আজ মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ ইং, ০২ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের ভিত্তিস্থাপন ও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

Published on 28 January 2016 | 11: 37 am

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার (৩০ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের ভিত্তিস্থাপন ও উদ্বোধন করবেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার টাইগারপাস থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ভিত্তিস্থাপন, ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত চিটাগাং সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্প ও ১৭২ কোটি টাকার বায়েজিদ থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত লুপ রোডের নির্মাণকাজ উদ্বোধন, ৪৫ কোটি টাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ ও ৫৮ কোটি ‍টাকার কদমতলী ওভারপাস এবং কুয়াইশে দেশের সবচেয়ে উঁচু বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল উদ্বোধন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর ওয়েল পার্কে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান চউক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। এ সময় চউকের বোর্ড সদস্য জসিম উদ্দিন চৌধুরী, টিপু সুলতান ও হাসান মুরাদ বিপ্লব, সচিব তাহেরা ফেরদৌস, উপসচিব অমল গুহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি দেশের মধ্যে সুউচ্চ দাবি করে আবদুচ ছালাম বলেন, বঙ্গবন্ধুর বিশ্বাসের জায়গা ছিল চট্টগ্রাম। ১৯৬৬ সালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বঙ্গবন্ধু চট্টগ্রামে ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণা দিয়েছিলেন। উনার শেষ আকাঙ্ক্ষা দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারিত হয়েছিল চট্টগ্রাম থেকে। তার প্রিয় সহচর ছিলেন চট্টগ্রামের জহুর আহমদ চৌধুরী, এমএ আজিজ, এমএ হান্নান প্রমুখ। জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের প্রতি এত বেশি দুর্বল, যখনি চট্টগ্রাম আসেন এখানকার মানুষের জন্যে কোনো না কোনো উপহার নিয়ে আসেন।

চউক চেয়ারম্যান বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্যেই বিবেকের দংশন থেকে, যন্ত্রণা থেকে অ্যাভিনিউ ও ম্যুরাল স্থাপন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে টাকার কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না। তাই এ প্রকল্পে কত টাকা ব্যয় হয়েছে তা আমার মুখ দিয়ে কখনোই বের হবে না। শুধু এটুকু বলবো, আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছি যাতে ম্যুরালে সামান্যতম ত্রুটিও না হয়।

আবদুচ ছালাম বলেন, ২০০৯ সাল থেকে চট্টগ্রামে উন্নয়নের মহোৎসব শুরু হয়েছে। গত সাত বছরে এক দিনের জন্যেও চট্টগ্রামের উন্নয়ন বন্ধ ছিল না। যেটা দৃশ্যমান সেটি অস্বীকারের উপায় নেই। এটি অবিশ্বাস্য ব্যাপার। ‍উন্নয়ন হচ্ছে চলমান প্রক্রিয়া। একবার উন্নয়ন বন্ধ হলে অনেকদিন ফাইল চাপা পড়ে থাকে। চট্টগ্রামবাসী একসঙ্গে এত উন্নয়ন অতীতে দেখেনি।

কদমতলী ওভারপাসের গুরুত্ব তুলে ধরে চউক চেয়ারম্যান বলেন, নগরীকে পূর্ব-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে ভাগ করেছে একটি রেলওয়ে ওভারপাস। ৫-৭ টন ধারণক্ষমতার যানবাহন চলাচলের উপযোগী ওই ওভারপাসটি নড়বড়ে হয়ে গেছে। ভারী যানবাহন, লরি উঠলে কাঁপতে থাকে। তাই এটি ভেঙে না পড়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আমি বিকল্প একটি পথের চিন্তা করেছি। সেটি হচ্ছে কদমতলী ওভারপাস। মিরসরাই-সীতাকুণ্ডসহ নগরীর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের লাখ লাখ মানুষের জন্য এটি হয়েছে আশীর্বাদ।

তিনি বলেন, আমাদের দৃষ্টিকে প্রসারিত করতে হবে। ১০০ বছরের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করতে হবে। ৩ লাখ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট হবে, ৩০ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ হবে, ৩২ বিলিয়ন ডলার এক্সপোর্ট হবে এটি ১০ বছর আগেও কেউ চিন্তা করতে পারেনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেটি বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। আগামী ১০ বছরে চট্টগ্রামে ১ লাখ কোটি টাকার কর্মযজ্ঞ হবে বৃহত্তর চট্টগ্রামে। কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল হবে। গভীর সমুদ্রবন্দর হবে। আনোয়ারা ও মিরসরাইতে স্পেশাল ইকোনমিক জোন হবে।

প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে চউক চেয়ারম্যান বলেন, অনেক সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ একসঙ্গে শুরুর পর অনেকে বলাবলি করছিলেন, সিডিএ চেয়ারম্যান পাগল হয়ে গেছেন। কিন্তু কাজগুলো শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি আরামকে হারাম করে, ঘুমকে হারাম করে শেষপর্যন্ত বাস্তবায়ন করেছি। আগে অনেকে বলতেন, সরকার চট্টগ্রামের জন্য টাকা দেয় না। আমি বলবো, টাকা আনার কৌশল তারা জানতেন না। আমি প্রধানমন্ত্রীকে আউটার রিং রোড প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি বলার পর একসঙ্গে ৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়েছেন।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ টাকা দেবে কিনা জানতে চাইলে আবদুচ ছালাম বলেন, বন্দরের টাকা রাষ্ট্রের টাকা। রাষ্ট্রপ্রধান নির্দেশনা দিলে বন্দর টাকা দিতে বাধ্য। সবচেয়ে বড় কথা ওই টাকা আমরা সাহায্য চাইছি না, ঋণ হিসেবে নিচ্ছি। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে টোল আদায় করে পরিশোধ করে দেবো।

তিনি বলেন, উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নে ৬৫ লাখ নগরবাসী আমাকে সহযোগিতা করেছেন। সাংবাদিকরা সহযোগিতা করেছেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, নগর পুলিশ, জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, সওজ, পিডিবিসহ প্রতিটি সংস্থা সহযোগিতা করেছে। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন