আজ বৃহঃপতিবার, ২১ জুন ২০১৮ ইং, ০৭ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



শ্রেষ্ঠ সভাপতির পুরস্কার পেলেন সাহেদ সারোয়ার শামীম

Published on 09 February 2016 | 3: 03 pm

ওমেদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবক, সুসংগঠক সাহেদ সারোয়ার শামীম ২০১৫ সালে সন্দ্বীপ উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ৮ ফেব্রুয়ারি সন্দ্বীপ উপজেলা শিক্ষা মেলায় তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন সাংসদ মাহফুজুর রহমান মিতা, সন্দ্বীপ উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাস্টার শাহাজাহান ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্সকর্তা বিল্লাহ হোসেন।

তিনি ওমেদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তিনি দায়িত্ব গ্রহন করার পূর্বে বিদ্যালয়ের পড়ালেখার মান অত্যন্ত লাজুক ছিল। তিনি পড়ালেখার মান পাসের হার শতভাগ করার জন্য ছাত্র ও সিক্ষকদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করেছিলেন। পূর্বে বিদ্যালয়ের ফলাফল মোটেও সন্তোষজনক ছিল না এমন কি পাসের হারও ছিল শতভাগের নিচে। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর বিগত দুইবছরে বিদ্যালয়ের ফলাফল শতভাগ হয়েছে। এছাড়া এই প্রথম বিদ্যালয়ে দুইজন ছাত্র A+ পেয়েছে।
পড়ালেখার মান উন্নয়নের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। বিদ্যালয়ে শিক্ষক ছাত্রদের জন্য অালাদা বাথরুম বানিয়েছেন। শিক্ষকরা গরমে ক্লাস নিতে কষ্ট হয় বিধায় ফ্যান চালানোর জন্য সোলার সিস্টেম স্থাপন করেছেন। প্রতিবছর বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের জন্য পরিষ্কার অভিযান, নোক কাটা, হাত ধোয়া কর্মসূচী বাস্তবায়িত করেছেন। প্রতিবছর বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদেরকে উৎসাহ প্রদান করার জন্য বিভিন্নভাবে পুরস্কারের ব্যবস্থা করেছেন।

সাহেদ সারোয়ার শামীম একজন সমাজসেবক ও সুসংগঠক। তিনি সন্দ্বীপের একমাত্র রেজিস্টারকৃত ক্লাব সন্দ্বীপ আবাহানী ক্রীড়া চক্রের সভাপতি। এছাড়া তিনি অলষ্টার ক্লাব সন্দ্বীপ, ইয়াং ওয়ারিয়ার্স, শেরআলী পাড়া একতা সংঘ, মেঘনার বুকে চৌকাতলীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনিই সর্বপ্রথম বাংলাদেশ ক্রিকেট জাতীয় দলের অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমনকে সন্দ্বীপ এনে বৃহৎ আয়োজনে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্ভোধন করিয়েছিলেন। সন্দ্বীপে প্রথম বুট দিয়ে খেলার প্রচলন তিনিই শুরু করেছিলেন। সন্দ্বীপে বৃহৎ আয়োজনে যে সকল ফুটবল টুর্নামেন্ট হয়েছিল সবগুলোতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। বিশেষ করে বীরমুক্তিযোদ্ধা আকরাম খান আন্তঃ স্কুল মাদরাসা ফুটবল টুর্নামেন্ট, দ্বীপবন্ধু আন্তঃ ইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং মেয়র কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট।

সৃজনশীল এবং পরিচ্ছন্ন রাজনীতির কারেন নজর কেড়েছেন সবার। সাউথ সন্দ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেনিতে থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে তিনি সক্রিয় ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করেন। পরে তিনি চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ন সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
তার বাড়ি সন্দ্বীপের সারিকাইত ইউনিয়নের আলী মুন্সির বাড়ী।
তার পিতা মাতা যথাক্রমে মৃত মাস্টার মোস্তফা সারোয়ার এবং মৃত মাহফুজা বেগম। তিনি উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন মাওলানা শামসুদ্দীন কাসেমীর আপন চাচাতো ভাই।

ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি জান্নাতুল মোসারত রাইসা ও আরিবা জান্নাত ইকরা নামীয় দুই কন্যা সন্তানের জনক।
তার স্ত্রী বিলকিছ বিলু (মাস্টার্স) মার্কেন্টাইল ব্যাংক অফিসার।

তার এ অর্জন সম্পর্কে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, জীবনে আমি অনেকগুলো পুরস্কার পেয়েছি। কিন্তু এটি আমার জীবনের সেরা পুরস্কার।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সন্দ্বীপে আপনার সারিকাইত ইউনিয়নে শিক্ষার মান খুবই খারাপ এটি কে আপনি কিভাবে দেখছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিক্ষায় জাতির মেরুদন্ড। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশের ও মধ্যম আয়ের দেশের যে স্বপ্ন দেখছেন এ জন্য শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। সন্দ্বীপে একমাত্র অবহেলিত ইউনিয়ন হচ্ছে সারিকাইত। তাই শিক্ষার মান উন্নয়নে ওই অঞ্চলের জনপ্রতিনিধিকে অব্যশই সুশিক্ষিত হতে হবে। তা না হলে শিক্ষার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়।আমি অদূর ভবিষৎতে শুধু সারিকাইত ইউনিয়ন নয় সন্দ্বীপের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মাননোন্নয়নে ভূমিকা রাখার চেষ্ট করব।

সুত্র : দ্বীপের সত্য সংবাদ  (ইব্রাহিম অপু, ০৯-০২-২০১৬ )


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন