আজ শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



মহিষের গুঁতোয় ১ জন নিহত : নারী ও শিশুসহ আহত ৫

Published on 16 May 2018 | 10: 53 pm

জবাই করতে নেয়ার সময় দড়ি ছিঁড়ে পালিয়ে যাওয়া মহিষের শিংয়ের গুঁতোয় নগরীতে একজন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন নারী ও শিশুসহ আরো ৪/৫জন। বাকলিয়া থানার রসুলবাগ আবাসিকের খালপাড় এলাকায় গতকাল সকাল পৌনে আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম মজিবুল হাসান (৪০)। তিনি পটিয়া থানার সৈয়দবাড়ির মৃত সামসুল হুদার ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রসুলবাগ আবাসিক এলাকার সি ব্লকে থাকতেন।

আহতদের মধ্যে সাফুরা বেগম (৩৮) হাবিব নামে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। সাফুরা বেগমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়েলিটি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভপুর এলাকার বাসিন্দা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাবুল কোম্পানি নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি রমজানকে সামনে রেখে মহিষটি নিয়ে আসে বিক্রির জন্য। সকালে জবাইয়ের জন্য খালপাড়ে নেয়া হলে মহিষটি দড়ি ছিঁড়ে পালিয়ে যায়। ক্ষিপ্তগতিতে ছুটে চলা মহিষটি যাকেই সামনে পেয়েছে তাকেই শিং দিয়ে গুঁতো দেয়। এসময় সন্তানকে স্কুলে দিয়ে বাসায় ফিরছিলেন মজিবুল হক। আকস্মিকভাবে মহিষটি তাকেও আক্রমণ করে বসে। শিংয়ের গুঁেতায় রক্ত রণ হয় তার। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে তাকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে মহিষটি আঘাত করে পথচারি সফুরা বেগম এবং রাজমিস্ত্রি হাবিব এবং এক শিশুকে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ–পরিদর্শক (এএসআই) শীলাব্রত  বলেন, রসুলবাগ আবাসিকের খালপাড়ে পাগলা মহিষের শিংয়ের গুঁতোয় আহত দুইজনকে সকালে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মুজিবুল হাসানকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সাফুরা বেগম ক্যাজুয়েলিটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

রাসুলবাগ সমাজকল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইউনুস জসীম বলেন, ‘শবে বরাত, রমজান, মহরমসহ নানা ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় গরু–মহিষ জবাই করা হয়। অপেশাদার লোকজন এসব গরু–মহিষের মাংস বিক্রি করে থাকেন। সেইরকম রমজানকে সামনে রেখে রসুলবাগ আবাসিকের খালপাড়ে মহিষটি জবাই করার জন্য আনা হয়েছিল। সকালে জবাই করতে আনার সময় রশি ছিঁড়ে মহিষটি পালিয়ে যায়। এসময় যাকে পেয়েছে তাকেই আঘাত করেছে মহিষটি। কারা মহিষটি জবাই করতে এনেছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কালু কোম্পানি এনেছিল। আমরা বিভিন্ন সময়ে এখানে যারা গরু–মহিষ জবাই করে তাদের মানা করতাম। কারণ রাস্তার উপর গরু–মহিষ জবাই করলে পথচারিদের চলাচলে অসুবিধা হয়। বাইরে থেকে জবাই করে এনে বিক্রিতে আমাদের আপত্তি ছিল না।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন