আজ বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৩ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



গাজীপুরের আতঙ্ক ‘লাদেন’ মামুন

Published on 29 March 2016 | 3: 52 am

দেশের যে কোনো সাধারণ মানুষের মতোই পোশাক তার। বাড়তি বলতে গায়ের একটা আলখেল্লা। তবে চলাফেরা করেন বিলাসবহুল পাজেরো গাড়িতে (ঢাকা মেট্রো ঘ ১৩-০১০১) করে। গাড়ির সামনে-পেছনে থাকে ৪০-৫০ জনের মোটরসাইকেলের বহর। আপনাআপনিই বুঝে নেয় লোকজন- আসছেন ‘লাদেন মামুন’। সতর্ক হয়ে যান তারা। অথচ ‘জনগণের ভোটে’ই গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। কাউন্সিলর ‘নির্বাচিত’ হওয়ার আগে ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। কাগজে-কলমে তার নাম আবদুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল। এমন একজন ‘রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের’ নামে জয়দেবপুরসহ আশপাশের কয়েকটি থানায় রয়েছে খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৩১ মামলা! অথচ নগরের রাস্তাঘাটের বিভিন্ন পোস্টার-ব্যানারে শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশের মহাপরিদর্শকের পাশাপাশি তার ছবিও শোভা পাচ্ছে। গত শনি ও রোববার গাজীপুরের রাস্তাঘাটে ঘুরে দেখা গেল সেসব ছবি, অনুসন্ধান করে জানা গেল তার বিভিন্ন ‘কীর্তি’।

কাউন্সিলর মামুন মণ্ডলের বা জনকথিত এই ‘লাদেন মামুন বাহিনী’তে রয়েছেন শফিকুল ইসলাম খান, এস এম ইউসুফ, শহিদুল ইসলাম মণ্ডল, জামাল খান, সোহরাব হোসেন, আবু রায়হান বাবু, মো. লুৎফর, সোহাগ, রকিবুল আলম রক্কুসহ অস্ত্রধারী অর্ধশত ক্যাডার। সাধারণ লোকের বক্তব্য, ‘এরা মামুনের নির্দেশ পাওয়ার পরপরই হামলে পড়ে, সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজি তো মামুলি ব্যাপার- খুন করতেও ভয় পায় না।’ ৩১টি মামলার কারণে এবং গ্রেফতার এড়াতে মামুন এখন প্রকাশ্যে না এলেও ছদ্মবেশে প্রায়ই এলাকায় আসেন বলে জানান তারা। মামুন মণ্ডলের বাবা মোমতাজ উদ্দিন ছিলেন গাজীপুরের সাইনবোর্ড এলাকার এলিট আয়রন স্টিল মিলের প্যাকিং শ্রমিক। কিন্তু কাউন্সিলর হওয়ার পর মামুন মণ্ডল প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। গাজীপুরের বোর্ডবাজার, ভূসির মিল, হাজীর পুকুর, সাইনবোর্ড, মালেকের বাড়িসহ মহানগরের লক্ষাধিক মানুষ তার কাছে জিম্মি।

এ প্রসঙ্গে জয়দেবপুর থানার ওসি মো. রেজাউল করিম রেজা সমকালকে বলেন, ‘মামুন মণ্ডল একাধিক মামলার আসামি। তিনি এখন পলাতক আছেন। তাকে গ্রেফতার করতে আমাদের পুলিশ কাজ করছে।’ একাধিক মামলার আসামি কীভাবে পুলিশের আইজিপির সঙ্গে ছবি তুলে পোস্টারিং করে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমরা পোস্টার-ব্যানার তুলে ফেলেছি। হয়তো অনেক স্থান থেকে তুলতে পারিনি। অচিরেই সব তুলে ফেলা হবে।’

কারখানায় ১০ লাখ টাকা দাবি: মহানগরের কামারজুরী এম স্কয়ার সোয়েটার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মনির হোসেন বললেন, তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিলেন কাউন্সিলর মামুন। সেই টাকা না দেওয়ায় গত ২০ ফেব্রুয়ারি তার কারখানায় হামলা চালিয়ে মেশিনপত্র ভাংচুর করা হয়, নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করা হয়। মনির হোসেন ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘এ কারখানায় চারশর বেশি শ্রমিক কাজ করছে। কিন্তু চাঁদা না দিলে নাকি কারখানা বন্ধ করে দেবে! মামুনের ভয়ে খুবই আতঙ্কে আছি আমরা। বাধ্য হয়ে থানায় চাঁদাবাজির মামলাও করেছি।’

বাজার বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি: কামারজুরী এলাকায় একটি কাঁচাবাজার তৈরি করে পরিচালনা করছেন মাওলানা আবুল কাশেম রহমানীর ছেলে শামীমুল আলম মুন্সী। তার কাছ থেকে কাউন্সিলর মামুনের বাহিনী চাঁদা দাবি করে তিন লাখ টাকা। শামীমুল আলমকে মামুন জানান, দাবি করা টাকা না দিলে বাজার বন্ধ করে দেওয়া হবে। শামীমুল চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মামুন মণ্ডল ও তার লোকজন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাজারের ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা করে। দোকানপাট ভাংচুরের পাশাপাশি লুটপাট করে তারা। ওই ঘটনায় শামীমুল আলম মুন্সী বাদী হয়ে মামুনকে প্রধান আসামি করে থানায় মামলা করেন।

হত্যাকারীর বিচার চান রানার বাবা: এলাকায় ইট-বালু সরবরাহের ব্যবসা করতেন ওঝাড়পাড়ার মুক্তিযোদ্ধা হাজি গিয়াসউদ্দিন মিয়ার ছেলে জেলা ছাত্রলীগের সদস্য সাজেদুল মোনায়েম রানা। মামুন মণ্ডল ও তার সহযোগীরা ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর ভোগড়া বাজারে হামলা চালিয়ে নির্মমভাবে খুন করে তাকে। এ ঘটনায় মামুনকে প্রধান আসামি করে থানায় মামলা করেন রানার বাবা গিয়াসউদ্দিন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে ছাত্রলীগের রাজনীতি করত। অথচ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাকেই খুন হতে হলো! যারা তাকে খুন করল, সেই সন্ত্রাসী মামুন মণ্ডল ও তার সহযোগীদের মহানগরের শীর্ষ একজন আওয়ামী লীগ নেতা প্রশ্রয় দিচ্ছে; সহযোগিতা করছে। বিচার কি আমি পাব, বলেন? বাবা, জীবিত অবস্থায় আমি আমার পোলা হত্যার বিচার দেখতে চাই।’

কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা: জয়দেবপুরের ইছর এলাকার আবুল কালামের ছেলে জহির রায়হানসহ স্থানীয় সোহাগ রানা, জাহিদুল হাসান ও রাকিবকে রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে এবং চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে মামুন মণ্ডল ও তার সহযোগীরা। ওই ঘটনায় জহির রায়হান বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে জহির রায়হান বলেন, ‘আমাদের যেভাবে মামুনের লোকজন কুপিয়েছিল, স্থানীয় লোকজন এগিয়ে না এলে আমাদের মৃত্যু ছাড়া পথ ছিল না। কেউ ওদের বিরুদ্ধে ভয়ে মুখ খুলতেও চায় না।’ কলমেশ্বর এলাকার আফসার উদ্দিনের ছেলে বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘গত বছর পহেলা বৈশাখে আনন্দ মিছিল করার সময় আবদুর রহমানের ছেলে মো. বাবু ও সামসু মিয়ার ছেলে ইসমাইল হোসেনকেও মামুন মণ্ডলের লোকজন কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। ওই ঘটনায় মামুনকে প্রধান আসামি করে জয়দেবপুর থানায় আমি বাদী হয়ে মামলা করি। মামলার পর থেকে আমাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে মামুন ও তার লোকজন।’

পুলিশের ওপরেও হামলা: জয়দেবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সিরাজ উদ দৌলাসহ পুলিশের একটি দল চৌরাস্তা থেকে বোর্ডবাজার পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের সময় কামারজুরী এলাকায় মামুন মণ্ডল ও তার সহযোগীদের হামলার শিকার হয়। মামুন বাহিনী রামদা, চাপাতি, বল্লমসহ দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে এসআই সিরাজ উদ দৌলাসহ কনস্টেবল নূরে আলম, লিটন মাহমুদ ও পুলিশের গাড়ির চালক সারোয়ার হোসেনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। ওই ঘটনায় এসআই সিরাজ বাদী হয়ে মামুন মণ্ডলকে প্রধান আসামি করে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন।

ধর্ষিত হয়ে নারীরা এলাকা ছাড়েন: মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার নাসিমা বেগম (ছদ্মনাম)। বাদে কলমেশ্বর এলাকার একটি শিল্প-কারখানায় লিংকিং অপারেটর হিসেবে চাকরি করতেন তিনি। গাজীপুর মহানগরের কামারজুরী এলাকার সামসুল হকের বাসায় ভাড়া থাকতেন তিনি। ২০০৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর কারখানা থেকে ছুটির পর বাসায় পথে কামারজুরীর খালপাড় ব্রিজের সামনে আবদুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল ও তার সহযোগীরা জোর করে ধরে নিয়ে ধর্ষণ করে। নাসিমা বেগম বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামুনকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন। কামারজুরী এলাকার বাসিন্দারা বলেন, ‘ওই ঘটনার পর মেয়েটিকে মামুন ও তার সন্ত্রাসীরা নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকাছাড়া করে।’ মামুন ও তার সহযোগীদের ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এলাকার বিভিন্ন শিল্প-কারখানার অনেক নারী শ্রমিক। অনেকেই মুখ বুজে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।

