আজ মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ ইং, ০২ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



গরু আসছে সীমান্ত পথে

Published on 13 September 2015 | 5: 27 am

সীমান্ত পাড়ি দিয়ে নানা পথে গরু আসছে চট্টগ্রামে। এতে আসন্ন কোরবানী ঈদে বাজারে গরু সংকটের যে আশংকা ছিল তা কেটে যাবে। সীমান্তে বিএসএফ এর কড়াকড়ি শিথিল হবার পর বাজারে গরুর সংখ্যা বেড়েছে। এছাড়া গত কয়েকদিনে মিয়ানমার থেকে ১৫২০ হাজার গরু আমদানি করা হয়েছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে বাজারে গরুর সংখ্যা আরো বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে বাজারে গরুর কোন সংকট হবে না বলে দাবি করেছেন তারা। তবে দাম নিয়ে কারসাজির শঙ্কা করছেন ক্রেতারা। কারণ বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে মুনাফা হাতিয়ে নিতে তৎপর মধ্যস্বত্বভোগীরা।

জেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল হাই জানান, একটি গোষ্ঠি বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে বাজারে গরুর কোন সংকট হবে না। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে চট্টগ্রামে গরু আসছে। এছাড়া স্থানীয় খামারীরাও কয়েক দিনের মধ্যে তাদের গরু হাটে তুলবেন। চট্টগ্রামে বিভিন্ন খামারে প্রায় ২৭হাজার গরু কোরবানি বাজারে বিক্রয়ের জন্য লালন পালন করা হয়েছে। এছাড়া ব্যক্তি পর্যায়ে আরো প্রায় ২ লক্ষ গরু মোটা তাজা করণ করে বাজারে আনার জন্য পালন করা হয়েছে। চাহিদা প্রায় ৪ লাখ। উত্তরবঙ্গ থেকে প্রতিদিন প্রচুর গরু আসছে। সাতক্ষীরা, চাপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, রংপুর, খাগড়াছড়ি, ফেনী ও কুমিল্লা হয়ে গরু আসে চট্টগ্রামে। ব্যাপারীরা গরু সংগ্রহ করতে এখন সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলায় আছেন। গত কয়েক দিনে ২০ থেকে ৩০ হাজার গরু নগরীর বিভিন্ন বাজারে বিক্রয়ের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। এদিকে নগরী ও এর আশে পাশে বিভিন্ন জায়গায় বসছে গরুর হাট। তবে বিক্রেতারা জানান আসল বেচাবিক্রি শুরু হবে ঈদুল আযহার চাঁদ ওঠার পর।

গরু ব্যবসায়ী আমজাদ জানান, তিনি উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী হাটগুলো থেকে প্রতি বছর গরু আনেন। এবারও ৬০টি গরু এনেছেন। আরো কিছু গরু পর্যায়ক্রমে আনবেন। বাজারে বর্তমানে গরুর কোন সংকট নেই।

উত্তর চট্টগ্রামের বৃহৎ গবাদি পশুর বাজার রাণী হাট গরুর বাজারের ইজারাদার আবুল কালাম জানান, রাঙ্গামাটি, কাউখালীসহ পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গা থেকে গরু আসছে। বাজারে কোন সংকট নেই। দাম নিয়ে কিছুটা শঙ্কা আছে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের মাঝে। এছাড়া গরুর খুড়া রোগ নিয়ে কিছুটা আতঙ্কে আছেন গরুর মালিকরা।

টেকনাফ স্থল বন্দর কাস্টমস কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির জানান, ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শাহপরীর দ্বীপ করিডোর হয়ে ৫ হাজারের অধিক গরু, মহিষ ও ছাগল মিয়ানমার থেকে আমদানি করা হয়েছে। এসব পশু থেকে রাজস্ব আদায় করা হয়েছে প্রায় ২১ লাখ টাকা। কোরবানির মৌসুমে গত বছর মিয়ানমার থেকে পশু আনা হয় ১৫ হাজারের মত।

আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর ঘাটতি মেটাতে ভারত এবং মিয়ানমার ছাড়াও নেপাল,ভুটান ও পাকিস্তান থেকে গরু আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলার সীমান্তপথে গত প্রায় দেড় সপ্তাহ ধরে গরু আসার সংখ্যা বাড়ছে। কোরবানির জন্য এবার দেশীয় গরু মোটাতাজাকরণের সংখ্যাও অন্যান্য বছরের চেয়ে কয়েক লাখ বেশি করা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গরু ও ইলিশ এই দুটো অপ্রচলিত পণ্য রফতানিতে দুই দেশেই সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে। তবে বাণিজ্যিক কূটনীতিতে এ নিয়ে দু’দেশের মধ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক ও অলিখিত সমঝোতা হয়েছে। পবিত্র কোরবানির জন্য গরু আসছে, আর শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে যেতে শুরু করেছে পদ্মার ইলিশ। গত দেড় সপ্তাহ ধরে বৈধ ও অবৈধ উভয় প্রক্রিয়ায় সীমান্তপথে শুরু হয়েছে গরুইলিশের বাণিজ্য।

গত ২০ দিনে প্রায় ১ লক্ষ গরু এসেছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যশোর, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা ও উত্তরের নওগাঁ সীমান্তপথে। গত জুন মাসে যশোরের নাভারন করিডোর দিয়ে দুই হাজার ৭২৩টি গরু দেশে আনার অনুমোদন নেওয়া হয়। আগস্টে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ৩৭৬টি। আর চলতি মাসের প্রথম ২ দিনে এই করিডোর দিয়ে গরু এসেছে ৮৭২টি। গত ১০ দিন ধরে রাতে বসিরহাট সংলগ্ন ইছামতী, উত্তর ২৪ পরগনা ও মুর্শিদাবাদ জেলার ভারতবাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে পানিপথে হাজার হাজার গরু ভাসিয়ে আনা হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

বিবির হাটের গরু বাজারের ইজারাদার মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বাজারে গরুর কোন সংকট নেই। তাই দুশ্চিন্তারও কোন কারণ নেই। কয়েক দিনের মধ্যে উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পুরোদমে গরু আসা শুরু হবে। এছাড়া গরুর দামও ভাল।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন