আজ শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ইং, ০৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



দ্বীপকন্যা : সুমাইয়া ইসলাম নাদিয়া

Published on 19 September 2015 | 2: 16 am

12002851_1492523931072256_3151526550715772726_n

দ্বীপকন্যা : সুমাইয়া ইসলাম নাদিয়া

—কে. এম. আজিজ উল্যাহ্
————————–—————–
স্রষ্টার সৃষ্টি তত্ত্ব কেউ বুঝিতে না পারে,
বড়ই বৈজ্ঞানিক কৌশলে নর-নারী সৃষ্টি করে।
একজন ছাড়া অন্যের চলা-ফেরা ভার,
তাদের যৌথ প্রচেস্টায় সংগঠিত কাজটিও বড় চমৎকার।
পুরুষ ফলায় ফসল, কেটে এনে রাখে উঠানে,
নারী মাড়ায়ে বাতাসে উড়ায়ে, রৌদ্র শুকায়ে, ঢেঁকিতে ভানে।
যৌথ কর্মের ফল, ভোগ করে সবাই পায় সুখ,
স্রষ্টার অপূর্ব কৌশলে সৃষ্টি হয় নব নব মুখ।
একজন পুরুষ যদি একজন নারীর সান্নিধ্য পেতে চায়,
বহু কাঠ-খড় পোড়ায়ে, অপেক্ষার শত প্রহর পেরিয়ে হয়ত তারে পায়।
উভয় পক্ষের অভিভাবকদের মাঝে হয় শত আলাপন,
দীর্ঘ আলোচনায় যদি উভয়ের তুষ্ট হয় মন।
শত গন্য-মান্য ব্যক্তিবর্গের বৈঠক বসে,
হাসি-আনন্দের মধ্য দিয়ে বিয়ের দিন ধার্য হয় শেষে।
আলোর ফুলঝুড়ি ছড়িয়ে, হাজার লোক খাওয়ায়ে হয় বিয়ে সমাধান,
ইহাই বিধাতার দেওয়া নির্দেশিকা জীবনের সংববিধান।

প্রিয় দেশবাসী, এখন কি হচ্ছে? বাড়ী হতে গেল স্কুলে,
মেধাবী কিশোরিটি পথ থেকে হারিয়ে গেল, সে কি গেল পথ ভুলে?
পরের দিন তার লাশ পাওয়া গেল, সেই সুন্দর নিথর দেহ,
নর ঘাতকেরা তাকে পৃথিবীতে বাঁচতে দিল না কেন?
কেন এ পৈশাচিকতা? কি অপরাধ ছিল তার?
দুর্বৃত্তরা কেন তছনছ করে দিল তার মায়ের সংসার?

মা চেয়েছিলেন তাকে সু-নাগরিক রূপে গড়তে,
মা চেয়েছিলেন তাকে সু-পাত্রে পাত্রস্থ করতে।
মায়ের চাওয়া-পাওয়ার উপর কারা করল কুঠারাঘাত?
প্রশাসন কি পারে না ভেঙ্গে দিতে কুচক্রীদের কালো হাত?

সুমাইয়া ইসলাম নাদিয়া আমার দ্বীপমাতার এক মেধাবী কন্যা,
রূপে-গুণে, অাচার-আচরণে সে ছিল সবার অনন্যা।
নাদিয়া আমার বোন, আমি জানতে চাই সে কেন খুন হল?
মা পারভীন আকতার, মেয়ে হত্যার বিচার কি পাবে? সংশয় রইল!

একটি দুঃখ!
আমার প্রিয় মাতৃভূমি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ,
তিনজন ক্ষমতাধর নারী দ্বারা শাসিত, আমার অহংকারের নেই শেষ।
মাননীয় বিরোধী দলের নেত্রী, স্পীকার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,
ওনাদের শাসনে খুশি থাকার কথা, কিন্তু এখন দুঃখে বাঁচি না!
পত্রিকায় মাঝে মাঝে যেসব ঘটনা পড়ি, ক্ষোভে, দুঃখে, লাজে মরি,
মেয়েরা পদে পদে হচ্ছে লাঞ্চিতা, ধর্ষিতা, শেষে জীবনটাও নেয় হরি!
নারীরা পারছেনা নারীদের সম্ভ্রম রাখতে, বড়ই তাজ্জব ব্যাপার,
দেখুন, জিসানের মত কয়েকজন ধর্ষককে ফাঁসি দিলে সমস্যার থাকবে না আর।
৩০ লক্ষ নরনারী প্রাণের বিনিময়ে হানাদার মুক্ত হয়েছে দেশ,
জানতে চাই, কখন, কিভাবে ধর্ষণের লোমহর্ষক কাহিনী হবে শেষ।

————————–————————
মাস্টার কে. এম. আজিজ উল্যাহ্
সন্দ্বীপের প্রবীণ কবি, প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিক, সংবাদ পত্রের কলাম ও ফিচার লেখক।

———————————————————————————————————-

———————————————————————————————————-

 

হায়রে যুব সম্প্রদায় !

—কে. এম. আজিজ উল্যাহ্
————————–————
হায়রে যুব সম্প্রদায় ! তোমরা আজ কোথায়?
দেশ স্বাধীন করেছো তোমরা, আমি শুধু জানতে চাই,
প্রকাশ্যে মা-বোনদের অপমান করার জন্য? শ্লীলতা হানির জন্য?
তোমরা অত্যন্ত নগন্য ; কারো ছত্রছায়ায় আজ হয়ে গেছো বড় জঘন্য!

যেই মেয়রা ডাক্তার হয়ে তোমাদের চিকিৎসা করছে, নার্স হয়ে সেবা করছে, শিক্ষিকা হয়ে ভাই বোনদের মানুষ করছে,
সুযোগ পেলেই তোমরা তাদেরকে করছো অপমান,
একদিন না একদিন দিতেই হবে এ অপমানের প্রতিদান।

তোমরা গাদ্দার, হায়েনার বংশধর, এজিদের সহচর,
তোমরা মানব জাতির কলংক, তোমরা দস্যু-তস্কর।

তোমাদের কোন মা বোন নেই, মাত্র দো-পায়া এক জাতি,
মায়া নাই দয়া নাই নারী লোভী খুনি–ইহাই পরিচিতি।

তোমরা নাদিয়াকে স্কুল যেতে দাও নাই— কুলাঙ্গার! অবোধ!
আমি বেঁচে থাকলে নিবই আমার ভগ্নী হত্যার প্রতিশোধ।

আজ ১৯ শে সেপ্টেম্বর, গিয়েছিলাম চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে,
দেখলাম, হাজার হাজার যুবক প্রতিবাদ জানাল নানা ভাবে।

ওদের সাথে তোমাদের তুলনা; তোমরা অমানুষ, সন্ত্রাসী, খুনী,
মানববন্ধন করেছে যারা, তারা সাংবাদিক, দেশপ্রেমিক ও গুণী।

তেমাদের জন্য আমি রেখেছি মহা ফাঁসি কাষ্ঠের জ্বালা,
মানববন্ধনের সকল জ্ঞানী-গুণীদের জন্য–সুগন্ধী ফুলের মালা।

অস্ত্র হাতে পেয়ে মনে করেছ– হয়ে গেছো খুব শক্তিশালী?
মনে রাখবে, অস্ত্র শেষ হয়ে যাবে, কখনো শেষ হবে না কলমের কালি।

————————–—————
মাস্টার কে. এম. আজিজ উল্যাহ্ :
বিশিষ্ট প্রবীণ কবি ও লেখক, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, সংবাদ পত্রের কলামিস্ট ও ফিচার লেখক।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন