আজ শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



গোয়েন্দা কর্মকর্তার ইয়াবা ব্যবসা

Published on 05 April 2016 | 5: 54 am

গোয়েন্দা তথ্য ছিল- পুরান ঢাকার হাজারীবাগের একটি বাসায় ইয়াবার চালান হাতবদল হবে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাসার আশপাশ এলাকায় অবস্থান নেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুুলিশের (ডিবি) একটি দল। পরে যা বেরিয়ে এলো তাতে বিস্মিত গোয়েন্দারাও। খোদ পুলিশের এসআই বরকত উল্লাহর বাসায় ইয়াবার চালান হাতবদল হচ্ছিল। তিনি সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ থেকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটে বদলি হন। এরপর রাজধানীর হাজারীবাগে বরকতের বাসা থেকে তিন হাজার পিস ইয়াবা ও ১৬ লাখ টাকা জব্দ করে ডিবি। হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় দুই ইয়াবা ব্যবসায়ী সেতারা বেগম ও আজিজুর রহমানকে। এ ঘটনায় এরই মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তা বরকতসহ তিনজনকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। গত রোববার তাদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হলেও গতকালই বিষয়টি জানা গেল।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (পূর্ব) মাহবুব আলম গতকাল বলেন, মাদক ব্যবসা রুখতে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হাজারীবাগে অভিযান চালাতে যায় ডিবি পুলিশ। এর পর বরকতসহ দুই ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করে রিমান্ডে নেওয়া হয়। বরকত নিজে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। ১৬ লাখ টাকার ব্যাপারে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। তিনি বর্তমানে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটে কর্মরত।

জানা গেছে, গোয়েন্দাদের কাছে আগাম খবর ছিল, কক্সবাজার থেকে সেতারা বেগম ও আজিজুর রহমান নামে দুই ইয়াবা ব্যবসায়ী একটি চালান নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তারা পুরান ঢাকার হাজারীবাগের একটি বাসায় বসে চালানটি হাতবদলের চেষ্টা করছেন। এমন তথ্য পেয়ে ডিবির দল তাদের আটকের চেষ্টা করে। সেতারা ও আজিজুর রহমানের সূত্র ধরে ডিবি এসআই বরকতের বাসার সন্ধান পায়। দুই ইয়াবা ব্যবসায়ীর চালানটি বরকতের কাছে দেওয়ার কথা ছিল। এর আগেই গোয়েন্দা পুলিশ তাদের আটক করে ফেলে। ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত থাকার ঘটনায় এরই মধ্যে বরকতের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, মাদক ব্যবসায় পুলিশের কোনো সদস্য জড়িত থাকলে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে কড়া নির্দেশনা রয়েছে। এ ঘটনায় বরকতের সঙ্গে আর কোনো মাদক ব্যবসায়ীর যোগসাজশ রয়েছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যারা এর সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া গ্রেফতার হওয়া দুই মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা থাকলে তাদেরও দ্রুত নেওয়া হবে আইনের আওতায়।

দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ আছে, সীমান্ত হয়ে কক্সবাজার থেকে ইয়াবার বড় বড় চালান ঢাকায় ঢুকছে। বিভিন্ন সময় মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আটক করা হয়। গত বছরের ২০ জুন ফেনীর লালপোল এলাকায় এলিয়ন গাড়িসহ এসবির এএসআই মাহফুজুর রহমান ৭ লাখ ইয়াবা নিয়ে আটক হন। ২০১৪ সালে দারুস সালাম থানার কনস্টেবল কামরুল হাসানকে ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। হাত বাড়ালেই মুড়ি-মুড়কির মতো মিলছে ইয়াবা। রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামে তা ছড়িয়ে পড়ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে শুরু করে অসাধু রাজনৈতিক নেতারাও এই চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এমনকি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অসাধু কিছু কর্মকর্তাও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন