আজ শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



সন্দ্বীপ পরিক্রমা : * সন্দ্বীপে পলিব্যাগে সয়লাব, * সন্দ্বীপে হারিয়ে যাচ্ছে ডাকবক্স *সন্দ্বীপে হোটেল-রেস্টুরেন্টে পরিবেশিত হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর খাবার…… (সংবাদ প্রেরক – গোলাম মোস্তফা লিটন)

Published on 23 January 2016 | 10: 12 am

সন্দ্বীপে পলিব্যাগে সয়লাব
গোলাম মোস্তফা লিটন (সন্দ্বীপ)।
সরকারিভাবে পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ হলেও একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অবাধে এসব পলিথিন ব্যাগ বিক্রি করে চলেছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় বর্তমানে সন্দ্বীপ উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন এলাকার হাট বাজার পলিথিন ব্যাগে সয়লাব হয়ে গেছে। এমনকি অনেক পাইকারি ব্যবসায়ী গুদামজাত করে রেখে কৌশলে বিভিন্ন খুচরা ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করছে। এ পলিথিন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে বিনষ্ট হচ্ছে মাটির উর্বরা শক্তি, দূষিত হচ্ছে বায়ু ও পানি। নালা- নর্দমা, খাল-নদীতে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এলাকার সচেতনমহল এ পলিথিন ব্যাগ ব্যবসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

সন্দ্বীপে হারিয়ে যাচ্ছে ডাকবক্স
গোলাম মোস্তফা লিটন (সন্দ্বীপ)।
আধুনিক কারনে গ্রামগঞ্জ থেকে শুরু করে প্রতান্ত অঞ্চলে কমে গেছে ডাকঘর। আর ডাকবক্সের ব্যবহার কয়েক বছর আগেও এই ডাকঘর ও ডাকবক্স স্থাপন করা নিয়ে কতই না চলছে লিখালেখি। এখন ডাকঘর আর ডাকবক্স থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন অনেকে। এখন হাতের নাগালে রয়েছে কুরিয়ার সার্ভিস আর মোবাইল ফোন। বাজারে এসেছে বিভিন্ন ফোন কোম্পানির নানা অপার। সকাল নয় সন্ধ্যা নয সারাদিন কর্মব্যস্ত করে রেখেছে অনেক প্রিয়জনকেও। দ্রুত চিঠিপত্র আদান-প্রদানে এখন কুরিয়ার সার্ভিস এর অনেক যথেষ্ট মনে করে থাকছেন। তাই তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পেরে উঠছেনা ডাক বিভাগ। আর এই ডাক বিভাগ দিচ্ছে নানা সেরা। কথায় কথায় ডাকবক্স লেগে রয়েছে, খোঁজ-খবর আর রাখেনা কেউ।কারণ চিঠি আর পড়েনা ওই ডাকবক্সে। অবহেলায় অযতেœ সেগুলো পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

সন্দ্বীপে হোটেল-রেস্টুরেন্টে পরিবেশিত হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর খাবার

এম.গোলাম মোস্তফা লিটন, সন্দ্বীপ থেকে: সন্দ্বীপ উপজেলায় হোটেল ও রেস্টুরেন্ট গুলোতে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই বিক্রি হচ্ছে অনুপযোগী নিম্মমানের খাবার, যা রান্না করা হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে। সন্দ্বীপের সর্বত্র এরকম অপরিচ্ছন্ন দৃশ্য চোখে পড়ে উপজেলা গ্রাম গঞ্জের হাটবাজারেও। কোনো কোনো হোটেল রেস্টুরেন্টে টিউবওয়েল ও নেই। পুকরের পানি কাস্টমারদের খাওয়ানো হচ্ছে। শিশুশ্রমিকদের অল্পবেতনে কাজ করানো হচ্ছে। এই সব হোটেলের অপরিস্কার পাত্রে খাবার রান্না করা হচ্ছে। ঢাকনাবিহীন সেই খাবার গুলোর উপর মাছি উড়ছে। রাস্তার পাশে খাবারের উপর ধুলাবালী পড়ছে। হোটেল বয়রা নোংরা পানিতে গ্লাস ধুয়ে তাতে আঙুলের চাপে পানি পান করতে দিচ্ছে। বাবুর্চিরা সিগারেট ধরিয়ে খামির বানাচ্ছে, সেই খামিরের উপর বাবুর্চিদের শরীরের ঘাম ঝরে পড়ছে। সন্দ্বীপের বিভিন্ন বাজারের নামী-দামী কয়েকটি হোটেল কিছুটা নজর রাখলেও প্রশাসন কিংবা কর্তৃপক্ষের তদারকি অভাবে সন্দ্বীপের হোটেল রেস্টুরেন্ট গুলোতে দেদারছে অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশিত হচ্ছে।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি
সন্দ্বীপের সড়কে বেপরোয়া চলছে মোটরসাইকেল

এম.গোলাম মোস্তফা লিটন, সন্দ্বীপ থেকে: সন্দ্বীপ উপজেলা বিভিন্ন সড়কে স্কুল-কলেজের ছাত্ররা বেপরোয়া ভাবে চালাচ্ছে মোটরসাইকেল। এতে প্রতিনীয়তই ঘটছে দূরঘটনা। এ সড়কে চলাচলরত মোটরসাইকেল এখন আতঙ্কের নাম। বেপরোয়া ভাবে চলাচলের কারনে এর নাম বিশেষভাবে আলোচিত। স্কুল-কলেজের ছাত্ররা ছাড়াও সন্দ্বীপ উপজেলায় কিছু অদক্ষ, অশিক্ষিত, নেশাখোর প্রকৃতির বেকার যুবকেরা কিস্তিতে মোটরসাইকেল কিনে এই পেশা বেছে নেই। অনিয়মেই এতে পথচলা প্রতিদিনের। রাস্তায় চলতে এসব যানবাহনের ফিটনেস কিংবা চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স কোনোটাই দরকার হয়না। শুধু মাস শেষে মাসোহারা ঠিক থাকলেই আর কোনো ঝামেলা নেই। ক্ষমতার দাপটে স্থানীয় যানবাহনের মালিকরা প্রতিনিয়ত ঘটাচ্ছে মারাত্মক দুর্ঘটনা। মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতি সাধারণ পথচারীরা আতঙ্কে থাকলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কারোরই পনক নড়ছে না। আর বেপরোয়া চলাচলের কোনো শাস্তিও ব্যবস্থা না হওয়ায় এর চালকরা সাধারণ পথচারীদেরও তোয়াক্কা করে না। সন্দ্বীপ উপজেলায় চলাচলরত হোন্ডার সংখ্যা প্রায় ১২০০ এর মধ্যে তিন শতটির সেল রশিদ আছে। আর বাকী গুলো অবয়ধ্যে।

সন্দ্বীপে চলছে জমজমাট হুন্ডি ব্যবসা লাখ টাকার লেনদেনে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত
গোলাম মোস্তফা লিটন॥ সন্দ্বীপ উপজেলা হুন্ডি ব্যবসা জমজমাট চলছে। প্রতিদিন অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকার লেনদেন হলেও এসব প্রতিরোধে সন্দ্বীপের প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করেছে। হুন্ডি ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন এলাকায় ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের হাতে টাকা পাঠানোর জন্য উৎসাহ প্রদান করছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় মোটরসাইকেল হাকিয়ে বিভিন্ন এলাকায় চিহ্নিত কিছু লোক প্রকাশ্যে এই অবৈধ ব্যবসা সন্দ্বীপে চলছে হুন্ডির ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সন্দ্বীপ উপজেলা মোবাইল নেটওয়ার্ক আসার পর এ ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। হুন্ডির মাধ্যমে সার্ভিস চার্জ বাবৎ ২০-২৫% কেটে রাখা হয়। সৌদি আরব, আবুধাবি, মালেশিয়া, কাতার, কুয়েতের অভ্যন্তরে এই সিন্ডিকেটের বিশাল এক নেটওয়ার্ক রয়েছে। মাত্র এক ঘন্টার মাধ্যমে কুয়েত আবুধাবি থেকে ফোন আসলে সন্দ্বীপে অবস্থানরত আতœীয়স্বজনদের নিকট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয়। প্রতিদিন এভাবে লাখ লাখ টাকা হুন্ডির মাধ্যমে দেশে আসছে আর এতে করে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন আশু প্রদক্ষেপ নেবেন বলে সন্দ্বীপের অভিজ্ঞ মহল আশাবাদী।

সন্দ্বীপে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটনা বেড়ে চলছে।
এম গোলাম মোস্তফা লিটনঃ (সন্দ্বীপ)
সন্দ্বীপ উপজেলা বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ক্রমে বেড়ে চলছে। খোজ নিয়ে জানা গেছে, সন্দ্বীপ উপজেলায় ২০১০ সালের জানুয়ারী মাস থেকে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত গত ৩ বছরের এই উপজেলায় প্রায় ১২শত বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে বলে সন্দ্বীপে বিভিন্ন ইউনিয়নের কাজীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে। সূত্রমতে, কয়েকটি কারণে তালাকের হার বেড়েছে। কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে যৌতুক, পরকীয়া, প্রতারণা, বেকার সমস্যা, অর্থনৈতিক সষ্কট, সামাজিক অবক্ষয়, বাল্যবিবাহ, মোবাইলে পর নারী-পুরুষের সঙ্গে অধিক সময় ধরে কথোপকথন, মাদক সেবন, স্ত্রীদের বিলাসবহুল জীবনযাপন প্রভৃতি।

 

সন্দ্বীপে অতিথি পাখি শিকারিরা তৎপর
এম, গোলাম মোস্তফা লিটনঃ সন্দ্বীপ উপজেলার অতিথি পাখি শিকারিরা তৎপর হয়ে উঠেছে। আইন অমান্য করে একটি অসাধু শিকারী চক্র এলাকার গ্রামগঞ্জে, খাল-বিলে বিষ প্রয়োগ ও এয়ার গানের মাধ্যমে অতিথি পাখি শিকার করছে। সম্প্রতি উপজেলার বাউরিয়া, মুছাপুর, সন্তোষপুর, হারামিয়াসহ এলাকার বিভিন্ন উপকূলীয় প্রত্যন্ত অঞ্চলে গভীরবন, বড় বড় মৎস ঘের ও বিভিন্ন জলাশয়ে প্রতি বছর শীতের শুরুতে নানা প্রজাতির পাখি, পাকচো খবল বক, বাইলে হাঁস, পালকৌড়ি, ডাউক সহ অতিথি পাখি আসা শুরু করে। শীত ছাড়াও সারা বছর দেশীয় প্রজাতির ঘুঘু, টিয়া, হরিয়াল ঘু ঘু পাখির বিচরণ লক্ষ্য করা গেলেও পাখিদের অভয়ারন্য না থাকায় দিন দিন এ সকল জাতের পাখির সংখ্যা হ্রাস পেতে যাচ্ছে।

দেশীয় মোরগ-মুরগী বিলুপ্তির পথে
চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলায় এখন আগের মত দেশীয় মোরগ-মুরগী চোখে পড়ে না। যৎ সামান্য গৃহস্থীর বাড়িতে মোরগ-মুরগী পালিত হয়। তা অধিক মূল্যে বিক্রি হয় । বর্তমানে দেশীয় মোরগ-মুরগী অনেকটা বিলুপ্তির পথে। আজ থেকে প্রায় ২০ বছর পূর্বে সন্দ্বীপে প্রতিটি গ্রামে গৃহস্থীর ঘরে ধানের গোলার নিচে আলাদা টঙ্গঘর নির্মাণ করে মোরগ-মুরগী জন্য ঘর তৈরি করা হত । প্রত্যেকটি পরিবার অন্যান্য পশু পালনের পাশাপাশি দেশীয় মোরগ-মুরগী পালন করে গৃহবধূরা একটি বিশাল অংকের রোজগার করত। এখন সে দৃশ্য আর চোখে পড়ে না। আধুনিকতার ছোয়ায় সন্দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় এখন মুরগীর ফার্ম গড়ে উঠায় মানুষ অনায়াসে পেয়ে যাচ্ছে মোরগ-মুরগী। এ ব্রয়লার মুরগীগুলো অতিরিক্ত খাবার খেয়ে খুব তাড়াতাড়ি বড় হওয়ায় এ মুরগীর ফার্মের দিকে ঝুঁকেছে অনেক যুবক এবং অনেকেই সফলও হয়েছেন। বর্তমানে যদিও ব্রয়লার ও ফার্মের মুরগীর ব্যবসা ততটা লাভজনক না হলেও তবুও এ পেশায় অনেকেই গা লাগিয়ে দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে মোরগ-মুরগী পালন তথা উৎপাদন ব্যবসা। আজ থেকে ২০ বছর আগেও সন্দ্বীপের বিভিন্ন পাড়ায়-পল্লীকে ভোর বেলা মোরগের ডাক শোনা যেত । এ সকল মোরগ একটু বড় আকৃতির হত। সে মোরগের ডাকে অনেকের ঘুম ভাঙত। বিশেষ করে রমজানে মাসে তৎকালীন মুরুব্বীরা মোরগের ডাক গুনে বলত সকাল হয়েছে, সেহেরি খাওয়া বন্ধ করতে হবে। এখন সে রেওয়াজ আর নেই। প্রতিটি মসজিদে বেজে উঠছে সেহেরি খাওয়ার পূর্ব মুহূর্তে এবং শেষ মুহূর্তে সাইলেন বা সংকেত। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে দেশীয় খাবার খেয়ে বড় বড় হওয়া মোরগ-মুরগীগুলো আসতে আসতে বেড়ে উঠে এবং এগুলো খুবই সুস্বদু, পুষ্টিকর এবং শরীরের জন্য উপযোগী । ব্রয়লার তথা ফার্মের মুরগীগুলো রাসায়নিক জনিত খাবার খেয়ে খুব তাড়াতাড়ি বড় হয়ে উঠায় এগুলোর স্বাদ তেমন নেই বললেই চলে। এক সময় কোন মেয়ের জামাই শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে আসলে মোরগ মুরগী জবাইকরে তাদেরকে আপ্যায়ন করা হত। সে সময় গিয়ে অনুষ্ঠানেও বরযাত্রীদের জন্য আপ্যায়নের জন্য গরুর মাংসের পাশাপাশি মুরগীর মাংস একটি মেন্যু হিসেবে বাধ্যতামূলক করা হত। বর্তমানে সে রেওয়াজ পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখন প্রতিটি বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে মুরগী দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু অনেকেই এ ধরনের ব্রয়লার বা ফার্মের মুরগী না খাওয়ার কারণে টেবিলের মধ্যে মোরগ-মুরগীর মাংস থেকেই যায়। এখনো দেশীয় মুরগীর স্বাদ আলাদা হওয়ায় হোটেলে-রেস্তোরাঁয় দুই ধরনের মোরগ-মুরগী রান্না করা হয়ে হয়। সে সাথে দেশীয় মোরগ-মুরগীর মাংসের দামও বেশি নেয়া হয়। কিন্তু ফার্ম বা ব্রয়লার মুরগী বাজারে ১শ ৩০ থেকে ১শ ৬০ টাকার পর্যন্ত বিক্রি করলেও, দেশীয় মুরগীর দাম ২শ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। তাছাড়া দেশীয় মুরগীর চাহিদা বেশি থাকায় সে পরিমাণ মুরগী বাজারে মোরগের না আসার কারণে দাম চড়ায় থাকে সব সময়। স্থানীয় মুরুব্বীর মতে দেশীয় মোরগ-মুরগীগুলো ২০ থেকে ৩০ টি ডিম দেয়। এ ডিমগুলো সূর্য না দেখে মত বাড়ির একটি জায়গায় জমায়েত করে রাখা হয়। পরবর্তীতে মুরগীর ডিম দেয়া শেষ হলে একটি খাচায় করে বাচ্চা ফুটানোর জন্য স্থান করে দেয়া হয়। সেখানে মুরগীরটি তা দিয়ে ২০ থেকে ২৫ দিন পর ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে তাদের তাদের তাদের বংশ বিস্তার করে। এমনটি এ সকল মুরগী হাঁসের বাচ্চাও ফুটানো হত বলে তারা জানান । ফলে এ বাচ্চাগুলো গৃহস্থের লালন-পালনের মধ্য দিয়ে আসতে আসতে বড় হতে থাকে। সময় লাগে অনেক। ফলে এ কষ্ট বর্তমানে সমাজের লোকজন করতে চায় না। তাই তারা ফার্মের তথা ব্রয়লার মুরগী ক্রয়ের জন্য তাদের চাহিদা মিটিয়ে থাকে। এভাবে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মোরগ-মুরগী। এক সময় হয়তো দেশীয় মোরগ-মুরগী আষাঢ়ের গল্পের মত গুনবে আগামী প্রজন্ম। তাই এ দেশীয় মোরগ-মুরগীর স্বাদ পেতে এবং ধরে রাখতে সরকারিভাবে দেশীয় মোরগ-মুরগী লালন-পালনের উপর পদক্ষেপ গ্রহন করার দাবী। জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। অন্যথায় এ সুস্বাদু দেশীয় মোরগ-মুরগীর আমাদের দেশ ও সমাজ থেকে এক সময় হায়িয়ে যাবে। দেশীয় প্রজাতির মোরগ-মুরগীর ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাঃ আমির হোসেন বলেছেন, বর্তমান বাজারে এটার চাহিদা থাকার কারণে মানুষ আবার নতুন করে মোরগ-মুরগীর লালন-পালনে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। দেশীয় তুষ পদ্ধতিতে ডিম ফুটাটো এবং মুরগী ছাড়া বাচ্চা পালনের ব্যবস্থা করা, মুরগী অধিক ডিম দেয়ায় ব্যাপারে গৃহস্থীদের বিভিন্ন রকম প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

সন্দ্বীপ দেদার বিক্রি হচ্ছে নোট-গাইড বই
এম গোলাম মোস্তফা লিটনঃ সন্দ্বীপ উপজেলা সর্বত্র হাট- বাজারে সহকারী বিধিনিষেধ উপো করে দেদার বিক্রি হচেছ নোট ও গাইড। শিক্ষা মন্ত্রালয় নোট ও গাইড বই বিক্রি নিষিদ্ধ করলেও এক শ্রেনীর মোনাফা লোভী ব্যবসায়ী কৌশল বইয়ের প্রচ্ছদ থেকে নোট ও গাইড শব্দটি বাদ দিয়ে সৃজনশীল ‘একের ভেতর সব’ শব্দটি সংযোজন করে বিক্রি করছে। তবে ওইসব বই বিক্রির পেছনে অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জরিত বলে অভিযোগ রয়েছে। সন্দ্বীপে বিভিন্ন স্থানে হাট-বাজারে অবাধে নোট ও গাইড বই বিক্রি হলেও প্রশাসন দেখেও যেন না দেখার ভান করছে। তবে বাণিজ্য জমজমাই হওয়ায় এ নিয়ে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে বাজার বই দোকানে গিয়ে দেখা যায় তাকে সাজানো রাখা হয়েছে অবৈধ নোট ও গাইড বই। নোটও গাইড ব্যবসায়েরা প্রকাশ্যে বিক্রি করছে।সূত্রে জানা গেছে, প্রকাশনী সংস্থা প্রতিষ্ঠান গুলো দ্বিতীয় শ্রেনী থেকে অষ্ঠম শ্রেনী প্রর্যন্ত মূল বইয়ের সহায়ক বই হিসাবে সৃজনশীল শব্দে নোট ও গাইড বই বাজারে ছেড়েছেন। ৫ম ও ৮ম শ্রেণির সৃজনশীল নোট ও গাইড বই গুলোতে আরো সংযোজন হয়েছে প্রথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার সিলেবাস। প্রথমিক স্তরের গাইড বইয়ের বাংল, ইংরেজী, সমাজ, বিঞ্জানসহ সব বই একসঙ্গে সংযুক্ত করে একটি বইয়ের পরিনত করা হয়েছে। অপরদিকে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত সৃজনশীল ‘একের ভেতর সব’ শ্রেণি করে বাংলা, ইংরেজী, সমাজ, বিঞ্জান সহ সববই বিক্রি করছে।২য় শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত নোট ও গাইড বই বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কুমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে তোলে দেওয়া হচ্ছে ওইসব বই। প্রকাশনী সংস্থা প্রতিনিধিরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক সমিতি নেতৃবৃন্দকে উৎকোচ প্রধানের মাধ্যমে নোট, গাইড, বই তালিকা ভুক্ত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিক্রেতারা জানান, পাঞ্জেরি, দিগন্ত, কম্পিউটার, লেকাচার, জুপিটার, পপি, আদিল, থিষ্টার, ফুলকড়ি এসব গাইড বই ৪শ এর থেকে ৬শ টাকাই বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি মাধ্যমিক পর্যায়ের বিভিন্ন প্রকাশনীর বাংলা ব্যাকরণ ও ইংরেজী গ্রামার ২৫০ থকে ৪৫০ টাকাই বিক্রি হচ্ছে। ২য় শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণির গাইড বই ৭০ টাকা থেকে ৩শ টাকা বিক্রি হচ্ছে। নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক জানান, বর্তমান সরকার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল পদ্ধতিতে শিক্ষকদের মাধ্যমে বই এর টেবিলে মনোযোগি হওয়ার জন্য এ ব্যবস্থা চালু করেছেন। এ অবস্থা চললে শিক্ষা ব্যবস্থা একেবারে ভেঙ্গে পড়বে। এই ব্যপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমতআরা জানান, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকনের সরকার কর্তৃক ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত নিষিদ্ধ নোট-গাইড বই বিক্রি সম্পর্কে অবগত নয়। কেউ যদি এনসিটিবির অনুমোদনহীন পাঠ্যবই মুদ্রণ ও কেনাবেচা করে তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে সন্দ্বীপের ৩১ শয্যার হাসপাতাল
এম,গোলাম মোস্তফা লিটনঃ খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে সন্দ্বীপ উপজেলার ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কার্যক্রম, নেহায়েত অর্থের অভাব না থাকলে চিকিৎসা নিতে এখন আসেন না উপজেলাবাসী। যারা আসেন তারা চলমান অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা সেবার দুরবস্থা দেখে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। সরকারী ঔষধ বলতে শুধু মাত্র প্যারাসিটামল আর হিস্টারসিন ছাড়া তেমন কোন ঐষধ নেই এখানে। কলেরা বা ডায়রিয়ার জন্য নেই পর্যাপ্ত ইনজেকশন বা স্যালাইন। সরবরাহকৃত স্যালাইনের সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশও খাবারেরমান এতটাই খারাপ যে, আগত রোগীরা এ খাবার না খেয়ে বাইরে থেকে খাবার এনে খাচ্ছেন। এ অবস্থা দু’দিনের নয়, কয়েক বছর ধরেই সন্দ্বীপ উপজেলা গাছুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ করুন হাল। এ উপজেলায় উড়িরচর সহ একটি অংশ সহ ৪ লক্ষাধিক লোকের বসবাস। চিকিৎসা সেবা বলতে এখানে চিকিৎসার জন্য একটি মাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অথচ এই স্বাস্থ্য কয়েক বছর ধরেই রয়েছে চিকিৎসকের অভাব। কারন একটু গ্রাম্য এলাকা বলে এখানে ডাক্তার সাহেবেরা থাকতে চান না। তারা অল্প কিছুদিন এখানে চাকুরী করেই তদবির করে করে চলে যান শহরে। গাছুয়ায় অবস্থিত সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য প্রকল্পে ডাক্তার নিয়োজিত আছেন মাত্র ৩জন, এই ৩জনকে আউটডোর ও ইনডোরে রোগীদের চিকিৎসা করতে হয়। প্রতিদিন ২০০/৩০০ জন রোগী হাসপাতালে ভীর জমায়। উক্ত হাসপাতালে ৯ জন ডাক্তারের স্থলে আছেন মাত্র ৩ জন। এই হাসপাতালে ঐষধ স্বল্পতা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অপ্রতুলতা, চিকিৎসকের অভাব এবং চিকিৎসকদের দায়িত্ব অবহেলায় গাছুয়া হাসপাতালে সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থা চরমভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। অপর দিকে হাসপাতালের ওয়ার্ডের বিছানা চাদর, বালিশ ও টয়লেটের অবস্থা বড়ই করুন। সুস্থ মানুষ হাসপাতালে গেলেই অসুস্থ হবার আশংকাই বেশি। কাগজ কলমে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও বাস্তবে তা ১৫/১৬ শয্যার বেশি নেই। বাকি শয্যা গুলি অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে, ফলে রোগীরা বাধ্য হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফ্লোরে আশ্রয় নেয়। সরেজমিনে দেখা যায়, দৈনিক শত শত রোগী তাদের নূন্যতম চিকিৎসা সেবা নিতে হাসপাতালের আউটডোরে ভীড় করছে। এখানে না আছে পর্যাপ্ত সংখ্যক ডাক্তার না আছে পর্যাপ্ত পরিমান ঔষধ কিংবা চিকিৎসা সামগ্রী। নয়টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র ৩জন মেডিকেল অফিসার। আর প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে রোগীদের স্থানীয় ফার্মেসী গুলোতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে কৌশলে।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন