজিব। রাসূল (সাঃ) এই পরিমাণ দাঁড়ি রেখেছেন সাহাবীগণের সময় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আলেম, পীর, ওলী, দরবেশ নির্বিশেষে সর্বশ্রেণীর দ্বীনদার লোকজন দাঁড়ির এই পরিমাণ বিনা দ্বিধায় অনুসরণ করে এসেছেন। সুতরাং এই ব্যাপারে ভিন্নমত প্রকাশ করার কোনো অবকাশ নেই।”

মরহুম পীর মাওলানা আব্দুল জব্বার (রঃ) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বায়তুশরফ আঞ্জুমানে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ এর মুখপাত্র ”মাসিক দ্বীন দুনিয়া” ডিসেম্বর ২০০৪ এর প্রশ্নোত্তর অধ্যায়ের ৫৯ পৃষ্ঠায় জনৈক ব্যাক্তির প্রশ্নের জবাবে দাঁড়ির ব্যাপারে যা বলা হয় তা হুবহু নিম্মরুপ: “দাঁড়ি রাখা রাসূল (সাঃ) এর সুন্নাত। তিনি তাঁর উম্মতের প্রতি দাঁড়ি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন দাঁড়ি রাখ এবং গোঁফ খাট করো। (সহীহ বোখারী) অতএব দাঁড়ি কম বেশী বা ঘন পাতলা যাই হোক না কেন দাঁড়ি রাখতে হবে। দাঁড়ি মুন্ডন করা গোনাহের কাজ।” সরকারী  মাদ্রাসার মুখপত্র দ্বীনদুনিয়াতে বুখারী শরীফের হাদীসকে হবহু উপস্থাপন না করে আধুনিক আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র সমাজের (যারা দাড়ি বৃদ্ধি দূরে থাক দাড়িই রাখতে চায়না) কাছে ইসলামকে সহজ করার হেকমত হিসেবে দাড়ি বৃদ্ধি করার ব্যাপারটি উহ্য রাখা হয়েছে।যে হেকমত শরীয়াহকে অতিক্রম করে সে দাওয়াতী কৌশল কতটুকু যুক্তিযুক্ত আলেম সমাজ ভাল বলতে পারবেন।

বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য হাদীস সমূহে দাঁড়ি সম্পর্কে ছয়টি শব্দ ব্যবহৃত হয়। ১) আ'ফুল-লূহা অর্থ্যাৎ দাঁড়ি বাড়াও। (বোখারী ,মুসলিম,আবুদাউদ,তিরমিজী,নাসায়ী) ২) আওফুল-লুহা দাঁড়ি পূর্ণ কর। (মুসলিম শরীফ) ৩) আরখুল লুহা, দাঁড়ি ঝুলন্ত ও লম্বা রাখ। (মুসলিম)। ৪) ওয়াফ-ফীরু দাঁড়ি বেশি রাখ( বোখারী ও মুসলিম শরীফ)  ৫) আরজু দাঁড়ি বহাল রাখ (মাজমাউল বাহার) ৫)) “দা-উ” দাঁড়ি কে ছাড় র্অথ্যাৎ কর্তন করা না (তাবরানী)। আরবী ভাষায় যারা অভিজ্ঞ তারা অবশ্যই বুঝবেন যে, রাসূল (সাঃ)  এ সকল শব্দে নিছক দাঁড়ি রাখার আদেশ করেননি। বরং দাঁড়ি বৃদ্ধি করা লম্বা করা, পূর্ণ করা ও যাথাযথ বহাল রাখার তাগিদ দিয়েছেন।

কোরানের সুরা রুমের ৩০ নং আয়াতে বলা হয়েছে ” তুমি আল্লাহপাকের ফিতরাত বা প্রকৃতির অনুসরন কর,যে প্রকৃতির উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন,আল্লার প্রকৃতির কোন পরিবর্তন নাই,এটাই সরল দ্বীন,কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা বোঝেনা।”সিহা সিত্তার হাদীস সমূহে যে ফিতরাতের(দশটি বিষয়) উল্লেখ আছে সে বিষয়গুলোর সমষ্টি হচ্ছে সুস্থ প্রকৃতি। অধিকাংশ হাদীসবিশারদ ও গবেষকদের মতে ফিতরাত মূলত সকল নবী রাসুল ও আধ্যাত্বিক  পবিত্র পুরুষদের তরীকা । সে হিসাবে বোঝা যায় দুটি গুরুত্বপূর্ন ফিতরাত গোঁফ সূক্ষ করা ও শশ্রæ দীর্ঘ করা সকল নবী বা ধর্মপ্রচারকদের সুন্নাত ছিল। পবিত্র কোরানে নবীদের শশ্রæ সম্পর্কিত একটি তথ্য পাওয়া যায়;সূরা তা¡হার ৯৪ আয়াতে উল্লেখ আছে যে, বনি ইসরাইল গরুর বাছুর পূজার ঘটনায় হযরত মূসা (আঃ) ভয়ঙ্কর রাগান্বিত হয়ে আপন ভাই হযরত হারুণ (আঃ) এর দাঁড়ি ও মাথার চুল হাতে নিলে হারুণ (আঃ) বলেছিলেন, “হে আমার জননী তনয়, তুমি আমার দাঁড়ি ও মাথার চুল টেনো না।” বলা বাহুল্য হযরত হারুণ (আঃ) এর দাঁড়ি যদি মুখমন্ডলের সাথে লেগে থাকা চাপ দাড়ি হতো তাহলে তা  মূসা (আঃ)  হাতে ধরতে পারতেন না। অথচ হযরত মূসা (আঃ) যখন হারুন (আঃ) এর দাঁড়ি হাত দিয়ে ধরে টান দিলেন (যা সূরা আরাফেও বর্ণিত আছে,) তাতে প্রতীয়মান হয় যে, হযরত হারুণ (আঃ) এর দাঁড়ি যথেষ্ট লম্বা ছিল।

ইমাম বায়হাকীকৃত একটি গ্রহনযোগ্য হাদিস সংকলন ”দালায়িলুন নুবুওয়াহ” গ্রন্থের একটি সহীহ হাদীসে  নবী হযরত নুহ(আ.),হযরত ইবরাহীম(আ.),হযরত ইসহাক(আ.),হযরত ইয়াকুব(আ.),এবংহযরত ঈসা(আ.) এর দাড়ী থাকার উল্লেখ আছে। 

পবিত্র কোরানের ভাষ্য অনুযায়ী পৃথিবীর এমন কোন জাতি বা গোষ্ঠি নাই যাদের নিকট আল্লা নবী বা সতর্ককারী প্রেরন করেন নাই।

বর্তমানে পৃথিবীতে যে ধর্ম গুলোর উল্লেখযোগ্য অনুসারী রয়েছে তার মধ্যে প্রথমে রয়েছে খ্রীস্টান ৩১.৫%,মুসলিম ২৩.২%, ধর্মহীন বা মানবধর্ম ১৬.৩%,হিন্দু ১৫%, বৌদ্ধ৭.১%,চায়নার ধর্ম সমূহ(কনফুসিয়াসিজম,টো-ইজম)৫.৯% ,ইয়াহুদী,শিখ, আফ্রিকার প্রকৃতি পুজারী সহ অন্যান্য .৮%।

প্রিয় পাঠক গবেষনা করে দেখ গেছে শুরু থেকে এ পর্যন্ত খ্রীস্টান ধর্মের সকল গীর্জায় যিশু বা ঈসা (আ.) এর যত ছবি বা ক্রুশবিদ্ধ মূর্তি পাওয়া গেছে সব গুলোতে তাঁর বড় দাড়ী রয়েছে ( ছবি লক্ষ্য করুন),মুসা (আ.)এর যে কল্পিত ছবি ইহুদী ও ইয়োরোপিয়ানরা প্রকাশ ও প্রচার করেছে তাতেও বড় দাড়ী বিদ্যমান। চীনের কনফুসিয়াসিজম ধর্মের প্রবক্তা কনফুসিয়াস এবং টো-ইজমের প্রবর্তক লেও-জু এর সকল ছবি ও প্রতিকৃতিতে বড় দাড়ি বিদ্যমান। শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গুরু নানক বিশাল শশ্রæধারী ছিলেন।হিন্দু ধর্ম অতিপ্রাচীন, এটাকে তাই সনাতন ধর্মও বলা হয় ,এ ধর্মের নির্দিস্ট কোন প্রবক্তা ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যায়না। তবে কিছু কিছু ঐতিহাসিকের মতে সম্ভবত ইব্রাহীম (আ.) বা তার কোন অনুসারী আর্যদের নিকট কিছু সহিফা নিয়ে এসে একেশ্বরবাদী ধর্ম প্রচার করেছিলেন।যে কারনে তাদের বেদ.গীতা,ইত্যাদি প্রধান ধর্মগ্রন্থ সমূহে একত্ববাদের জোরালো সমর্থন পাওয়া যায়। কালের পরিক্রমায় তাদের ধর্মে বিকৃতি ঘটে এবং ধর্মপ্রচারকদেরকে তারা  ঈশ্বরের অবতার বা কোন কোন ক্ষেত্রে ঈশ্বর হিসাবে পুজনীয় করে তোলে। তাদের ধর্মে উল্লিখিত আছে ব্রক্ষা এক অদ্বিতীয়। ব্রক্ষ্যা শব্দটি হিব্রভাষার ইব্রাহিম শব্দের অপভ্রংশ বলে এনেক গবেষক মনে করেন।সে হিসাবে ইব্রাহিম (আ.) এর অনুকরনে  হিন্দু ধর্মের মুনি ঋষি ও আধ্যাত্বিক ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই শশ্রæধারী।

এক মাত্র বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধের ছবি বা মূর্তিতে দাড়ি নেই। এর কারন হচ্ছে জিনগত করনে পৃথিবীর কোন কোন অঞ্চলের(ভারতের কিছু এলাকা,থাইল্যান্ড,বার্মা,তিব্বত,চায়না,কোরিয়া ইত্যাদি অঞ্চল) মানুষ অজাতশশ্রæ হয়ে থাকে অর্থাৎ প্রকৃতগতভাবে তাদের দাড়ি গজায়না বা গজালেও তা এত কম ও হালকা থাকে যে  দৃষ্টিগোচর হয়না। বুদ্ধ সে ধরনের এলাকার  অধিবাসী ছিলেন বিধায় ধর্মপ্রচারক হিসাবে একমাত্র তাঁর ছবি ও প্রতিকৃতিতে শশ্রæ অনুপস্থিত ।বিতর্কিত কাদিয়ানি ও বাহাই  ধর্মের তথাকথিত প্রবক্তা যথাক্রমে মির্জা গোলাম আহমদ ও বাহাউল্লাহ উভয়েই দীর্ঘ শশ্রæধারী ছিলেন। এছাড়া সক্রেটিস( যাঁকে লোকমান হাকীম বা কোন প্রেরীত সতর্ককারী হিসাবে সন্দেহ করা হয়) ও এরিস্টেটল সহ পৃথিবীর অধিকাংশ



রিটেলেড নিউজ

পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেলেন সোহরাব হোসাইন

পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেলেন সোহরাব হোসাইন

Sonali News

বাংলাদেশের সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেলেন সোহরাব হোসাইন।বাংলাদেশ ... বিস্তারিত

করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী

করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী

Sonali News

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ... বিস্তারিত

উত্তর লন্ডনে  ছুরিকাঘাতে বাংলাদেশী যুবক নিহত

উত্তর লন্ডনে ছুরিকাঘাতে বাংলাদেশী যুবক নিহত

Sonali News

রবিবার রাতে উত্তর লন্ডনের এনফিল্ডে ছুরিকাঘাতে নিহত হন নাহিদ আহমদ নামের এক যুবক । তার বয়স ২৬ বছর। ... বিস্তারিত

পিঁয়াজের ব্যাপারে বানিজ্য মন্ত্রীর আশ্বাস

পিঁয়াজের ব্যাপারে বানিজ্য মন্ত্রীর আশ্বাস

Sonali News

হঠাৎ করেই ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাচ্ছেনা ... বিস্তারিত

চট্টগ্রামে বর্তমানে মোট করোনা আক্রান্ত ১৭৯২৫ জন

চট্টগ্রামে বর্তমানে মোট করোনা আক্রান্ত ১৭৯২৫ জন

Sonali News

 নিজস্ব সংবাদদাতা:চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৫ জন। একজন মৃত্যুবরণ ... বিস্তারিত

জনপ্রিয় ট্রাভেল গ্রুপ

জনপ্রিয় ট্রাভেল গ্রুপ "চিটাগং ট্যুরিস্ট গ্যাং" চার বছরে পা রাখল

Sonali News

সাইফ রাব্বি :: দেখতে দেখতে ৪ বছরে পা রাখল চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত ট্রাভেল গ্রুপ "চিটাগং ট্যুরিস্ট ... বিস্তারিত

সর্বশেষ

সন্দ্বীপে ছায়েদুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ছয় গুণী ব্যক্তির স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

সন্দ্বীপে ছায়েদুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ছয় গুণী ব্যক্তির স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

Sonali News

বাদল রায় স্বাধীন সন্দ্বীপের শিক্ষা ও সমাজ সেবা মুলক অন্যতম সংগঠন মাষ্টার ছায়েদুল হক ফাউন্ডেশন ... বিস্তারিত

সন্দ্বীপে কর্মহীন ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে নৌবাহিনীর খাদ্য সহায়তা প্রদান

সন্দ্বীপে কর্মহীন ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে নৌবাহিনীর খাদ্য সহায়তা প্রদান

Sonali News

বাদল রায় স্বাধীনসম্প্রতি দেশব্যাপী ঘটে যাওয়া বন্যা ও চলমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সন্দ্বীপ ... বিস্তারিত

নিউ জার্সীতে বাঙ্গালীদের মিলনমেলায় হাজী আব্দুল কাদের মিয়াকে সম্মাননা প্রদান

নিউ জার্সীতে বাঙ্গালীদের মিলনমেলায় হাজী আব্দুল কাদের মিয়াকে সম্মাননা প্রদান

Sonali News

বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব আটলান্ট্রিক কাউন্টি নিউ জার্সীর আয়োজনে করোনা পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত হল ... বিস্তারিত

আমার দেখা সন্দ্বীপ  (পর্ব ২০) সন্দ্বীপ টাউনে সভা সমাবেশ (৮)

আমার দেখা সন্দ্বীপ (পর্ব ২০) সন্দ্বীপ টাউনে সভা সমাবেশ (৮)

Sonali News

- শিব্বীর আহমেদ তালুকদার [এ লিখাটি বা পর্বটি ওরাল হিস্ট্রি বা স্মৃতিকথন, ইতিহাস নয়। তবে ... বিস্তারিত