আজ শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



আবৃত্তি অঙ্গনের একজন নবীন সদস্য হিসেবে এ-ও কম প্রাপ্তি নয়!

Published on 16 April 2016 | 2: 54 pm

:: আব্দুর রহিম রাহাত ::
————————————————
বাংলা নববর্ষ আগমনের আজ তিনদিন অতিক্রম হতে চললেও এখন পর্যন্ত হৃদয় গহীনে জমাট বাঁধা আমেজ গুলো বারংবার দোলা দিচ্ছে! কারণ এবারের পহেলা বৈশাখটি আমার কাছে এসেছিল একটু ভিন্নভাবে। স্মৃতিপটে আশার মেলবন্ধন গুলো নাচানাচি করছে এখনো!!

জীবনে প্রথম বার জাতীয় কোন প্রোগ্রামে বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশনের জন্য মঞ্চে অভিষেক!! তাও আবার ডিসি হিল (নজরুল স্কোয়ার), সিআরবি এবং চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণের মত তিনটি স্পর্শকাতর স্থানে হাজার হাজার দর্শকদের সামনে।

কারো কারো কাছে এটি ভনিতা হতে পারে! তবে যারা সোনার চামচ মুখে দিয়ে বেড়ে উঠে নি, তাদের কাছে এটিও যে কম প্রাপ্তি নয় সেটা বলতে দ্বিধা কিসের! তাদের কাছে এটি অনেক বেশি আবেগের, অনেক বেশি অনুভূতির এবং অনেক বেশি প্রাপ্তির।

সবচেয়ে ভাল লাগার বিষয় হলো, চট্টগ্রামের সুপরিচিত ও জনপ্রিয় আবৃত্তি সংগঠন ‪#‎শব্দনোঙরের‬ সদস্য হয়ে আবৃত্তি পরিবেশনের এ স্মৃতি হয়ত অনেক দিন মনে থাকবে।

গত বছরটিতে একই জায়গা গুলোতে দাঁড়িয়ে আবৃত্তি করেছিলেন প্রিয় ভাই কবি ইকবাল ইবনে মালেক ভাই।
তিনি আজ প্রবাসে, তবে অগ্রজদের পথ ধরেই অনুজদের অনুপ্রবেশের অংশ হিসেবে এটি-ও হয়ত তাঁর স্থলাভিষিক্ততা নমুনা।
আমি বিনম্রভাবে স্বীকার করছি এবং আন্তরিকভাবে শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি কবি ইকবাল ইবনে মালেক ভাইয়ের প্রতি। নিঃসংকোচে বলছি, সংস্কৃতি অংগনে পদচারণা, টুকটাক লেখালেখি কিংবা সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে আমার অনুসরণীয় এবং প্রাণপ্রিয় ব্যক্তিটি হলেন ইকবাল ইবনে মালেক ভাই।

প্রতিটি জিনিসের ভাল এবং খারাপ দুটি দিক থাকে।তিনি আমাকে শিখিয়ে ছিলেন ভাল দিকটা। তিনি আমাকে বলতেন, সংস্কৃতি মানেই খারাপ না!! এখানে রঙ্গীনতার আড়ালে যেমন বিদঘুটে অন্ধকারময় দুনিয়া আছে, তেমনি এখানে সুবাসও আছে অঢেল। অাছে অপরিমেয় কৃতিত্বময়ী রঙ্গীন জীবন!! তিনি বলতেন, এ বিদঘুটে দিকটায় গা না ভাসিয়েও সংস্কৃতি চর্চা করা যায়। সংস্কৃতির পরিধি অনেক বড়। পুরো জায়গাটা কিন্তু কদর্যতা আর নষ্টামির না!!

নববর্ষ নিয়ে অনেক শ্লোগান আছে! অনেক বিতর্ক আছে! অনেক অপসংস্কৃতির চর্চা আছে। একশত বার মানি।
তবে নববর্ষটিকে ‪#‎কবিতার_ছন্দে_ছন্দে_স্বাগতম‬ জানানোটাও কি অপসংস্কৃতি ? নববর্ষটাকে‪#‎কবিতার_রঙ্গে_ঢঙ্গে_আলিঙ্গন‬ করাটাও কি অপসংস্কৃতি??
যদি না হয়ে থাকে, তাহলে এত হৈ চৈ কেন? আমি সে ধরনের সংস্কৃতি গুলোই চর্চা করে যাব এবং করে যেতে চাই। আর এটাই হোক আমার সাংস্কৃতিক জীবন এবং এটাই হওয়া চাই আমার সাংস্কৃতিক অংগন। মূলত আমি তা-ই করছি। সুতরাং এ সংস্কৃতির একজন কর্মী হওয়াটাও আমার জন্য কম প্রাপ্তি বলে মনে করি না!!

প্রতিটি মানুষের মনে রাখা দরকার, লেখালেখি করা, সাংবাদিকতা করা, গান চর্চা করা এবং বিনোদন মূলক এরকম যত কিছু আছে সবই কিন্তু সংস্কৃতি। আর সে সংস্কৃতির কাজটা যদি ভাল চিন্তার মধ্য দিয়ে হয়ে উঠে, সেটিতে যদি মানুষের কল্যাণ থাকে, সামাজিক মূল্যবোধের কোন ক্ষতি না হয়ে থাকে, তবে সেটিই সুস্থ সংস্কৃতি। আমি সে সংস্কৃতি ধারণ ও লালন করার জন্য কাউকে উদ্বুদ্ধ করতেও কার্পন্য করার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।

আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি #শব্দনোঙরের পরিচালক, বিশিষ্ট কন্ঠশিল্পী Hasan Jahangir ভাইয়াকে, মঞ্চ উপস্থাপনার “আইকন” খ্যাত #শব্দনোঙরের নির্বাহী পরিচালক‪#‎দিলরুবা_খানম‬ আপুকে এ অংগনে নবীনদের জায়গা করে দেয়ার জন্য।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন