আজ বৃহঃপতিবার, ১৬ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০১ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



হজযাত্রীদের উদ্দেশ্যে আটটি দরকারী পরামর্শ

Published on 24 July 2018 | 2: 11 pm

সৌভাগ্যবান সেই সকল আল্লাহর বান্দা যাদেরকে তার মহান প্রভু নিজের ঘরে মেহমানদারির জন্য কবুল করেছেন। দুর্ভাগ্য তাদের পিছু ছাড়েনি যারা হজ সফরের পরও ঈমান ও আমাল বৃদ্ধি করতে পারেনি।

হজ সফর যেন জীবনের একটা টার্ন হয় এজন্য কিছু পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করব। যদিও এই সফর এত ব্যস্ততা, উত্তেজনা ও আতংকপূর্ণ থাকে যে, নিজের মতো করে চিন্তা করার সময় খুব একটা পাওয়া যায় না, তবুও যে চিন্তা করতে চায়, কিছু গ্রহণ করতে চায় সে তা এমনকি তার ভ্রমণের মাঝেও আদায় করে নিতে পারে। 

১. গুনাহ থেকে যথাসম্ভব বেঁচে থাকার চেষ্টা করুন:

আপনি স্রেফ হজ করতে যাচ্ছেন না, যাচ্ছেন নিজেকে গুনাহমুক্ত করতে। সুতরাং এই ব্যাপারটা মাথায় রাখতে হবে যে, প্রশিক্ষণের সময় যদি নিজেকে গুনাহমুক্ত রাখতে না পারেন তবে ফিরে এসে পারবেন কীভাবে?

হজ কবুল না হলে কিন্তু এই সফরের উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন:

الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَّعْلُومَاتٌ ۚ فَمَن فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ

“হজের নির্দিষ্ট কয়েকটি মাস আছে। যে ব্যক্তি সেসব মাসে নিজের উপর হজ অবধারিত করে নেয় সে হজের সময় কোনো যৌনাচার করবে না, কোনো গুনাহ করবে না এবং ঝগড়া করবে না।” [কুরআন ২:১৯৭]

২. হারিয়ে যাওয়ার আতংকে ভুগবেন না:

প্রযুক্তির এই যুগে হারানো খুব কঠিন। ফাঁসির আসামীও লুকিয়ে থাকতে পারে না, আর আপনার মতো ভি.আই.পি. হারিয়ে যাবে এটা কেমন কথা! সুতরাং হজ পূর্ববর্তী বিভিন্ন আলোচনায় আপনাকে হারিয়ে যাওয়ার যে ভয় দেখানো হয়েছে তা ভুলে যান। ১৯৫৮ সালের হজের কাহিনী থেকে ভয়ের উপদেশ নেওয়া যাবে না।

৩. যা পড়বেন:

অবসর সময়ে সিরাত গ্রন্থ “আর রাহিকুল মাখতুম” আর কুরআনের অনুবাদ পড়বেন। আরবীতে বেশি বেশি করে নবীদের কাহিনীওয়ালা সূরা, আম্মা পারা ইত্যাদি। যারা পারবেন পুরোটা পড়বেন। টার্গেট রাখবেন মক্কা ও মদীনার টোটাল এক মাস সময়ে যেন এই দুইটা শেষ হয়। সেখানে কোনো একাডেমিক কোর্সের পড়া পড়বেন না।

৪. জীবনযাত্রায় শৃঙ্খলা বজায় রাখুন:

ফ্রি পেয়ে বেশি বেশি খাবেন না। ওজন মেপে যান। সফর শেষে যেন ওজন কমে। বন্ধুদের সাথে একদমই আড্ডা দেবেন না। যতটুকু না ঘুমালেই নয় ততটুকু ঘুমাবেন। মনে রাখবেন, যত ঘুমালেন তত কম সময় পেলেন।

৫. নিজের চেয়ে অন্যের সুবিধার দিকে বেশি নজর দিন:

ভুলেও অন্যের আমালের দিকে তাকাবেন না। নিজের টার্গেট পূরণ করুন। ধরে নেবেন যে নিজের রানিং ট্র্যাকে আছেন। অন্যের দিকে তাকানোর সুযোগ নেই। তবে, কেউ ভুল কিছু করলে সুন্দর করে হাসিমুখে শোধরানোর কথা বলবেন। অন্যকে শোধরানোর জন্য উঠেপড়ে লাগবেন না।

৬. ইন্টারনেট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন:

হজের এই সফরে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট বন্ধ রাখুন। সারা দুনিয়ায় প্রচার করার দরকার নেই যে আপনি হজ করছেন। দুআ চাওয়ার উসিলায় এই প্রচারের কোনো মানে নেই।

৭. যা করবেন তা জেনেবুঝে করুন:

সাথে হজ ও উমরার একটা সুন্দর গাইড বই রাখুন। কোনো কিছু মিসিং হলে বা আমালে ভুল হলে আপনার গ্রুপের সাথে থাকা কোনো আলেমের সঙ্গে পরামর্শ করে তারপর সেই অনুযায়ী আপনার করণীয় ঠিক করুন। আতংকিত হবেন না। অনিচ্ছাকৃত ভুল আল্লাহ মাফ করে দেবেন। রসুলুল্লাহ (স)-কে যখন সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করেছিলেন যে এই করতে পারিনি, ওই করতে পারিনি তখন তাঁর অধিকাংশ উত্তর ছিলো: “লা হারাজ”, “লা হারাজ”। “সমস্যা নেই”, “সমস্যা নেই”।

৮. আল্লাহকে বেশি বেশি করে স্মরণ করুন:

সব দুআ বুঝে বুঝে করবেন। মুখস্ত করে করবেন। জোরে জোরে তাকবির দেবেন। লজ্জার কিছু নেই। আপনি শুরু করবেন। দেখবেন বাকিরাও খানিক পরে শুরু করেছে। তাওয়াফের সময় ক্লক টাওয়ারের দিকে তাকাবেন না। আল্লাহর কথা স্মরণ করবেন। তাঁর বড়ত্ব, আযাব আর ক্ষমার কথা স্মরণ করবেন। মাঝে মাঝে মাতাফে বসে কাবার সৌন্দর্য দেখবেন আর আমাদের জন্য দুআ করবেন।

আজ এ পর্যন্তই। আল্লাহ আপনার হজ কবুল করুন।

***


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন