আজ মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ ইং, ০২ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



ড. আতিউরের সংবাদ সম্মেলন বেলা ৩টায়

Published on 15 March 2016 | 8: 33 am

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ খোয়া যাওয়ার ঘটনায় গভর্নরের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন ড. আতিউর রহমান।

রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরে গভর্নর ভবনে মঙ্গলবার বেলা ৩টায় এ সংবাদ সম্মেলন হবে বলে সমকালকে জানিয়েছেন গভর্নর সচিবালয়ের মহাব্যবস্থাপক (চুক্তিভিত্তিক) এএসএম আসাদু্জ্জামান।

রিজার্ভের অর্থ খোয়া যাওয়া নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মুখে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগপত্র জমা দেন ড. আতিউর।

এর আগে সকালে গুলশানের বাসভবনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি চলে গেলে যদি দেশের ভালো হয় তবে আমি দায়িত্ব ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। আমি প্রধানমন্ত্রীর ডাকের অপেক্ষায় আছি। তিনি আমাকে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি যদি বলেন তাহলে যেকোনো মুহূর্তে পদত্যাগ করব।’

গতকাল (সোমবার) বিকেলে ভারত সফর শেষে দেশে ফিরেন ড. আতিউর রহমান; পরে রাতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে তার বাসায় গিয়ে দেখা করেন তিনি। সেখানে অর্থমন্ত্রী তাকে বলেছেন, তিনি সরে গেলে বাংলাদেশ ব্যাংক ভালো চলবে।

ফিলিপাইনের ডেইলি ইনকোয়েরারে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সে দেশে ১০ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। এ অর্থ বাংলাদেশের কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর ৭ মার্চ সমকালে এ বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করে হ্যাকাররা ফিলিপাইনে স্থানান্তর করে। এরপর থেকে এ নিয়ে দেশজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

তদন্তে জানা যায়, চুরির এ ঘটনা ঘটে গত ৪ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট বার্তা সিস্টেম হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে সঞ্চিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই অর্থ ফিলিপাইনের একটি ব্যাংকে সরিয়ে ফেলা হয়। শ্রীলংকার একটি ব্যাংকে আরও ২ কোটি ডলার সরানো হলেও পরে তা বাংলাদেশে ফেরত আসে।

রিজার্ভের টাকা খোয়া যাওয়ার ঘটনা কেন সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বতনদের জানানো হয়নি-এ প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের ড. আতিউর বলেন, ‘আমি যা করেছি দেশের স্বার্থে করেছি। এ বিষয়ে প্রথম দিকে আমার কাছে কিছু বিষয় অস্পষ্ট ছিল, তাই সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বতনদের জানানো হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, “আমার মনে হয়েছে, এটা জঙ্গি আক্রমণের মতো ঘটনা। এ ঘটনা কে বা কারা কেন করেছে প্রথমে তা কিছুই বুঝতে পারিনি। ঘটনার দু্‌ইদিন পর অর্থাৎ ৬ ফেব্রুয়ারি আমি যখন ঘটনাটা জানতে পারি তখন আমি ‘পাজলড’ হয়ে যাই। আর যাতে রিজার্ভ খোয়া না যায় সেজন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি।’

উল্লেখ্য, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান ২০০৯ সালের ১ মে চার বছর মেয়াদে বাংলাদেশ ব্যাংকের দশম গভর্নর হিসেবে যোগ দেন। পরে সরকার তার মেয়াদ বাড়ায়। আগামী ২ আগস্ট পর্যন্ত তার চাকরির মেয়াদ ছিল।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন