আজ বৃহঃপতিবার, ১৬ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০১ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



ডিসিদের ঔপনিবেশিক মানসিকতা পরিহারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Published on 24 July 2018 | 2: 07 pm

জেলা প্রশাসকদের ঔপনিবেশিক মানসিকতা পরিহার করে সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পাশাপাশি সরকারের নেয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যাতে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়, সেদিকেও লক্ষ রাখতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে এ নির্দেশ দেন।

উন্নয়নের জন্য গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা একান্ত প্রয়োজন। একমাত্র গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই পারে একটি দেশের আর্থসামাজিক উন্নতি নিশ্চিত করতে, যা আমরা প্রমাণ করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশের সম্পদ কাজে লাগিয়ে দারিদ্র্যকে জয় করতে হবে। তৃণমূলে মানুষের সমস্যা সমাধানে উদ্ভাবনী কৌশল কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, ২১ বছর পর যখন সরকারে এসেছি, তখনই আমাদের যুদ্ধগুলো ছিল, যার ফলে দেশটি এগিয়ে যেতে শুরু করেছিল। মানুষ সরকারের সেবা পাচ্ছিল। কিন্তু এর পরে আবার ২০০১-এ যখন আমরা ক্ষমতায় আসতে পারলাম না, ওই মিলিটারি ডিক্টেটরদের হাতে গড়া সংগঠন যখন আবার ক্ষমতায় এলো, অনেক বড় বড় কথা তারা বলতে পেরেছিল। কিন্তু দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেনি। মানুষকে দিয়েছিল জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মানিলন্ডারিং, হত্যা ও খুন। এর পর আমরা দেখেছি তাদের সেই বীভৎস চেহারা। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে তাজা মানুষ হত্যা করা। আর সরকারি সম্পদ পুড়িয়ে ফেলা। তো এখানেই হচ্ছে নীতির একটি তফাৎ থাকে।

আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয়ে ক্ষমতায় এসেছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী সব উন্নয়ন প্রকল্প যাতে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেন।

এ সময় দেশের জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দূর করতেও জেলা প্রশাসকদের নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে এ সম্মেলন উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকরা ছাড়াও মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদের কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন।

সিটি কর্পোরেশন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সরকারি কাজ বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে আইনি সুরক্ষাসহ আরও বেশ কিছু জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্মেলনে আলোচনা করা হবে। এ ছাড়া চলমান মাদকবিরোধী অভিযানসহ বন্যা, বাঁধভাঙা ও পাহাড়ধস নিয়েও সম্মেলনে আলোচনা হবে। উদ্বোধনী দিনে ডিসিরা বিভিন্ন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার সুযোগ পাবেন।

এবারের সম্মেলনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সম্পর্কিত ডিসিদের ৩৪৭টি প্রস্তাব থাকছে। ডিসিদের বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শুনবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ ছাড়া প্রশাসনকে গতিশীল করতে ও তৎপরতা বাড়াতে তিনি ডিসিদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, ডিসি সম্মেলন মাঠ প্রশাসনের সবচেয়ে বড় সম্মেলন।

এখানে ডিসিরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান। জেলার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরতে পারেন।

মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ করেন। এর পর সভা থেকে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়।

প্রতি বছরের মতো এবারও ডিসি সম্মেলনে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের সুপারিশ করা হবে।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দিকনির্দেশনা নেবেন জেলা প্রশাসকরা।

পর দিন বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে সমাপনী অধিবেশন।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন