আজ রবিবার, ১৯ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০৪ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



সন্দ্বীপে নির্বাচনী কার্যক্রম : সমন্বয়হীনতার আশঙ্কা

Published on 03 March 2016 | 8: 44 am

সন্দ্বীপে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে নানাবিধ বিষয় নিয়ে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। নির্বাচন সংক্রান্ত দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পাদনে রিটার্নিং অফিসারগুলোর কার্যালয়ের সাথে উপজেলা নির্বাচন অফিসের সমন্বয়হীনতা এমন কি খোদ নির্বাচন সমন্বয়কারী ইউএনও’র সাথে নির্বাচন পরিচালনার বিভিন্ন কার্যক্রমে নির্বাচন অফিসের সাথে চলছে সমন্বয়হীনতা। যার ফলে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, ৩১ মার্চ অনুষ্ঠেয় সন্দ্বীপের ১২টি ইউপি নির্বাচন পরিচালনায় রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের সাথে উপজেলা নির্বাচন অফিসার সাহিদ হোসনের বিরোধ চলে আসছে।
অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রদত্ত নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকের সাথে পরামর্শ করে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করবেন। সে মর্মে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে আলোচনা করে অফিসারদের নাম পাঠানোর জন্য সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কাছে পত্র প্রেরণ করেন।
সন্দ্বীপ ইউএনও’র অভিযোগ, উপজেলা নির্বাচন অফিসার সাহিদ হোসেন তাকে অন্ধকারে রেখে নিজের মনগড়া একটি তালিকা অনুমোদনের জন্য জেলায় প্রেরণ করেন। অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী উপজেলা নির্বাচন অফিসার সাহিদ হোসেনকে মুছাপুর-সারিকাইত-মাইটভাঙ্গা, উপজেলা প্রকৌশলী দিদারুল আলমকে মগধরা-গাছুয়া, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কামরুল হোসাইনকে আমানউল্যা-বাউরিয়া, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মশিউর রহমানকে হরিশপুর-সন্তোষপুর এবং সমবায় কর্মকর্তা মিন্টু বড়ুয়াকে আজিমপুর ইউনিয়নের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নীতিমালা অনুযায়ী পূর্ব অভিজ্ঞ ও দক্ষতাসম্পন্ন কর্মকর্তা ও জনবল রয়েছে এমন অফিসারদের নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনে অগ্রাধিকারের কথা বলা হলেও রিটার্নিং অফিসার নিয়োগে সে শর্ত মানা হয়নি। সন্দ্বীপ উপজেলার সব চাইতে বেশি জনবলসম্পন্ন উপজেলা স্বাস’্য কর্মকর্তা, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের উক্ত তালিকায় বিবেচনায় আনা হয়নি। রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের বিষয়টি জানাজানির পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম উক্ত তালিকা নিয়ে আপত্তি তুললে নির্বাচন অফিসার সংশোধনের মাধ্যমে এটি ঠিক করে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বলে জানা গেছে। কিন’ তা সংশোধন না করায় ইউএনওসহ উপজেলার অফিসারের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এদিকে মনোনয়ন ফরম ২ মার্চে জমা দেয়ার শেষ তারিখ থাকলেও ১ মার্চ পর্যন্ত নির্বাচন অফিস ছাড়া অন্য কোনো রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে ফরম না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ইচ্ছুক প্রার্থীরা। নির্বাচন অফিস থেকে অবশ্য পরে তারা ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়গুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা জানান, নির্বাচন অফিস তাদের বিলি করার জন্য কোনো ফরম সরবরাহ করেননি। তবে তাদের সরবরাহ করা ফরম জমা দেওয়ার শেষদিন পর্যন্ত প্রার্থীদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন।
নির্বাচন অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তারা ফরম নেননি। তারা আমাদেরকে এগুলো বিলি করতে বলেছেন। এদিকে নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়ন ফরম ও সিডি সংগ্রহ নিয়ে প্রার্থীদের রয়েছে নানা অভিযোগ।
নির্বাচন কাজের সমন্বয়হীনতা সংক্রান্ত বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. সাহিদ হোসেন বলেন, ‘সমন্বয়হীনতা নেই। পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে ইউএনও স্যারের সাথে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ বিষয়ে একটু সমস্য হয়েছে, সেটা ঠিক হয়ে যাবে।’

সুত্র : সুপ্রভাত বাংলাদেশ

 


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন