আজ মঙ্গলবার, ২১ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০৬ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



২৯ এপ্রিল ১৯৯১

Published on 28 April 2018 | 9: 06 am

:: আকতারুজ্জামান মোহাম্মদ মোহসীন ::
 
কিছু স্মৃতি আছে যা মানুষ ইচ্ছা করলেও ভুলতে পারে না । স্মৃতি থেকে হারাতে না পারলেও সময়ের গহ্বরে হারিয়ে গেছে ২৭টি বছর । যার বয়স এখন ৩২ বছর সেও ভুলতে পারেনি সে দিনের ভয়াবহ স্মৃতি । কারণ এটা এমন স্মৃতি ছিল যা জীবন জয়ী হয়ে আছে সবার হৃদয়ে । হারিয়ে গেছে অনেক মুল্যবান জীবন, মানুষের অনেক কষ্টের সম্পদ । হয়তো মানুষ জীবনের তাগিদে আবার স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে, কিন্তু মন থেকে মুছতে পারেনি সেদিনের সেই স্মৃতিকে । সে স্মৃতি কখনও ভুলা যায়নি, যাবেও না । সে স্মৃতির গল্প আজকের মানুষের কাছে ভয়ানক কোন গল্পকেও হারিয়ে দেবে । এত ভয়াবহ গল্প কোন লেখকের পক্ষে সম্ভব নয় । এমন দৃশ্য কোন সিনেমায় দেখা যাওয়া সম্ভব নয় ।
 
অন্য দিনের মত সেদিনও আকাশে মেঘ করেছিল, থম থমে গুমট আবহাওয়া । ভয়াবহ বিপদ সংকেতেও গাছের পাতাও নড়ছে না । এমন দিনে সচরাচর কালবৈশাখী, ঝড় হয়ে থাকে । আতঙ্কিত হওয়ার তাগিদ অনুভব হয়নি । এমনটা সন্দ্বীপের মানুষের কাছে নতুন কিছু নয় । যাদের জীবনের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হয় তাঁদের এমন আবহাওয়ায় উতলা হলে চলে না । তাই হয়তো সেদিনও মানুষ তেমন ভাবে ভেবেছিল । জীবনের তাগিদে হয়তো তারাও চলছিল অন্য সব সময়ের মত । কিন্তু সেদিনের সেই আবহাওয়া এমন ভয়াবহ হয়ে সবাইকে সর্বস্বান্ত করে দিয়ে যাবে তা কি কেউ গুনাক্ষরেও ভেবেছিল ? হয়তো ভাবেনি । তারই মাশুল দিতে হয়েছিল জীবন দিয়ে, আপনজন হারিয়ে, নিজেদের সর্বস্ব হারিয়ে ।
 
সেদিন আমরা লক্ষ্য করেছিলাম, সেই ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বেড়ী বাধের কাছের মানুষগুলো । কারণ তারাই ঐ ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের প্রথম কবলে পরেছিল । যেখানে বাধের অবস্থা বেশি খারাপ ছিল, সেখানেই ছিঁড়েছিল, আর তার সামনে যা পরেছিল তাই এক স্রোতে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল । সেই বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো এখনো বেঁচে আছে ভয়াবহ স্মৃতি বুকে নিয়ে । কিন্তু এখনো সন্দ্বীপের মানুষগুলোকে সেই বেড়ী বাধের উপর নির্ভর করে বসবাস করছে । এখনো তাঁদের প্রথম ভরসা বেড়ী বাঁধ ।
 
আজ সেই ২৯শে এপ্রিল ১৯৯১ সালকে সরণ করতে গিয়ে নিজের মন থেকে কিছু তাগিদ অনুভব হয় । মানুষ অনেক কিছু সাথে প্রতারনা করতে পারে, কিন্তু জীবনের সাথে প্রতারনা করতে পারে না । কারণ জীবন যার প্রতারনা তাকেই ফেরত দিয়ে দেয় । কিন্তু আমাদের কিছু কাজ থাকে যা অন্যের এটা বুঝার কথা নয় । আমাদের সন্দ্বীপ পারাপারের যাতায়াত ব্যবস্থা, চিকিৎসার হাসপাতাল, লেখাপড়ার স্কুল ইত্যাদির সাথে এমন অনেকে জড়িত যারা হয়তো সন্দ্বীপের আপন কেউ নয়, নয়তো সন্দ্বীপকে মনে প্রাণে ভালবাসে না । তা নয়তো এমন সব ব্যবস্থা এমন ঝুঁকিপূর্ণ এবং এমন ভঙ্গুর হতো না ।
 
তারই একটি হচ্ছে আমাদের বেড়ী বাঁধ । আজ যে বেড়ী বাধের সংস্কার হচ্ছে সে বেড়ী বাধকে যেন শুধু কোন ঠিকাদারের কাজ, শুধু সরকারের কোন প্রকল্প, শুধু প্রশাসনের দায় মনে করা না হয়, এটাকে যেন সন্দ্বীপের ভরসা, মানুষের নিরাপত্তা, মানবতার রক্ষাকারী হিসাবে বিবেচনা করা হয় । এখানে যেন সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিকতা থাকে, মনে থাকে যেন সেই ভয়াল ২৯শে এপ্রিলের কথা । এ বাঁধ যেন সঠিক, মান সম্মত, টেঁকসই হয় সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে । মানুষের বেঁচে থাকার জন্য, মানুষের ভরসার জন্য, মানবতার অধিকারের জন্য এ বেড়ী বাধের সাথে যেন কেউ প্রতারনা না করে । সব শেষে ২৯শে এপ্রিল ১৯৯১ এর ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, মহামারীতে আমাদের আপনজন যারা আমাদের ছেড়ে পরপারে গেছেন তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি । আল্লাহ তাঁদের সকলকে জান্নাতবাসী (সর্গ) করুন । আমীন ।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন