আজ মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ ইং, ০২ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



প্রাক-বাজেট আলোচনায় আইসিএবির অভিযোগ – আয়কর রিটার্নে ভুয়া অডিট রিপোর্ট জমা দেয়া হচ্ছে

Published on 25 April 2018 | 3: 10 am

আয়কর রিটার্নের সঙ্গে ভুয়া অডিট রিপোর্ট জমা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে পেশাদার হিসাববিদদের সংগঠন ইন্সটিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)।

সংগঠনটির মতে, আয়কর রিটার্নের সঙ্গে গত বছর ৩৫ হাজার অডিট রিপোর্ট সংবলিত ফাইল জমা দেয়া হয়েছে। অথচ আইসিএবির সদস্যভুক্ত ফার্মগুলো ১৬ হাজার ফাইলে স্বাক্ষর করেছে।

তাহলে বাকি প্রায় ১৯ হাজার আয়কর ফাইল কারা স্বাক্ষর করেছে? অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর যোগসাজশে ভুয়া অডিট ফার্মের সই করা প্রতিবেদন আয়কর ফাইলে জমা দেয়া হয়েছে।

সোমবার প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এ উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন আইসিএবির নেতারা। এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় মুদ্রণ শিল্প ও সিগারেট খাতের প্রতিনিধিরা তাদের বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন।

আইসিএবির সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবীর সমস্যা সমাধানে আইসিএবির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফার্মের তালিকার সঙ্গে জমা দেয়া ফাইলে স্বাক্ষরকারী ফার্মের তথ্য মিলিয়ে দেখতে আসছে বাজেটে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।

এছাড়া বাজেটে নেয়া সিদ্ধান্ত পূর্বের বছরের আর্থিক কর্মকাণ্ডের ওপর আরোপ না করা, আয়কর ফাইলে কোম্পানির দেয়া বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর স্বাক্ষর থাকা নিশ্চিত করা, বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) নিশ্চিত করাসহ বেশকিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি।

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর (বিএটিবি) চেয়ারম্যান গোলাম মাঈনুদ্দিন বলেন, উচ্চস্তরের সিগারেটের ওপর শুল্ক-করের হার অনেক বেশি। ফলে চোরাচালানও হয়। সিগারেটের বাজারের ৮০ শতাংশই এখন নিম্নস্তরের তামাকের হাতে চলে গেছে।

এছাড়া এ খাতের কোম্পানির ওপর সাড়ে ৪৭ শতাংশ কর আরোপ হওয়ায় (আড়াই শতাংশ সারচার্জসহ) বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তা নেতিবাচক বার্তা দেয়। অন্যান্য দেশে সিগারেট খাতের ওপর কর হার বিবেচনায় নিয়ে এ খাতের কর কাঠামো ঠিক করার প্রস্তাব দেন তিনি। এ সময় বিএটিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেহজাদ মুনীম বলেন, উচ্চস্তরের স্থলে নিুস্তরে সিগারেটের বাজার চলে যাওয়ায় গত ১১ বছরে সরকার প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সিগারেট শিল্প থেকে বড় অংকের রাজস্ব পায় সরকার। যদিও এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু বন্ধ করে দেয়া যাবে না।

এটি বন্ধ করলে চোরাচালান বেড়ে যাবে। এটি রেখেই কিভাবে চোরাচালান বন্ধ করা যায় সেটা দেখতে হবে। আসন্ন বাজেটে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। বিড়ি, তামাক, জর্দ্দা, গুল এই খাতগুলোতে করের হার বাড়াতে হবে। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ক্ষতি।

আস্তে আস্তে এগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, সারা বিশ্বেই সিগারেট চলে। আমরা সিগারেট কারখানা বন্ধ করলে মানুষ অন্য নেশায় ঝুঁকবে। যেমন ইয়াবা সিগারেটের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিকর ও দামি। তবে কোনোভাবেই সিগারেটকে উৎসাহিত করা যাবে না।

বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির চেয়ারম্যান তোফায়েল খান স্থানীয় শিল্প রক্ষায় দেশে বই আমদানির ওপর শুল্ক-কর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে বলেন, বই ছাপানোর মৌসুমে কাগজ মিলগুলোর কাছে ব্যবসায়ীরা জিম্মি হয়ে পড়েন। এ সময়ে কাগজের দাম বাড়িয়ে দেয়া ও নিুমানের কাগজ দেয়া হয়।

প্রাক-বাজেট এ আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

90Shares


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন