আজ রবিবার, ১৯ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০৪ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



চট্টগ্রাম বন্দরে আটক চার কার্টনে পৌনে ৩ কোটি ভারতীয় রুপি # সিএন্ডএফ এজেন্টসহ ৬ জন আটক

Published on 22 September 2015 | 4: 29 am

এদিকে, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য জিনিষ ঘোষণা দিয়ে দুবাই থেকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কনটেইনারভর্তি ভারতীয় মুদ্রা আনার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ ৬ জনকে আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর ও তদন্ত বিভাগ। এরা হলেন, সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান ফ্লাশ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান মো. শামীমুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আসাদুল্লাহ, ব্যবসায়ীক অংশীদার আহমদ উল্লাহ তালুকদার, গাড়িচালক মো. কাউসার, চালান প্রেরণকারী শাহেদুজ্জামানের ছোট ভাই তৌহিদুল আলম ও কাস্টমসের এমএলএস শেখ সাবের।
রবিবার মধ্যরাতের পর থেকে গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত নগরীতে অভিযান চালিয়ে এ ছয়জনকে আটক করা হয়।
সন্ধ্যায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মঈনুল খান জানান, জব্দ কনটেইনারের চার কার্টনের মুদ্রা গণনা করে ২ কোটি ৭১ লাখ ৭৬ হাজার ৫০০ ভারতয়ি রুপি পাওয়া গেছে। তবে এসব রুপি আসল না জাল তা শনাক্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় রুপিতে যে ২৯ টি চিহ্ন থাকে জব্দ রুপিগুলোর মধ্যে সেসব চিহ্নের ২৭টি মিললেও ২টি অমিল রয়েছে। এ কারণে উদ্ধারকৃত রুপিগুলো জাল হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি।
প্রাথমিক তদন্তে ভারতীয় রুপিগুলো জাল প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে শুল্ক গোয়েন্দার মহাপরিচালক ড. মঈনুল খান বলেন, বিপুল পরিমাণ ভারতীয় রুপি কেন আনা হয়েছে, এর সঙ্গে কারা জড়িত তা আমরা খতিয়ে দেখবো।
ডিজি ড. মঈনুল খান আরও বলেন, অতীতেও আমরা বিভিন্ন স্থান থেকে ভারতীয় মুদ্রা উদ্ধার করেছি, যেগুলো শেষ পর্যন্ত জাল প্রমাণিত হয়েছিল। তাই আটক ভারতীয় মুদ্রাগুলোও জাল বলেই আমাদের ধারণা। তিনি বলেন, তারপরও মেশিনে মুদ্রাগুলো পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা নেয়া হবে। এর পরই এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারবো।
জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী আসল-নকল মুদ্রা শনাক্ত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জোদ্দার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে রুপি গণনা স্থলে হাজির হন। তিনি জানান, রুপি শনাক্তকরণ প্রযুক্তি আপাতত বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নেই। তবে আমরা অন্যান্য বিশ্বস্ত সংস্থার মাধ্যমে পরীক্ষা করে তা নিশ্চিত করব। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মুদ্রাগুলো প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে জমা হবে।
এদিকে, ভারতীয় মুদ্রা আনার ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে সিএন্ডএফ এজেন্ট মালিকসহ মোট ৬ জনকে আটক করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান মঈনুল খান জানান, সম্পৃক্ত অন্যদেরও আটকের চেষ্টা চলছে। অভিযান চলছে।
রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বন্দরের ৮ নম্বর ইয়ার্ডে দুবাই থেকে কলম্বো হয়ে মনরুভিয়ার পতাকাবাহী ‘প্রোসপা’ নামের একটি জাহাজে করে আসা একই মালিকের চারটি কনটেইনারের মধ্যে একটি কনটেইনার জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। রাতে কনটেইনার থাকা ১৬৫টি কার্টনের মধ্যে ৪টি কার্টন খোলা হয়। সেগুলোর একটি এক হাজার ও ৫শ রুপি সমমানের ভারতীয় মুদ্রা পাওয়া যায়। এরপর কার্টনগুলো সিলগালা করে রাখা হয়। গতকাল দুপুরে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের উপস্থিতিতে কনটেইনারে থাকা চারটি কার্টন খুলে গণনা শুরু হয়। দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত গণনাশেষে ২ কোটি ৭১ লাখ ৭৬ হাজার ৫শ রুপি পাওয়া যায়। চট্টগ্রামের হাটহাজারীর বাসিন্দা শাহেদুজ্জামান নামের এক দুবাই প্রবাসী ব্যক্তিগত ব্যবহার্য পণ্য ঘোষণা দিয়ে চালানটি চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন।
শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাগণ জানান, দুবাইয়ের জাবেল আলী বন্দর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর চালানটি শিপমেন্ট হয়ে ট্রানজিটের জন্য কলম্বো বন্দর পৌঁছে। সেখান থেকে চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে ১৬ সেপ্টেম্বর। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার ওই চালানের একটি কনটেইনার আটক করা হয়। শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের ডিজি মঈনুল খান রবিবার রাতে প্রেসব্রিফিংয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আলোচ্য কনটেইনারের অবশিষ্ট কার্টনগুলোতেও ভারতীয় মুদ্রা থাকতে পারে। তবে চারটি কার্টনের গণনার পর অবশিষ্ট ১৬১টি কার্টন খুলে পরীক্ষা করা হবে কিনা, সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, আটককৃত ৬ জনকে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ৮ নং জেটিতে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। কিন্তু রাত সাড়ে ১১টায় এ খবর লেখা পর্যন্ত আটককৃতদের থানায় হস্তান্তর করা হয়নি বলে জানান বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন