আজ বুধবার, ১৫ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



২০০৮ সালের এমপি মানেই তো জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা সেই এমপি

Published on 20 March 2016 | 6: 51 pm

শাওন রকি

১৯ তারিখ কাউন্সিলের দিন।
খুব সকালে মনে হয় ৭ টার দিকে।
বেলায়েত দাদা বললো এমপি সাহেব আসছে হোটেলের নিচে।
আমরা সবাই হোটেলের তিন তলা থেকে দৌড়ে নিচে নামলাম। আমি সবার আগে নিচে যাইয়া
দেখলাম সেই মানুষটা কয়দিন আগে যেভাবে দেখছিলাম সেই হাফ হাতা গেঞ্জি পড়া মানুষ টা সাদা একটা পাঞ্জাবি পড়া দাঁড়িয়ে আছে কুয়েত যুবদলের সভাপতি মাহফুজ ভাই সহ কয়েকজনের সাথে।
দেখে মনে হচ্ছে খুব কষ্টে আছে শরীরের দুর্বলতার কারনে, খুব অসুস্থ দাঁড়াতে কষ্ট হচ্ছে, হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে।
চিন্তা করলাম এই মানুষটা তিন তলায় উঠবে কি ভাবে। ওনি উঠতে পারবে না আমি শিউর। না আমার ভাবনার ভুল করে যখন সবাইকে দেখলো মনে হচ্ছিলো ওনার মনের একটা শক্তি কাজ করতেছে। খুব স্বাভাবিক ভাবে সবার সাথে হ্যান্ডশেক করলো। আসতে কোন সমস্যা হলো কিনা এইসব খোঁজ খবর নেওয়ার পর একসাথে সবাইকে নিয়ে তিন তলা উঠতে শুরু করলো। মানুষটা কে দেখে খুব খারাপ লাগতেছিলো, তৃনমূল নেতাকর্মীদের সাথে এখনো স্বাভাবিক স্বভাব সুলভ আচরন করে চলতেছে তার দলের জন্য, দলের নির্দেশ পালন করতে ঢাকায় কাউন্সিল অনুষ্ঠানে যোগ দিলো শরীরের চরম দুর্বলতা সত্বেও।

যথারিতি আমরা প্রস্তুত মিছিলের জন্য।
এমপি সাহেব আমাদের সাথে মিছিলে যোগ দিলো। একসাথে মিছিলে হাঁটার মত শক্তি একটুও নাই খুব কষ্ট হচ্ছিলো হাঁটতে তবুও পিছ পাও হয় নাই। আমাদের মত তরুন হয়ে পাশে পাশে হাঁটা শুরু করলো রাজপথের অকুতভয় জিয়ার সৈনিকদের মত।

উওর জেলা আমাদের সাথে যোগ দিলেও
ঢাকার বুকে শ্লোগান হচ্ছিলো…..
জিয়ার সৈনিক,
এক হও লড়াই করো…
সন্দ্বীপের মাটি
কামাল পাশার ঘাঁটি।
কামাল পাশা এগিয়ে চলো
আমরা আছি তোমার সাথে।

মিছিল শেষ হয় ইঞ্জিনিয়ার ইন্সটিটিউটের সামনে, হাজার হাজার লোক সমাগম এর কারনে কিছুটা এলোমেলো হয় যায় আমরা। এমপি সাহেব কে সবাই চতুর্দিক থেকে আমরা ঘিরে আমরা ফুল ফটকলে নিয়ে গেলাম মুল গেটে। প্রবেশ মুখে বাধা হাজার হাজার নেতাকর্মী মুল অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে মারামারি হাতাহাতি চলতেছিলো, কিভাবে সম্ভব এই অসুস্থ মানুষটা কে এতগুলো মানুষের ভিতর দিয়ে নিয়া যাওয়া। কিছুতেই সম্ভব না তবুও চেষ্টা চলছিলো সাধ্য মতে,
সিনিয়র নেতা কামাল পাশা এমপি সাহেব, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত দাদা, জাহাগীর ভাই, বাহাদুর ভাই, কাশেম স্যার, আকবর ভুইয়া ভাই, সুজন ভাই সহ ওদের মাঝখানে রেখে আমরা ছাত্রদলের কয়েকজন সামনে মনির ভাই, রাছেল, একরাম আজিম, টিপু, মনির সহ কয়েকজন সামনে থেকে ধাক্কা দিয়ে দিয়ে আগায়তেছে আর আমরা পিছন থেকে বিপুল, আজম, কাউছার সহ আগায়তেছি। মুল গেইট দিয়ে প্রবেশ করতে খুব ঝামেলা চলতেছিলো ডেলিকেট দের জন্য কাউন্সিলদের চিনতে পারতেছে না দায়িত্বরত শৃংখলা কমিটির ছেলেরা, এমপি সাহেব পড়ে যাচ্ছে, ভীড়ে খুব ক্লান্ত হয় গেছে, মেজাজ তো পুরাই গরম ধাক্কা দিয়া সামনে যাইয়া ওদের কইলাম ওই শালারা ২০০৮ সালের ৩২ এমপির এক এমপি আসছে, তিন তিন বারের এমপি, মানুষ চিনোস? ডুকতে দিবি নাকি গেইট ভাংগমু?
শৃংখলা কমিটির কয়েকজন শুনে বলে উঠলো কই ভাই কই আপনাদের এমপি? তাড়াতাড়ি আসেন ওনি আসবে না তো কে আসবে, ২০০৮ সালের এমপি মানেই তো জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা সেই এমপি।

এমপি সাহেব প্রবেশ করলো সিনিয়র নেতাকর্মীদের সাথে, সাথে আমরা ডেলিকেটরাও অবৈধ ভাবে প্রবেশ করে পেললাম। মুল মঞ্চের ঠিক সামনে ছাত্রদলের টিপু, রাছেল সহ কয়েকজন এমপি সাহেব কে বসায় দিয়ে আসলো। তারপর শান্তি আমাদের।

হ্যাঁ বলছিলাম এতক্ষন সন্দ্বীপ উপজেলা থেকে তিন তিন বার নির্বাচিত এমপি, সন্দ্বীপের মাটি ও মানুষের নেতা, সন্দ্বীপ বিএনপির কর্ণধার উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব মোস্তফা কামাল পাশা এমপি। যে মানুষ শরীরের অসুস্থতা কে ভুলে গিয়ে কাউন্সিল যোগ দিলো সন্দ্বীপের নেতাকর্মীদের সাথে।

আল্লাহ তাকে আমাদের মাঝে সবসময় রাখুক সুস্থ সবল করে ও মনের শক্তিকে টিকে থাকার মত করে। তৃণমূলের প্রাণের স্পন্দন এই মানুষ টা বেঁচে থাকুক বছরের পর বছর।

আল্লাহ তাকে সেই শক্তি দান করুক। আমীন


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন