আজ মঙ্গলবার, ২১ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০৬ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



চট্টগ্রামে জব্বারের বলীখেলা – ঘাম ঝরানো লড়াইয়ে চ্যাম্পিয়ন চকরিয়ার জীবন বলী

Published on 26 April 2018 | 4: 13 am

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলার ১০৯তম আসরে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরেছেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার জীবন বলী। শরীরের সব শক্তি ও টেকনিক দিয়ে কুমিল্লার শাহজালাল বলীকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি।

বুধবার বিকালে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে করতালি ও ঢাকঢোলের বাদ্য-বাজনার তালে তালে উত্তেজনাপূর্ণ এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চ্যাম্পিয়ন বলীকে বিজয়ের মুকুট পরিয়ে দেন।

এর আগে বিকাল ৪টায় বলীখেলার জন্য স্থাপিত মঞ্চে খেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মাসুদ উল হাসান। বেসরকারি টিভি চ্যানেল ‘চ্যানেল আই’ খেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করে। বরাবরের মতো বেসরকারি মোবাইল অপারেটর কোম্পানি বাংলালিংক ছিল খেলার স্পন্সর।

এদিকে ১০৯ বছরের এই বলীখেলাকে বিশ্ব ঐতিহ্য বা ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য দাবি জানানো হয়েছে আয়োজকদের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি খেলার প্রতিষ্ঠাতা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আবদুল জব্বারকেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের দাবি জানানো হয়।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুবকদের সংঘটিত করার জন্য এবং স্বাধিকারের চেতনা উদ্বুদ্ধ করতে তিনি এ খেলার প্রচলন করেছিলেন। ব্রিটিশরা তাকে খানবাহাদুর উপাধি দিলেও তিনি সেই উপাধি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

তাই আবদুল জব্বারকে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদানের দাবি জানানো হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলীদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি একাডেমি করার ঘোষণা দেন।

আবদুল জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা আয়োজক কমিটির সভাপতি জহরলাল হাজারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেডের রিজিওনাল ডিরেক্টর সৌমেন মিত্র, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আমেনা বেগম।

উপস্থিত ছিলেন আবদুল জব্বারের নাতি এবং আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ারা বদল।

খেলা শেষে বিজয়ী জীবন বলীকে নগদ ২০ হাজার টাকা এবং চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেয়া হয়। রানারআপ শাহ জালাল বলী পান নগদ ১৫ হাজার টাকা ও একটি ট্রফি। তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

এ ছাড়া প্রথম রাউন্ডে জয়ী সবাইকে নগদ এক হাজার টাকা করে পুরস্কার দেয়া হয়।

চ্যাম্পিয়ন পর্বের জন্য ১৫ মিনিট সময় নির্ধারিত ছিল। বিকাল সাড়ে ৫টায় শুরু হয় জীবন বলী ও শাহজালাল বলীর লড়াই। দ্রুত সময় ফুরিয়ে গেলেও কেউ কাউকে হারাতে পারছিলেন না। দু’জনের শরীর দিয়ে দর দর করে ঝরছিল ঘাম।

পিপাসায় কাতর দুই বলী পানি এবং খানিকটা বিশ্রাম চাইলেও খেলার নিয়মে না পড়ায় তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারছিলেন না রেফারি। শেষ পর্যন্ত দুই বলীর সম্মতিতে পানি দেয়া হলেও বিশ্রাম দেয়া হয়নি।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বারবার তাগাদা দেয়া হচ্ছিল নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই খেলা শেষ করতে। আগেই সিদ্ধান্ত ছিল, এবার কোনোভাবেই যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হবে না। শেষ পর্যন্ত ১৬ মিনিটের মাথায় চকরিয়ার তারেকুল ইসলাম ওরফে জীবন বলীকেই চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেন খেলার প্রধান রেফারি আবদুল মালেক।

এর আগে সেমিফাইনালে মহেশখালীর মোহাম্মদ হোসেনকে হারিয়ে কুমিল্লার শাহজালাল বলী, উখিয়ার জয়নাল বলীকে হারিয়ে চকরিয়ার তারেকুল ইসলাম ওরফে জীবন বলী ফাইনালে উন্নীত হন।

এবার ১০৯তম আসরে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টাঙ্গাইল, কুমিল্লাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ১০২ বলী নিবন্ধন করলেও ৮৬ বলী খেলায় অংশ নেন।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন