আজ মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮ ইং, ০৫ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



‘প্রথম নারী হিসেবে প্যারেডের নেতৃত্ব দেওয়া গৌরবের’

Published on 27 January 2016 | 4: 51 am

‘এই দিনের অপেক্ষায় ছিলাম। দিনটি আমার জন্য সত্যিই গৌরব ও আনন্দের। অনেক আগে থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করছিলাম। প্রথম একজন নারী হিসেবে প্যারেডের নেতৃত্ব দেওয়া খুব গৌরবের, আনন্দেরও। যে সম্মান আমি পেয়েছি সেজন্য জাতির কাছে কৃতজ্ঞ।’

মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে পুলিশ সপ্তাহ-২০১৬ উপলক্ষে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে প্যারেডের নেতৃত্ব দেওয়ার পর চাঁদপুর জেলার পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার এভাবেই তার অনুভূতি প্রকাশ করেন।

শামসুন্নাহার বলেন, নিয়মানুযায়ী একজন পুলিশ সুপার প্যারেডের নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। আমি আগেও প্যারেডে উপ-কমান্ডার হিসেবে অংশ নিয়েছি। এবার পুরো প্যারেডের নেতৃত্ব দিতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।

চাকরির শুরু থেকেই এমন একটি দিনের স্বপ্ন দেখতাম। আজ আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে, যোগ করেন শামসুন্নাহার।

‘২০তম বিসিএস পরীক্ষায় আমার প্রথম পছন্দ ছিলো পুলিশ। আমি মনে করি, পুলিশের চাকরিতে জনগণের সেবা সবচেয়ে বেশি করা যায়। তাই নারীদেরও পুলিশের পেশায় যোগদানের আহ্বান জানাই।’

প্রথমবারের মতো একজন নারী কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্যারেডের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহ শুরু  হয়। এদিন সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পুলিশ সপ্তাহে প্যারেডের ইতিহাসে তিনিই  প্রথম  নারী হিসেবে নেতৃত্ব দেন। এতে পুলিশের পাশাপাশি অন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।

প্যারেড শেষে অনুভূতি প্রকাশের সময় পাশে ছিলেন বাবা শামসুল হক ও মা আমেনা বেগম। আইনজীবী বাবার চার সন্তানের মধ্যে শামসুন্নাহার সবার বড়।

মা আমেনা বেগম বলেন,  ছোটবেলা থেকেই মেয়ে খুব মেধাবী ছিলো। ও ভালো কিছু করবে এটা আমার বিশ্বাস ছিলো। আজকের দিনটা ওর জন্য যেমন সম্মানের তেমনি আমাদের জন্যও অনেক গৌরবের।

এদিকে, প্রথমবারের মতো একজন নারীর নেতৃত্বে এমন দৃষ্টিনন্দন প্যারেডের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ২০১৫ সালে অসীম সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য স্বীকৃতিপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের পদক পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

এবার ১৯ জন পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), ২০ জনকে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম), ২৩ জনকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা ও ৪০ জনকে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা পদক দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ছয়জনকে মরণোত্তর পদকও দেওয়া হয়।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন