আজ মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮ ইং, ০৫ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



ছাত্রলীগের সংবাদ সম্মেলন ‘দুই অধ্যক্ষের কললিস্টে মিলবে প্রমাণ’

Published on 14 January 2016 | 10: 21 am

চট্টগ্রাম কলেজ ও হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ প্রশাসনকে শিবির সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা হিসেবে উল্লেখ করে দুই কলেজের অধ্যক্ষের মুঠোফোনের কললিস্ট যাচাই করলেই বিষয়টি প্রমাণ হয়ে যাবে বলে দাবি করেছে ছাত্রলীগ।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে দুই কলেজ শাখা ছাত্রলীগ। এতে লিখিত বক্তব্যে এ দাবি করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের চলমান আট দফা দাবির পাশাপাশি দুই কলেজের অধ্যক্ষের অপসারণসহ জামায়াত শিবির ক্যাডারদের মদদপুষ্ট শিক্ষকদের অপসারণের দাবিতে নতুন আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

নতুন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৬ জানুয়ারি (শনিবার) চট্টগ্রাম কলেজের প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও, ১৭ জানুয়ারি (রোববার) মহসিন কলেজের প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও, ১৮ জানুয়ারি (সোমবার) দুই কলেজের ক্যাম্পাস থেকে আবাসিক স্থাপনা উচ্ছেদে জনমত গঠনে ক্যাম্পাসের বাইরের চারদিকে চারটি পথসভা এবং ১৯ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) নগর ছাত্রলীগের উদ্যোগে ছাত্র জমায়েত ও সমাবেশ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নগর ছাত্রলীগের সদস্য ও চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র কামরুল হুদা।
কামরুল হুদা লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘শিক্ষার্থী হয়ে আজ আমাদের শিক্ষকদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড সবাইকে জানাতে হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এ দুই কলেজের প্রশাসন শিবিরের সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতা। দুই কলেজের অধ্যক্ষের মুঠোফোনের কললিস্ট যাছাই-বাছাই করলে তা সকলের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে জেনেছি।’

লিখিত বক্তব্যে বলা হয় ‘ছাত্র সমাজ আজ ব্যথিত। দুই কলেজের ক্যাম্পাসের পরিবেশ মোটেও নিরাপদ নয়। আট দফা দাবিতে এক সপ্তাহ ধরে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে আসলেও কলেজ প্রশাসনের অগ্নি মনোভাব কমেনি। উল্টো ছাত্রলীগ মৌন প্রতিবাদ জানানোর কয়েক ঘণ্টা পর হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের এক শিক্ষক এক ছাত্র প্রতিনিধিকে মুঠোফোনে হত্যার হুমকি দিয়েছে।’

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘বুধবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে চট্টগ্রাম কলেজের ভেতরে বিস্ফোরণের ঘটনা এবং মঙ্গলবার (১২জানুয়ারি) রাতে মহসিন কলেজের বিএনসিসি’র কক্ষ থেকে ৪৯ জোড়া বুট জুতো এবং দু’টি ডামি রাইফেল লুট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এক শিবির নেতাকে আটক কিংবা অন্য কোনো অবৈধ অস্ত্র কিংবা জঙ্গি নাশকতার আলামত নষ্ট করতে শিবির এসব কর্মকাণ্ড করছে বলে আমরা মনে করছি।’

এতে বলা হয়, দুই ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে আবাসিক ঘরবাড়ি, মোবাইল রিচার্জের দোকান এবং লন্ড্রি ব্যবসা চালু করে শিবিরের সুপারিশে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে খণ্ডকালীন প্রহরী ও কর্মচারী। পুরো এলাকাজুড়ে সৃষ্টি করা হয়েছে উগ্র জঙ্গিবাদী ভুতুড়ে আস্থানা। যার ফলে গত তিন দশক এ আস্থানাগুলোতে মুক্ত বুদ্ধির চর্চা, সাংস্কৃতিক ও ভ্রাতৃত্বের কোনো পরিবেশের দেখা মেলেনি।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবু মোহাম্মদ আরিফ, কায়সার উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আমির হামজা, ছাত্রলীগ নেতা কামরুল পাভেল, সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান, মো. মহিউদ্দিন, ওবায়দুল হক, মহসিন কলেজ নেতা মায়মুন উদ্দীন, ছাত্রলীগ নেত্রী ফারিয়া আকবর প্রমুখ।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন