আজ মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮ ইং, ০৫ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



ফেসবুক ব্যবহারে রুচি ও শালীনতার পরিচয় দিন

Published on 18 April 2018 | 4: 15 am

 :: লিয়াকত হোসেন খোকন  ::

ফেসবুক ফেক আইডিতে ভরপুর। কেন জানি মনে হয়, শতকরা ৬০ ভাগই ফেক আইডি। একটি চক্রই আছে, যাদের বিভিন্ন নামে ফেসবুক আইডি রয়েছে। এদের কাজই হল, বিভিন্নভাবে প্রতারণা করা। বিশেষ করে নারীদের সঙ্গে। নারীদের ছবি শেয়ার করে আজেবাজে কমেন্ট করা যেন এখন রেওয়াজ হয়ে গেছে প্রতারক চক্রের কাছে। কখনোবা ফেসবুক বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করে ইনিয়ে-বিনিয়ে প্রেমের কথা বলে, ছবি তুলে বখাটেরা আরেক ধরনের প্রতারণার ফাঁদ পাতে। তারা কোনো সুন্দরী নারীর ছবি দিয়ে ফেসবুকে আইডি খোলে। সহজ-সরল লোকেরা ফেসবুকে অপরূপ সুন্দরী মেয়ের ছবি দেখে স্বাভাবিকভাবেই তাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়। পরে দেখা যায়, সুন্দরীর আড়ালে রয়েছে এক বখাটে প্রতারক। সে এমন সব কথা লেখে বা এমন সব ছবি পাঠায়, তা দেখে কোনো কোনো যুবক মেয়েটির প্রেমে পড়েও যায় এবং এক পর্যায়ে দেখা করার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। কিন্তু সে যে নারী নয়, তা বুঝতে পারে সর্বস্ব হারানোর পর। দেখা যায়, নারীরূপী ওই বখাটে পুরুষটি নির্জন কোনো স্থানে সুযোগ বুঝে তার মোবাইল ফোন, টাকা, স্বর্ণের আংটি ইত্যাদি ছিনিয়ে নেয়।

কিছু যুবকের কাজই হল, মেয়েদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা। এরপর কয়েকদিন যেতে না যেতেই শুরু হয় কুপ্রস্তাব দেয়া। কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে মেয়েটি সম্পর্কে ফেসবুকে আজেবাজে কথা ছড়িয়ে দেয়া হয়। কেউবা আপত্তিকর ছবি তুলে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। আমার তো মনে হয়- যারা ফেসবুক ব্যবহার করছে, এদের একটা অংশ নোংরা শ্রেণীর পুরুষ। এদের কাজই হল, নারীর বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো, তাকে ব্ল্যাকমেইল করা, গভীর রাতে অশ্লীল প্রস্তাবের মাধ্যমে উত্ত্যক্ত করা, পোস্টে আপত্তিকর মন্তব্য করা ইত্যাদি। এরা এতটা চতুর ও বেপরোয়া যে, কোনো মেয়ে তাদের একটি আইডি ব্লক করে দিলে অন্য আইডি দিয়ে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। ফেসবুকে নোংরামি এমন পর্যায়ে চলে গেছে, যা খুবই দুঃখজনক।

ফেসবুক মূলত পত্র মিতালীর ডিজিটাল সংস্করণ। আমি পত্র মিতালী যুগের একজন মানুষ। পত্র মিতালী নামে একটা বইও লিখেছি। এখন এ ৬৬ বছর বয়সে ফেসবুক চালাচ্ছি। এই দুইয়ের মধ্যে তুলনা করে বলব, ফেসবুকের মাধ্যমে খুব সহজেই একজন আরেকজনের খবরাখবর জানতে পারছে, নিত্যনতুন ছবি শেয়ার করতে পারছে। তবে এসব করতে গিয়ে মানুষকে সবসময় শঙ্কিত থাকতে হচ্ছে, কখন না জানি প্রতারণার ফাঁদে পড়তে হয়! ১৯৬৬ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত আমার জীবনে ১০ হাজার পত্র বন্ধু-বান্ধবী এসেছিল, দূর-দূরান্তের এসব অনেক বন্ধুর বাড়িতে গেছি, থেকেছি। পত্র মিতালীর যুগে কোনোরকম প্রতারণা দেখিনি। হয়তো সে যুগের মানুষগুলো ছিল সহজ-সরল। বর্তমানে ফেসবুকে যুক্ত হয়ে যা দেখছি, যা শুনছি- তাতে মনটা বিষিয়ে উঠেছে। কখনও কখনও হতাশা গ্রাস করছে।

এই ৬৬ বছর বয়সে একজন লেখক হিসেবে ফেসবুকে যে কোনো বয়সী ছেলেমেয়েদের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক হতেই পারে এবং এটাই আমার মতো একজন বন্ধু মনোভাবাপন্ন মানুষের কাম্য। তবে কেউ আমার সঙ্গে প্রতারণা করবে, এটা কখনও আশা করি না। কতিপয় নোংরা মনের অধিকারী মানুষের মন-মানসিকতার পরিবর্তন ছাড়া ফেসবুকের এ প্রতারণা থেকে রক্ষা অসম্ভব বলেই মনে হয়। ফেসবুকে থেকে সুন্দর ও শালীনভাবে ফেসবুক চালানোর প্রতিশ্র“তি চাই সবার কাছে। ফেসবুক হোক সুন্দর ও আনন্দময়, এটাই প্রত্যাশা।

রূপনগর, ঢাকা


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন