আজ শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮ ইং, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



মেঘনার ভাঙনে সন্দ্বীপের কালাপানিয়া হুমকির মুখে তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

Published on 23 September 2015 | 2: 42 pm

ভাঙনকবলিত সন্দ্বীপের কালাপানিয়া ইউনিয়নের চৌধুরী বাড়ির পাশে মেঘনা পাড়ে দেখা সরকারি কর্মচারী আব্দুস সাত্তারের সাথে। তিনি এসেছেন শেষ বারের মত তার মায়ের কবর জেয়ারতে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন, ‘সর্বনাশী মেঘনা শুধু আমাদের সহায়–সম্পদ কেড়ে নেয় না, মা–বাবার কবর জেয়ারতের সুযোগ থেকেও নিষ্ঠুরভাবে বঞ্চিত করে।

রাক্ষসী মেঘনার করাল গ্রাসে সন্দ্বীপের পশ্চিম উত্তরাংশে ভাঙন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কোমেন ও অতি জোয়ারের প্রভাবে এ ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। গত দু মাসের ভাঙনে গৃহহারা হয়েছে কালাপানিয়া ইউনিয়নের ২০০টি পরিবার। সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে গেছে ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড।

ভাঙনের হুমকির মুখে ঐতিহ্যবাহী টনাশাহ দীঘি সহ এখানকার ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া কাজ শেষ না হতেই মেঘনার গ্রাসের মুখে পড়েছে ত্রাণ ও পূনর্বাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মান একটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, প্রায় ৪০০ বছর পূর্বে মোঘল আমলে তাজমহলের আদলে নির্মিত চৌধুরী বাড়ির মসজিদের শেষ চিহ্নটুকুও বিলীন হয়ে গেছে।

ভাঙনের ঐতিহ্যবাহী টনাশাহ দীঘি। দীঘির পাশেই ভাঙনের অপেক্ষায় দক্ষিণ কালাপানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চৌধুরী বিদ্যানিকেতন, দ্বীনি প্রতিষ্ঠান হেদায়েতুল ইসলাম মাদ্রাসা এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয় কর্তৃক ১ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মান ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রটি। উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ১৫০০ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। মেঘনার ভাঙনে এ সমস্ত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চৌধুরী বিদ্যা নিকেতনের একমাত্র টিনশেড ভবনটি জোয়ারের পানিতে সয়লাব হয়ে পাঠদানে অনুপুযুক্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানান, ‘‘পাঠদান পরিবেশ না থাকায় অনুমতি নিয়ে পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনে কোনমতে ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছি। নব নির্মিত সাইক্লোন শেল্টারটি বুঝে নেয়ার আগেই বোধ হয় মেঘনা গ্রাস করে নিবে’’।

কালাপানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান– ৫০০ ছাত্রণ্ডছাত্রী সম্বলিত স্কুলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত আছি। কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি।

ভাঙনের মুখে প্রতিদিন বাড়ছে গৃহহারা মানুষের সংখ্যা। ঘর–বাড়ি সহায়–সম্পদ হারিয়ে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ দিকে জোয়ার ভাটার তাণ্ডবে মেঘনা চ্যানেলের অদূরে নির্মিত দূর্বল বেড়িবাঁধটি আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ঘূর্ণিঝড় কিংবা উচ্চ জোয়ারের প্রভাবে সৃষ্ঠ জলোচ্ছ্বাসে অনায়াসেই বাঁধটি লন্ডভন্ড হয়ে হাজার হাজার মানুষের জীবন বিপন্ন করে তোলার আশংকা করছে এলাকাবাসী।


Advertisement

আরও পড়ুন