সহযোগী কাউন্সিলরের ওপর হামলা: গত ফেব্রুয়ারি মাসে কামারজুরী মা ও শিশু হাসপাতালের পশ্চিম পাশে ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডেরই অপর কাউন্সিলর ছানোয়ার হোসেনকে গুলি ও কুপিয়ে আহত করে মামুন বাহিনী। এই কাউন্সিলর সমকালকে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘মামুন ও তার সন্ত্রাসীরা আমার পায়ে ও হাতে গুলি করে। ওই ঘটনায় আমাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় এবং চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় আমার ওপর হামলা করে মামুন। অল্পের জন্য বেঁচে গেছি আমি। থানায় মামলাও করেছি। মামুন এখন পুলিশের গ্রেফতারের ভয়ে প্রকাশ্যে না এলেও নানাভাবে ভয় দেখাচ্ছে।’

সরেজমিন অনুসন্ধান: শনিবার দুপুর ১২টা। মহানগরের বোর্ডবাজারে কাঁচাবাজারে দক্ষিণ পাশ। মামুন মণ্ডল কেমন মানুষ- তা জানতে চাওয়া হয় সাইনবোর্ড এলাকার একজন বাসিন্দার কাছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ব্যানারে দেখেন, কেমন সাধারণ মানুষ। দেখলেই মনে হয়, আমার মতোই তো! কিন্তু হের কথায় আমাগো এলাকার মানুষ তিনবার পানি খায়।’

সাইনবোর্ড এলাকার বাসিন্দারা জানান, গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতি করে’ কাউন্সিলর হওয়ার পর থেকে মামুন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। অবশ্য ভোটের আগেই তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ডের বখাটে যুবক, মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ে বাহিনী গড়ে তুলতে শুরু করেন। নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়ার পর এই বাহিনী আরও সম্প্রসারিত ও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। এলাকার প্রতিটি শিল্প-কারখানায় চাঁদাবাজি করছেন। গ্যাস সংযোগ থেকে শুরু করে প্রতিটি কাজেই চাঁদা দিতে হয় তাকে। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে কুপিয়ে-পিটিয়ে আহত করা হয়। জয়দেবপুর থানার পুলিশ থেকে শুরু করে কাউন্সিলর, ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরাও তার বাহিনীর নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গাজীপুর মহানগরের একজন শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতার ছত্রছায়ায় একের পর এক অপকর্ম করে যাচ্ছেন তিনি। পোস্টারে পুলিশের মহাপরিদর্শক শহীদুল হকের সঙ্গে মামুনের ছবিও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে এলাকাবাসীকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘এলাকার সাধারণ মানুষের ভোটে মামুনের মতো একজন সন্ত্রাসী কখনও কাউন্সিলর হতে পারে না। মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ একজন নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়ে কয়েকশ’ সন্ত্রাসী ভোটকেন্দ্র দখল করে তাকে এলাকার কাউন্সিলর নির্বাচিত করেছে।’ বাদে কলমেশ্বর মহল্লার সত্তরোর্ধ্ব একজন বাসিন্দা ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘মামুনের বাপ মোমতা (মোমতাজ উদ্দিন) ছিল স্টিল মিলের প্যাকিং শ্রমিক। এখন হে পোলায় জোর কইর‌্যা এলাকার মাতবর হইছে।’

আওয়ামী লীগের বক্তব্য: গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মামুন মণ্ডল গাজীপুর মহানগরের মানুষের জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে। তবু তার ভয়ে কেউ মুখ খোলে না। যুবলীগ-ছাত্রলীগসহ দলের নেতাকর্মীরাও তার নির্যাতনের শিকার। প্রশাসনের উচিত তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা। সে বাইরে থাকার মানে সাধারণ মানুষের ঘুম নষ্ট হওয়া।’

মামুনের বাবার বক্তব্য: অভিযোগ প্রসঙ্গে ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল্লাহ আল মামুন মণ্ডলের বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে মামুনের বাবা মোমতাজ উদ্দিনের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে মামলার কারণে এখন পলাতক রয়েছে। পুলিশের ভয়ে এলাকায় এখন আসে না।’ মামুন কয়টি মামলার আসামি- এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘পুরনো মামলার খবর আমি এখন জানি না, তয় নতুন কইরা ছয়টা মামলা হইছে।’ ‘ধর্ষণ থেকে শুরু হত্যা মামলাও আছে আপনার ছেলের বিরুদ্ধে’- এর জবাবে তিনি বলেন, ‘ধর্ষণ মামলা আছে কি-না, জানি না। তবে আমার ছেলের শত্রুরা ষড়যন্ত্র কইরা তার বিরুদ্ধে এইসব মামলা দিতাছে।’


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন