আজ বৃহঃপতিবার, ২১ জুন ২০১৮ ইং, ০৭ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে রিট বাতিলের দাবিতে হাটহাজারীতে হেফাজতের শোডাউন

Published on 19 March 2016 | 6: 59 am

২৮ বছর আগের একটি রিট মামলা সচল করে বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ‘ইসলাম’ থাকবে কি থাকবে না এ বিষয়ে হাইকোর্টে শুনানি বাতিলের দাবিতে হাটহাজারীতে শোডাউন করেছে হেফাজতে ইসলাম। শুক্রবার সর্বস্তরের ধর্মপ্রিয় তৌহিদি জনতার ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হাটহাজারী ডাক বাংলো চত্বরে বিকেল তিনটায় শুরু হওয়া মিছিলপূর্ব সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতারাসহ স্থানীয় আরও বেশ কয়েকটি ইসলামি সংগঠনের নেতারা সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম বাতিলের জন্যে মামলা দায়েরসহ যেকোনো ষড়যন্ত্র ও উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ এবং ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়ে বক্তব্য দেন।

আসর নামাজের পর সমাবেশ শেষে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ডাক বাংলো চত্বর থেকে বের হয়ে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়ক, হাটহাজারী বাস স্ট্যান্ড, চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক ও কাছারী সড়ক হয়ে পুনরায় ডাক বাংলো চত্বরে এসে শেষ হয়।

হাটহাজারী পৌর হেফাজতের সভাপতি মাওলানা মীর ইদরিসের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব ও দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী। বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুঈনুদ্দীন রুহি, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদি, মুফতী ফখরুল ইসলাম-ঢাকা, মাওলানা আবু আহমদ, মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা আবু তৈয়ব আব্দুল্লাপুরী, মাওলানা কাজী সফি উল্লাহ, মুফতী শেহাব উদ্দীন, মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, মাওলানা হাবীবুল হক বাবু, আলহাজ্ব আব্দুর রহমান চৌধুরী, মাওলানা মাহমুদ হোসাইন, মাওলানা জাকারিয়া নোমান, মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ নোমানী, মাওলানা ইমরান সিকদার, সেলিম উদ্দীন রেজা, মাস্টার শফিউল আলম, এসএম ফারুক প্রমুখ। প্রতিবাদ সমাবেশ পরিচালনা করেন সর্বস্তরের ধর্মপ্রিয় তাওহিদি জনতা’র সমন্বয়ক মাওলানা কাজী সফি উল্লাহ ও মাওলানা কামরুল ইসলাম।

আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের ষড়যন্ত্র দেশবাসী বরদাস্ত করবে না। ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে কি থাকবে না, এ নিয়ে আদালতে মামলা ও শুনানি চলতে পারে না।

সরকারকেই এ মামলা বাতিলের জন্যে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে হেফাজত মহাসচিব বলেন, জনগণের মনের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। ইসলামের বিধি-বিধান ও মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে আদালত রুল বা আদেশ জারির এখতিয়ার রাখতে পারে না। রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে দেশবাসীর আকিদা-বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যদি কোনো রায় আসে, আল্লাহর কসম, সে দিন এদেশের সাড়ে চার লাখ মসজিদ থেকে কোটি কোটি মুসলমানের প্রতিবাদের দাবানল জ্বলে উঠে ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্তকে ছাড়খার করে দেবে।

তিনি বলেন, নাস্তিক্যবাদিরা বর্তমান ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের ঘাড়ে সাওয়ার হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, অর্থসম্পদ ও জনগণের ধর্মীয় আকিদা-বিশ্বাস লুটপাট ও ধ্বংস করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ইতিপূর্বে ৯২ ভাগ মুসলমানের এই দেশের সংবিধান থেকে মহান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসের ধারা মুছে দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ নীতি সংযোজন করা হয়েছে, বিসমিল্লাহর ভুল অর্থ সংবিধানে লেখা হয়েছে, জাতীয় শিক্ষানীতি থেকে ইসলামী নীতি-আদর্শ ও চেতনাবোধকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সংস্কৃতিসহ সর্বক্ষেত্রে এখন ইসলাম বিরোধিতা, মুসলমানদের হেয় করা এবং ইসলামি চেতনাবোধ মুছে ফেলার জোর অপতৎপরতা চলছে। বাংলাদেশের অর্থসম্পদ নিয়ে লুটপাট চলছে। ইমান-আক্বিদা ও ধর্মীয় আদর্শকেও লুটে নিয়ে নাস্তিক্যবাদ ও ভোগবাদিতা প্রতিষ্ঠা করার জোর ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। এটা কোনোভাবেই আর চলতে দেওয়া যায় না, চলতে দেওয়া হবে না।

হেফাজত মহাসচিব সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করুন, দেশের সম্পদের লুটপাট বন্ধ করুন এবং ধর্মের ওপর একের পর এক আঘাত দেওয়ার অপতৎপরতা থামান। অন্যথায় মানুষের ক্ষোভের দাবানল জ্বলে উঠলে ষড়যন্ত্রকারীদের কেউই পালানোর পথ খুঁজে পাবে না।

তিনি বলেন, বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখার পাশাপাশি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্য সব ধর্মাবলম্বীর মর্যাদা ও অধিকারের কথাও স্পষ্টভাবে লেখা হয়েছে। সুতরাং সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম বাতিলের অর্থই হচ্ছে সাংবিধানিকভাবে নাস্তিক্যবাদ প্রতিষ্ঠা। এই প্রতিবাদে অমুসলিমদেরও শামিল হওয়া চাই।

তিনি রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদেরকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগুন নিয়ে খেলা করবেন না। পুড়ে ছারখার হয়ে যাবেন।

হেফাজতের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা মুঈনুদ্দীন রুহি বলেন, দেশের শান্তিশৃঙ্খলার স্বার্থে এদেশের উলামা-মাশায়েখ ও তৌহিদি জনতা নাস্তিক্যবাদিদের নানা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ধৈর্যের সাথে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করে যাচ্ছেন। ষড়যন্ত্রকারীরা এটাকে দুর্বলতা বা নিষ্ক্রিয়তা ভাবলে চরম ভুল করবে।

সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদি বলেন, রাষ্ট্রধর্ম বাতিলের মতো কোন হঠকারি সিদ্ধান্ত কেউ নিতে চাইলে সে দিন বাংলাদেশের সকল মসজিদ থেকে কোটি কোটি মুসলমান রাস্তায় বেরিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের উচ্ছেদ করা ছাড়া ঘরে ফিরে যাবে না, ইনশাআল্লাহ।

মাওলানা মীর ইদরিস সরকারের প্রতি কোনো অদৃশ্য অপশক্তির চাপে নয়, বরং দেশের গণমানুষের প্রত্যাশা মতো রাষ্ট্র পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে  বলেন, হুমকি-ধমকি ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে মানুষকে চুপ রাখার নীতি পরিহার করে গণমানুষের মনের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করুন এবং দেশের বৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় মতাদর্শ নিয়ে নাস্তিক্যবাদিদের সকল ষড়যন্ত্র নস্যাত করুন।

সমাবেশে পরবর্তী কর্মসূচি কেন্দ্রীয় নেতারা সম্মিলিতভাবে পরামর্শের মাধ্যমে নির্ধারণ করে অল্পদিনের মধ্যেই সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন