আজ বৃহঃপতিবার, ১৬ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০১ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



৪০ তলা আয়কর ভবন হচ্ছে চট্টগ্রামে

Published on 17 September 2015 | 1: 03 am

 চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে চার বিঘা জায়গার উপর নির্মিতব্য ৪০ তলার ৮ লাখ বর্গফুটের ‘আয়কর ভবন’  হবে দেশের প্রথম সরকারি বহুতল ভবন। আধুনিক স্থাপত্য শৈলী ও নান্দনিকতার সমন্বয়ে গড়ে তোলা হবে এ ভবনকে। এ ব্যাপারে ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল বা ডিপিপি তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, আগামী একমাসের মধ্যেই চূড়ান্ত হবে ডিপিপি। প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে দুবাই ও চীন ঘুরে অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ডিজাইনারদের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে ৪ কোটি টাকা। ভবন নির্মাণের স্পটের ১২টি পয়েন্ট থেকে ইতোমধ্যে মাটি পরীক্ষা করা হয়েছে।

পুরো চট্টগ্রাম অঞ্চলের করদাতাদের একই ছাদের নিচে সব সেবা দিতে নির্মাণ করা হচ্ছে এ ভবন। বর্তমানে চট্টগ্রাম কর বিভাগের চারটি প্রশাসনিক জোনের ৮৮টি সার্কেল অফিসই আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকায় ভাড়া বাড়িতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ফলে বর্ষাকালে ও ভরা জোয়ারে এই এলাকা পানিতে ডুবে থাকায় করদাতাদের চরম ভোগান্তির পাশাপাশি বিঘ্নিত হচ্ছে কর আহরণ। চট্টগ্রাম আয়কর বিভাগ বছরে ছয় হাজার কোটি টাকার বেশি কর আহরণ করলেও আড়াই লাখ করদাতাকে সেবা দিতে ছিল না কোন নিজস্ব ভবন। ফলে কর বিভাগের ৯৩টি সার্কেলের মধ্যে ৮৮টি সার্কেলের বিশাল কর্মযজ্ঞ চালাতে হচ্ছে সিডিএ আবাসিক এলাকার ১২টি ভাড়া বাড়িতে।

কিন্তু বছরে ছয় মাস এই এলাকা জলে ডুবে থাকায় করদাতা ও আইনজীবীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি কর আদায় কার্যক্রমও বিঘ্নিত হচ্ছে। এ অবস্থায় করবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে নগরীর আগ্রাবাদে সড়ক ভবনের পাশে ৩শ’ ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০ তলা কর ভবন নির্মাণ করছে সরকার। ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত কমিটির সমন্বয়কারী অতিরিক্ত কর কমিশনার বজলুল কবির ভুঞা জানান, এই ভবনটি হবে একটি সুদৃশ্য ভবন এবং এটিই প্রথম সরকারি ভবন যেটি ৪০ তলা হবে। এখানে আয়কর সম্পৃক্ত সামগ্রিক সুবিধাদির ব্যবস্থা থাকবে।

এ ভবনে থাকবে কনসাল্টেশন সেন্টার, অ্যাডভাইজ সেন্টার, সার্ভিস সেন্টার, আয়কর সংক্রান্ত সকল অফিস, আপীলাত অফিস, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, দুইটি সরকারি ব্যাংক, ৫শ জনের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন মিলনায়তন, প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা সেবা কেন্দ্র, ১৮০টি গাড়ির একসাথে পার্কিং করার স্থান, ক্যান্টিন, রেস্টহাউস, চিকিৎসা কেন্দ্র, আর্কাইভ ও হেলিপ্যাডসহ আরো গুরুত্বপূর্ণ শাখা। অর্থাৎ একজন করদাতা কর সেবার জন্য ওই ভবনে আসার পর তাকে আর কোথায় যাওয়া লাগবে না। ভিশন টুয়েন্টি টুয়েন্টিওয়ান এর সাথে মিল রেখে ২০২১ সালে কর ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা জানিয়ে বজলুল কবির ভুঞা বলেন, এ ভবন বাংলাদেশের উন্নয়নে যোগ্য প্রতিনিধিত্ব করবে। ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি হিসেবে নির্ধারিত স্থানের ১২টি পয়েন্টে মাটি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ইাতবাচক প্রতিবেদনও এসেছে এ ব্যাপারে। তিনি জানান, ডিপিপি প্রণয়নে সম্পৃক্ত রয়েছে রাজস্ব বোর্ড, পিডব্লিউডি ও স্থাপত্য অধিদপ্তর।

জানা গেছে, এ ভবন নির্মাণের কথাবার্তা শুরু ২০১২ সালে। এরপর গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে সরকারি কার্যভবন২ সংলগ্ন নির্ধারিত স্থানে ১৫ তলার ভবন আয়কর ভবন নির্মাণের কথাবার্তা হয়। সর্বশেষ একই বছরের শেষদিকে ৪০ তলা ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত আসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে। এরপর শুরু হয় তোড়জোড়। এ ব্যাপারে খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের নেতা সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ জামাল হোসেন বলেন, এ ধরনের ভবন যে কত জরুরি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে, চট্টগ্রামের স্বার্থে দ্রুত আয়কর ভবন নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন