আজ বৃহঃপতিবার, ২১ জুন ২০১৮ ইং, ০৭ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ।। উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি ছাত্রলীগের একাংশের

Published on 31 March 2016 | 4: 22 am

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নিয়ন্ত্রিত প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্যের ‘পদত্যাগ’ দাবি করেছেন মেয়র আ..ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী ছাত্রলীগ নেতারা। এসময় তারা নগর ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়টির এমবিএ শেষ বর্ষের ছাত্র নাছিম আহমেদ সোহেল হত্যাকাণ্ডে উপাচার্যের ‘নিরব সম্মতি’ আছে বলেও দাবি করেন। গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব দাবি করেন। ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মহানগর ও আওতাধীন কলেজসমূহ’ ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নগর ছাত্রলীগের সহসভাপতি মিথুন মল্লিক।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্য অনুষদের বিদায় অনুষ্ঠানের কর্তৃত্ব নিয়ে সৃষ্ট ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নাছিম আহমেদ সোহেল নিহত হন। এ হত্যাকেণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার এবং প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগ দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অনতিবিলম্বে উপাচার্যের পদত্যাগ এবং হত্যাকারীদের তিন দিনের মধ্যে গ্রেফতার করা না হলে আগামী ৩ এপ্রিল থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ৪ দিনব্যাপি কর্মসূচি পালনেরও ঘোষণা দেন। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে৩ এপ্রিল সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সমাবেশ, ৫ এপ্রিল ছাত্র ধর্মঘট, ৬ এপ্রিল পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে অবস্থান ধর্মঘট এবং ৭ এপ্রিল থেকে উপাচার্যের অফিস অবরোধ (পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অবস্থান )

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে নাছিম আহমেদ সোহেলকে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি’র নিরব সম্মতি আছে বলে প্রতীয়মান হয়। সোহেল ইতোপূর্বে চকবাজার থানায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে জিডি করেছিলেন। এছাড়া তার উপর হামলা হওয়ার সম্ভাবনার কথাও ভিসিকে জানিয়েছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, নাছিম আহমেদ সোহেল প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র হিসাবে তার উপর হামলা হওয়ার পরেও তাকে রক্ষা করার জন্য ভিসিসহ কোন শিক্ষক তার পাশে এসে দাঁড়ায়নি। এমনকি মর্গে লাশ দেখতেও যাননি। জানাজার নামাজেও অংশগ্রহণ করেননি। লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, বর্তমান ভিসি সকলের শ্রদ্ধেয় হলেও তার বয়সের কারণে কার্যক্ষমতা হারিয়েছেন এবং একটি চক্র দ্বারা তিনি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছেন। ইতোমধ্যে ভিডিও ফুটেজ দেখে সকল অপরাধীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যে সকল হত্যাকারী সোহেলকে হত্যা করেছে তারা গত ৪৫ দিন ধরে ভিসির সাথে বৈঠকও করেছিলো। কি কারণে এই হত্যাকারীরা ভিসির সাথে বৈঠক করে তা এই হত্যাকাণ্ডের পর প্রতীয়মান হয় যে, হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণের বৈঠক ছিল।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সুপ্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো প্রোভিসি, রেজিস্ট্রার, ট্রেজারার নেই। উপাচার্যের খেয়াল খুশি মোতাবেক এবং বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাস করার জন্য যে চক্রটি নিজের সম্পত্তি বলে আদালতে মামলা করেছেন সে চক্রের সঙ্গে প্রতিনিয়ত বৈঠক ও ষড়যন্ত্রে নিয়োজিত থাকেন। এ সময় সাংবাদিকদের ‘ওই চক্রটি কারা এবং সোহেল কি ওই চক্রের বিপরীত পক্ষের হয়ে কাজ করতেন? ’ এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান নগর ছাত্রলীগের সহসভাপতি মিথুন মল্লিক। অপর এক প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভিসি অভিভাবক। তিনি লাশ দেখতে যান নি। অন্য শিক্ষকরাও যাননি। সবকিছু মিলিয়ে বোঝা যায় হত্যাকাণ্ডে ভিসি জড়িত।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত, ফয়সাল বাপ্পী ও হেলাল উদ্দিন আহমেদ, নগর ছাত্রলীগের সহ সভাপতি রেজওয়ান রণি, মহিউদ্দিন মাহি ও সারোয়ার উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাঈনুর রহমান মঈন, ওয়াহেদ রাসেল এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নুর মোহাম্মদ নাজমুল।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন