আজ মঙ্গলবার, ২১ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০৬ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



বিভীষিকা : ২৯ এপ্রিল ১৯৯১

Published on 30 April 2018 | 3: 34 am

:: নাহার শামস ::

২৯ এপ্রিল ১৯৯১।
খুব একটা জানান দিয়ে আসেনি।
সারাদিন গুমোট ভাব। সিগনাল ছিল। তিনটের পর থেকে অল্প অল্প বৃষ্টি ।
নিয়ম অনুযায়ী শীপে যাদের পোস্টিং সবাই সিগনাল হলেই শীপে চলে যেতেন।
আমরা তখন পতেংগায় থাকি।পতেংগায় যারা বসবাস করেছেন তারাই জানবেন বাতাসের তীব্রতা সেখানে কেমন থাকে।
হাজার হায়েনার হাসি আর দৈত্যদের নাচন ক্রন্দন !সে এক ভয়ংকর পরিস্হিতি! ঝড়বৃষ্টি তুফানের সাথে বসবাস জন্ম থেকেই। তাই অতটা গুরুত্ব দিইনি।ছোট্টভাইটা আর কোলের বাচ্চাটাকে নিয়ে ঘরে একা।বিকেলেই বিল্ডিংয়ে সবাই একসাথে বসে গল্প করেছি।সেদিন ছাদে না গিয়ে সবাই রূপাদের বাসায় চা খেয়েছি। দিনটির ভয়াবহতা এত বুঝিনি কেউ।
দরজা জানালা ঠিকমত লাগাতে পারিনি।পবন অনেক ছোট। আর নাগিব কোল থেকেই নামছিলইনা। কতক্ষণ পরপর বলছিল আম্মুজী আগুন! রাত এগারোটার পর পৃথিবী চুরমার হয়ে যাচ্ছিল।জানালার গ্লাস সব ভেংগে গেল।ড্রইং রুমে দুই ভাইবোন বসে বসে কাঁপছি।
হঠাৎ দরজায় করাঘাত। রফিক ভাই ভাবী, রইস ভাবী, মালেক ভাবী, বোরহান ভাবী ডাকছেন।সবাই রইস ভাবীর ঘরে। বিল্ডিং থরথর করে কাঁপছিল।শব্দের প্রচণ্ডতায় কেউ কারো কথা শুনছিনা।সেবার উপকূলীয় অঞ্চলের একতলা ভবনগুলো ভেংগে চুরমার হয়ে গিয়েছিল।মানুষের আর্তচিৎকার ঝড়ের তাণ্ডব থেকে আলাদা করা যাচ্ছিলনা।
প্রাণে বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে দেখলাম শতশত মৃত লাশ। মানুষ আর প্রাণীর মৃতদেহ একসাথে পাশাপাশি ভেসে আসছিল।উঃ! কি করুণ সেই দৃশ্য!
সব ভুলে আবারও সবাই ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম।কিন্ত রেললাইনের উপর জড়াজড়ি করে শুয়ে থাকা নার্সারীর ছাত্রী প্রিয় নীলা আর তার মায়ের নিথর হওয়া লাশটার কথা মনে হলে এখনও চোখ ছলছল করে। আল্লাহ একানব্বইয়ের বিভীষিকা যাদের কেড়ে নিয়েছে তাদের আপনি বেহেশতে শান্তিতে রাখুন। আমিন।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন