আজ বৃহঃপতিবার, ১৬ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০১ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



জামিন জালিয়াতি – সুপ্রিমকোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা

Published on 25 July 2018 | 8: 06 am

চট্টগ্রামের ৯০ হাজার পিস ইয়াবা মামলার দুই আসামির জামিন আদেশের কপি জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে সুপ্রিমকোর্টের ফৌজদারি বিবিধ শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অজ্ঞাতদের নামে মামলা করেছে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন।

সুপ্রিমকোর্টের কোর্টকিপার মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে শাহবাগ থানায় এ মামলা করেন। মামলায় সুপ্রিমকোর্টের ফৌজদারি বিবিধ শাখার এমএলএসএস মঞ্জু রাণী কৈরীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। শাহবাগ থানা পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সুপ্রিমকোর্টের স্পেশাল অফিসার ব্যারিস্টার সাইফুর রহমান রাতে যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের ৯০ হাজার পিস ইয়াবা মামলার দুই আসামির জামিন আদেশের কপি জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সুপ্রিমকোর্টের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অজ্ঞাতদের নামে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন মামলা দায়ের করেছে। সুপ্রিমকোর্টের কোর্টকিপার মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে শাহবাগ থানায় এ মামলা করেন। তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নাম এ মুহূর্তে বলা যাবে না।’

আদালত সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের ৯০ হাজার পিস ইয়াবা মামলার দুই আসামি জামিন আদেশের কপি জালিয়াতির মাধ্যমে কারা মুক্তির ঘটনায় কমিটি গঠনের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের বেঞ্চ। ওই দুই আসামি হলেন আহম্মেদ নুর ও মোহাম্মদ রাসেল।

আদালত আদেশে জামিনের আদেশ জালিয়াতির ঘটনাটি সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে অথবা তার অফিসের অন্য কোনো কর্মকর্তাকে দিয়ে খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি করে প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে বলেন।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতকে (মহানগর দায়রা আদালত-৩) আসামিদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারকে প্রধান করে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার), হাইকোর্ট বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) ও হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রারকে (প্রশাসন) সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এ কমিটি ১১ জুলাই ১২ পৃষ্ঠার একটি তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। পরে সেটি হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। সেই প্রতিবেদনে জাল জামিন আদেশ তৈরির ক্ষেত্রে হাইকোর্টের ফৌজদারি বিবিধ শাখার ৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়ী করে তদন্ত কমিটি।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী এ ঘটনায় দায়ী ৯ কর্মকর্তা-কর্মচারী হলেন- ফৌজদারি বিবিধ শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার বেগম সুলতানা, ওই শাখার সুপারিনটেনডেন্ট (তত্ত্বাবধায়ক) মো. মুজিবুর রহমান, রশ রঞ্জন মণ্ডল ও মো. জামাল উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আ. বাসেদ ও মৌসুমী দেব, মুদ্রাক্ষরিক তথা অফিস সহকারী মো. মজিবুর রহমান, মুদ্রাক্ষরিক তথা অফিস সহকারী মো. মনিরুজ্জামান মনি ও এমএলএসএস মঞ্জু রাণী কৈরী। এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ড. জাকির হোসেনকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আলী জিন্নাহ বলেন, চট্টগ্রামের সদরঘাট থানা পুলিশ ২০১৭ সালের ১৮ আগস্ট ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আহম্মেদ নূর ও মোহাম্মদ রাসেল নামে দু’জনকে আটক করে। মামলার পর চার্জশিট দেয় পুলিশ। বিচারও শুরু হয়েছে চট্টগ্রামের মহানগর দায়রা আদালত-৩-এ। এর মধ্যে হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের আদালতের নাম ব্যবহার করে জামিন আদেশ জাল করে কারাগার থেকে বেরিয়ে যান তারা।

তিনি বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে ২৩ মে বিষয়টি নজরে আসার পর প্রথম সেকশনে (হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায়) জামিন সংক্রান্ত নথি খুঁজতে যাই। কিন্তু সেখানে এ জাতীয় কোনো নথি না পাওয়ায় জালিয়াতির বিষয়টি বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চকে অবহিত করি। আদালত বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর সেকশনের সুপারিনটেনডেন্টসহ সংশ্লিষ্টদের জামিন আদেশের মূল কপি ও মামলার নথি হাজির করতে বলেন। পরে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।’


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন