আজ মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮ ইং, ০৫ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



অসীম সাহসী অকুতোভয় একজন মানুষ দেশরত্ন শেখ হাসিনা !

Published on 19 April 2018 | 3: 53 am

।। চন্দন দত্ত ।। নিউইয়র্ক থেকে ।।

২০০৭ এ সেনা-শাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার জননেত্রী শেখ হাসনিাকে ‘’দেশের জন্য বিপজ্জনক” ঘোষণা দিয়ে তাঁর দেশে ফেরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করেছিল। শুধু তাই নয়, সরকার এক তথ্যবিবরণী জারী করে তাঁর বক্তব্য-বিবৃতি-মতামত প্রকাশের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারী করেছিল।
আমার পরম সৌভাগ্য আজকের এই দিনটিতে আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার সান্নিধ্যে কাটিয়েছিলাম, একজন অসীম সাহসী অকুতোভয় মানুষকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছিলাম। দিনটি ছিল ১৮ এপ্রিল, বুধবার,২০০৭ এবং স্থান ছিল ওয়াশিংটন ডি.সি ।
তখন বেশ কিছুদিন ধরে জননেত্রী শেখ হাসিনা-র উপর নানা-রকম হয়রানীমূলক আচরণ করে আসছিল সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার।তৎকালীন সরকারের এই বৈষম্যমূলক আচরণের উপর নজর রাখছিল যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কংগ্রেস ও সিনেটের প্রভাবশালী সদস্যরা। সরকারী এই প্রেসনোটের প্রেক্ষিতে এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হুমকীর মুখে পড়ার এইসংকটাপন্ন সময়ে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সমর্থন জানাতে তাঁর সাথে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী কংগ্রেস সদস্য। সেদিন তাঁরা জননেত্রীকে সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং তারই ধারাবাহিকতায় তাঁর গ্রফতারের পর প্রতিবাদ, নিন্দা ও মুক্তির দাবীও জানিয়েছিলেন।

Image may contain: 1 person, text

সেদিন দুপুরে আপার কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার প্রাক্কালে আপা বললেন, “খাবার সময় হয়ে গেছে, চল এক সাথে খেয়ে নিই।” তাই দুপুরের খাওয়ারের জন্য আপাসহ আমরা মানে সজীব ওয়াজেদ জয়, গোলাপ ভাই, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের তৎকালীন সভাপতি খালেদ ভাই, ভাবী, তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদভাই, যুবলীগ নেতা এম এ রহিম ও আমি পৌঁছে গেলাম ‘ওয়াশিংটন গ্রীলে’ ।
খাওয়ার অর্ডার শেষে পরিবেশনের লম্বা অপেক্ষমাণ সময়টুকুতে নেত্রী জাতির জনকের নির্মম হত্যার পরবর্ত্তী সময়ে তাঁর নির্বাসিত জীবনের নানান ঘটনার স্মৃতিচারণ করে ঐদুঃসময়ে যাঁরা তাঁকে সহযোগিতা করেছিলেন তাঁদের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করলেন।তিনি আরো বললেন যে অনেক রক্তের বিনিময়েএই দেশ আমরা স্বাধীন করেছি। বাংলাদেশকে নিয়ে জাতির জনকের একটি স্বপ্ন ছিল, উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে বাংলাদেশ আজ পর্যন্ত এসবের কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি।জাতির জনকের সোনার বাংলার স্বপ্ন আজো পূরণ হয়নি। তিনি বাংলাদেশকে নিয়ে তাঁর স্বপ্নের কথাও বললেন, আমাদেরকে এক সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখালেন। তিনি বিরোধী দলীয়নেত্রী হিসেবে বিগত বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্মেলনে তাঁর যোগ দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা বললেন এবং মাদ্রিদ সম্মেলনের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করলেন।

Image may contain: text
এর মধ্যে খাবার এসে গেল, খাওয়ার শেষে নেত্রীর কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার পালা। নানান হুমকী- আশংকার মধ্যেও ২৩ এপ্রিল ওয়াশিংটন থেকে দেশে ফিরার সিদ্ধান্তে তিনি অটল। আমি উঠে দাঁড়িয়েছি, আমার চোখ ছলছল করছে —কাছেগিয়ে আপাকে বললাম, “এখানে আর কিছু দিন থেকে গেলে হয়না”। তিনি ষ্পষ্টভাবে এবং দৃঢ়তার সাথে বললেন, “আমার অবস্থা ‘একুইনোর’ মতহলেও আমি দেশে ফিরে যাব। আমি দেশে ফিরেনা গেলে ওরা আমার দেশ, দেশের জনগণ, এবংআমার দলকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে।” তিনি দেশের জনগণ এবং তৃনমূল নেতা কর্মীদের উপর তাঁর আস্থার কথা বারবার উল্লেখ করলেন।বাংলাদেশের ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবেনা বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন।
আমি বঙ্গবন্ধুকে দেখিনি, কিন্তু অবাক বিস্ময়েএকজন আত্মপ্রত্যয়ী, অসীম সাহসী শেখ হাসিনাকে দেখলাম! নেত্রী কতটুকু দৃঢ়তা নিয়েএকথাগুলে বলেছিলেন তা লিখে প্রকাশ করা যাবে না। তিনি আমাদেরকে যে কোন পরিস্থিতিতেঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
আমি সেদিনটির কথা ভাবছি। আমরা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়লেও তাঁকে একটি বারের জন্যও বিচলিত হতে দেখিনি। শত অন্যায়-অবিচার, ভয়-ভীতি, জেল-জুলুম , প্রাণনাশের চেষ্টা, ঘাত-প্রতিঘাত সব কিছু অবজ্ঞা করে, সব কিছুর উর্দ্ধে উঠে বাঙালী জাতির ভালবাসায় সিক্ত হয়ে তাঁর মাথা আজ হিমাদ্রীর উচ্চতায় উড্ডীন এবং ভাবমূর্তি সূর্য্যের প্রখরতায় ভাস্বর ও প্রদীপ্ত। তিনি সেদিন যে স্বপ্নের কথা বলেছিলেন আজ তা বাস্তব রূপ নিয়েছে। আমি তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

 


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন