আজ বৃহঃপতিবার, ১৬ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০১ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



মাকসুদুর রহমান (মোক্তার) এর ৫২ তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ

Published on 15 July 2018 | 10: 07 am

দি আজাদ ও দৈনিক পাকিস্তান এর সন্দ্বীপ সংবাদদাতা মাকসুদুর রহমান (মোক্তার) এর ৫২ তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ। এই মহান ব্যক্তি সম্পর্কে সন্দ্বীপের বর্তমান প্রজন্ম তেমন কিছুই জানেনা।  সৌভাগ্য ! ওনার সুযোগ্য পুত্র সন্দ্বীপ সরকারী কার্গীল হাইস্কুল প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান লিংকন তার ফেসবুকে পিতার মৃত্যু দিবসে স্মৃতিচারণ করে যে লেখাটি প্রকাশ করেছেন তা সোনালী নিউজের পাঠক তথা বর্তমান প্রজন্মের কাছে একটি ঐতিহাসিক দলিল হয়ে গেল।

জনাব সাইফুর রহমান লিংকনের লেখাটি হবহু সোনালী নিউজের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল- সম্পাদক।

Image may contain: 1 person

 

আজ ১৫ জুলাই আমার আব্বা মাকসুদুর রহমান (মোক্তার) এর ৫২ তম মৃত্যু বার্ষিকী। ১৯৬৬ সালের এই দিনে মাত্র ৩৭ বৎসর বয়সে ইন্তেকাল করেন। আব্বার কোন স্মৃতি আমার মনে নেই । তখন আমরা ছোট ছিলাম।

আব্বার সংক্ষিপ্ত জীবনী :- (লিখেছেন- সাইফুর রহমান লিংকন, মরহুম মাকসুদুর রহমান (মোক্তার) এর পুত্র)

১ জানুয়ারী ১৯২৯  সন্দ্বীপের বাটাজোড়া ইউনিয়নের বাউয়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তিনি তৎকালিন পুর্ব পাকিস্তানের জাতীয় পত্রিকা “দি আজাদ” ও “দৈনিক পাকিস্তান” সন্দ্বীপ এর সংবাদদাতা ছিলেন।
সন্দ্বীপ এর ছাত্র – ছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষার সুবিধার্থে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন এবং সন্দ্বীপ সরকারি হাজী এ বি কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন সাংগঠনিক কমিটির সাধারন সম্পাদক এবং মরহুম অ্যাডভোকেট এ ডি এম মোয়াহেদুল মাওলা (জামসেদ মিয়া) ছিলেন সভাপতি।
সন্দ্বীপ মডেল হাই স্কুল থেকে এস এস সি পাশ এবং পরবর্তীতে আই এস সি পাশ করে ভর্তি হন ঢাকাস্থ আহসান উল্লাহ ইন্জিনিয়ারিং ইনষ্টিটিউশনে, (রাজনৈতিক কারনে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া শেষ করতে পারেননি) পাশাপাশি আইন বিষয়েও পড়াশুনা করেন ।
ঢাকা অবস্থান কালিন সময়ে ১৯৪৯ সালে ঢাকাস্থ সন্দ্বীপ অ্যাসোসিয়েশন গঠনে উদ্যোগ গ্রহন করেন। তিনি উক্ত সংগঠনের তিন জন উদ্যোক্তার একজন। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম সম্পাদক এবং একই মেয়াদে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৪৯ সাল থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত ঢাকাস্হ সন্দ্বীপ অ্যাসোসিয়েশনের সকল কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহন করেন এবং এই সংগঠনের প্রানসঞ্চার করেন । ঢাকায় তিনি সন্দ্বীপ এর বিশিষ্ট জনদের নিয়ে সন্দ্বীপ এর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানকল্পে নানাবিধ আন্দোলন ও সরকারি পর্যায়ে দেন দরবার করেন ।
১৯৫০ সালে তিনি এ সংগঠনের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব ভার গ্রহন করেন। ১৯৫০-১৯৫১ সালে তিনি অধ্যাপক রাজকুমার চক্রবর্তীর অতিথি হয়ে তাঁর সাথে কলকাতায় অবস্হান করেন এবং কলকাতার সন্দ্বীপ হাতিয়া জনকল্যান সমিতির বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহন করেন।
১৯৫১ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালনকালে গ্রেফতার হন এবং তৎকালীন শীর্ষ ছাত্রনেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এক সাথে অনেকদিন ছিলেন।
১৯৫৩ সাল থেকে সন্দ্বীপে স্হায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং সন্দ্বীপ ফৌজদারি কোর্টে মোক্তার হিসেবে আইন পেশায় যোগ দেন। তিনি বাটাজোড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন এবং একই সময়ে সন্দ্বীপ চেয়ারম্যান সমিতির সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৫৩ সাল থেকে মৃত্যুর পূর্বক্ষন পর্যন্ত সন্দ্বীপ এর আর্থ সামাজিক কল্যান কর্মে নিবেদিত ছিলেন । পুর্নগঠন পরবর্তীতে গঠিত মুসলিম লীগ সন্দ্বীপ শাখার সাধারন সম্পাদক ছিলেন। তাঁরই উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রভাবিত করে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান কে দুই বার সন্দ্বীপ সফরে আসার ব্যবস্থা করেন । কার্গিল হাই স্কুল মাঠে এক গনসংবর্ধনায় আব্বা সহ অন্যান্যদের জোর দাবির প্রেক্ষিতে সন্দ্বীপ – চট্রগ্রাম হেলিকপ্টার সার্ভিস চালুর ঘোষনা দেন, যা এক মাসের মধ্যে কার্যকর হয়।
১৯৫৪ সালে সন্দ্বীপ চট্রগ্রাম জেলার সাথে অন্তর্ভুক্তকরনে তাঁর ভূমিকা ছিল অনবদ্য। ইহা ছাড়াও সন্দ্বীপ এর বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অনেক অবদান রেখে গেছেন।
সন্দ্বীপ হাজী এ বি কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য একটি থোক বরাদ্ধ মন্জুরের জন্য তৎকালীন সন্দ্বীপ এর প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য আব্বার ঘনিষ্ট বন্ধু মরহুম অ্যাডভোকেট এ ডি এম মোয়াহেদুল মাওলা ( জামসেদ মিয়া ) র মাধ্যমে প্রাদেশিক গভর্নর মোনায়েম খানের সাথে ১৯৬৬ সালের ১৬ জুলাই ঢাকায় বিকেলে সাক্ষাতের সময় নির্ধারিত ছিল।

তাই ১৪ জুলাই সন্দ্বীপ থেকে হেলিকপ্টারে চট্রগ্রাম হয়ে ওই দিনই ঢাকায় পৌঁছেন। ১৫ জুলাই ১৯৬৬ ইং সকালে তিনি হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিকেলে আমার খালু মরহুম আব্দুল খালেক চৌধুরী র ( এস পি ) ঢাকাস্থ রেলওয়ে বাংলোর বাসায় ( ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের সামনে ) মৃত্যুবরন করেন।

আব্বার অনাকাঙ্খিত মৃত্যু সংবাদ ৩০ জুলাই ১৯৬৬ সালে দৈনিক পাকিস্তান পএিকায় ছবিসহ প্রকাশিত হয় । মৃত্যুর পর আব্বাকে সন্দ্বীপে এনে নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। আপনারা সবাই আমার আব্বার জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন উনাকে জান্নাত বাসি করেন এবং আমার আম্মা ৮৮ বৎসর বয়সে অসুস্থ অবস্থায় আমাদের সাথে আছেন ।No automatic alt text available.


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন