আজ বৃহঃপতিবার, ১৬ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০১ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



চট্টগ্রামের বড় ঋণখেলাপিদের জন্য বিশেষ সুবিধা আসছে

Published on 01 August 2018 | 10: 24 am

চট্টগ্রামের বড় ঋণখেলাপিরা আবার বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। খেলাপি হয়ে যাওয়া চট্টগ্রামের এসব বড় ঋণ পুনরায় পুনর্গঠন সুবিধা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এজন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। ঋণ পুনর্গঠনের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখছে এ কমিটি।

অর্থ মন্ত্রণালয় গঠিত এ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত। কমিটির সদস্য করা হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রধান চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিও রাখা হয়েছে কমিটিতে।

কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ঋণখেলাপিদের সুযোগ-সুবিধা দেয়ার বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে কমিটি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এ বছরের মধ্যেই এ সুবিধা পাবেন চট্টগ্রামের ঋণখেলাপিরা। শুধু চট্টগ্রামের ঋণখেলাপিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ভবিষ্যতে দেশের অন্য ব্যবসায়ীরাও এ সুযোগ পাবেন। এজন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন তারা।

জানতে চাইলে কমিটির চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বণিক বার্তাকে বলেন, চট্টগ্রামে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বেশকিছু বড় গ্রাহক ব্যবসায়িক বিপর্যয়ে পড়েছেন। পুনর্গঠন সুবিধা নিয়েও কয়েকটি বড় ব্যবসায়ী গ্রুপ ঠিকমতো কিস্তি পরিশোধ করতে পারেনি। এর বাইরে বড় অনেক ঋণ খেলাপি হয়েছে। এজন্য অর্থমন্ত্রী রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠকে কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের চারজন এমডি যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করে এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করবেন। সে প্রতিবেদন নিয়ে কমিটির বৈঠকে আলোচনা হবে। তবে প্রক্রিয়াটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

শুধু চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা কেন? জানতে চাইলে ড. জায়েদ বখত বলেন, সরকার চাইলে অন্য ব্যবসায়ীদেরও এ সুবিধা দিতে পারে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মালিক সরকার। এজন্য আমাদের সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের সহযাত্রী হতে হয়। তবে এটি চাপিয়ে দেয়ার কোনো বিষয় নয়। কারণ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি গ্রাহকরা বেসরকারি ব্যাংকেরও গ্রাহক।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৫ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করেছে খেলাপি ঋণবিষয়ক টাস্কফোর্স। এর মধ্যে শ্রেণীকৃত ঋণ রয়েছে ১০ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা। এছাড়া অবলোপনকৃত ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। আর আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে ৮ হাজার ৫৯১ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ। যদিও ব্যাংকগুলোর ব্যালান্সশিটে কেবল শ্রেণীকৃত ১০ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকাকে খেলাপি হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে ঋণ আদায়ে খেলাপিদের কিছুটা ছাড় দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর বিকল্প নেই বলে জানান রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বলেন, খেলাপি গ্রাহকদের যে সম্পদ ব্যাংকের কাছে জামানত আছে, তার সব বিক্রি করেও ব্যাংকের পাওনা টাকার অর্ধেক আদায় সম্ভব হবে না। এ পরিস্থিতিতে ঋণখেলাপিদের কিছুটা ছাড় দেয়ার বিকল্প নেই। এজন্যই অর্থ মন্ত্রণালয় খেলাপি গ্রাহকদের জন্য কমিটি গঠন করে দিয়েছে। ভালো গ্রাহকদের কিছু সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ঋণ নিয়মিত করা সম্ভব হলে ব্যাংকের সঞ্চিতি সংরক্ষণের চাপ কমবে। এতে গ্রাহকের পাশাপাশি ব্যাংকও লাভবান হবে।

দেশে প্রথমবারের মতো ঋণ পুনর্গঠন ধারণাটি আসে ২০১৫ সালে। ওই সময় ২০টির মতো শিল্প গ্রুপ ঋণ পুনর্গঠনের আবেদন করলেও ১১টি গ্রুপ এ সুবিধা পায়। বাংলাদেশ ব্যাংক ১৫ হাজার ২১৮ কোটি টাকার ঋণ পুনর্গঠনের অনুমোদন দেয়। তবে ৫০০ কোটি টাকার কম ঋণ রয়েছে, এমন প্রায় ৮০ জন গ্রাহক ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। উচ্চ আদালতে তাদের দায়ের করা রিটের শুনানি চলছে।

২০১৫ সালে পুনর্গঠিত ঋণের মধ্যে ছিল চট্টগ্রামভিত্তিক এসএ গ্রুপ। গ্রুপটির এসএ অয়েল রিফাইনারি ও সামান্নাজের পক্ষে ৯২৮ কোটি টাকার ঋণ পুনর্গঠন করে ছয়টি ব্যাংক। বিপুল অংকের ঋণের সিংহভাগই বর্তমানে খেলাপি। এ অবস্থায় আবারো ঋণ পুনর্গঠন চাইছে গ্রুপটি। একইভাবে চট্টগ্রামের অন্য বড় ব্যবসায়ীরাও ঋণ পুনর্গঠন সুবিধা চান।

রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের এমডি মো. আতাউর রহমান প্রধান বলেন, ঋণখেলাপিদের যেকোনো সুযোগ-সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে অতীতের রেকর্ড দেখতে হবে। অন্যথায় সুযোগ-সুবিধা দিয়েও কোনো লাভ হবে না। কারণ চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা সুযোগ পেলে অন্য অঞ্চলের ব্যবসায়ীরাও একই দাবি তুলবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটির সদস্যদের একজন জনতা ব্যাংকের এমডি মো. আব্দুছ ছালাম আজাদ। কমিটির একটি বৈঠকে অংশও নিয়েছিলেন তিনি। ঋণ পুনর্গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, বিষয়টি একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সোনালী ব্যাংকের এমডি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কী হয়।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন