আজ সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ ইং, ০৪ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



সবুজের বিছানা সবুজ চড়ে একদিন

Published on 16 April 2018 | 3: 06 am

:: আব্দুর রব নিশান ::
সন্দ্বীপ আমানউল্লাহ সন্তোষপুর দীর্ঘাপাড় এই তিন ইউনিয়ন নিয়ে সবুজ চর অবস্থিত, মধ্য ভাগে সন্তোষপুর ইউনিয়ন হওয়ায় এটির অবস্থান সন্তোষপুর ধরা হয় যদিও সৌন্দয্য বিস্তৃত সবুজ রাশি সন্দ্বীপ কালাপানিয়া ইউনিয়নের শেষ প্রান্ত আমানউল্লাহ থেকে শুরু হয়ে সন্তোষপুর, দীর্ঘাপাড় একতা বাঁধ, হুদ্রাখালী ও উত্তরে বামনী নদী পর্যন্ত বিস্তৃত।
সন্দ্বীপ আকবর হাট এর পশ্চিম মাথা থেকে সন্তোষপুর মাদ্রাসা আসার রাস্তা ধরে সবুজ মার্কেট এর শেষ প্রান্তে পশ্চিমে সবুজ বাংলা রোড দিয়ে আপনি যেতে পারবেন এই সবুজ চরে। নতুন বেড়ী বাঁধ নির্মানের কাজ চলায় এখন সবুজ চরে যাওয়া একটু কষ্টসাধ্য তবুও সবুজের সৌন্দর্য্য দেখার পানে এইটুকু কষ্ট এডভেন্সার প্রিয়দের কাছে কিছুই না।
ছোট ছোট খালের বিস্তিত জলরাশি কোন এক সময়ে শিল্পির তুলিতে আঁকা ছবির মতই ছিল নতুন বেড়ী যাওয়ার আগে দক্ষিণ থেকে উওর দিকে ছিল বহমান বিশাল খাল এই খাল যদি ও পশ্চিমা খাল নামেই পরিচিত ছিল।খালের পূর্ব পাড়ে কেউ দাড়ালে হয়তো ভাববে এটাই নদী এর পশ্চিমে যে বেড়ী পাড় হয়ে মেঘনা নদীর মোহনা বয়ে গেছে হয়ত অজানা থেকে যাবে যদি নতুন কেউ দেখতে আসে এখানে তবে সন্দ্বীপের চারদিকে নদী না থাকলে এটাই হত বাংলাদেশের ছোট কোন নদীর মধ্যে সেরাদের একটা, বিশাল খাল জুড়ে থাকত তখন ফুটন্ত হাজারো শাপলা ফুল এই যেন শাপলার জল রাশি যতদূর খালের জলরাশি গরিয়েছে ততদূর শুধু শাপলা আর শাপলা এতটাই বিস্তিত্ব ছিল যে জল দেখার সুযোগ তেমন মিলত না তখন কার দিনে স্মার্ট মোবাইলের ক্যামরার খুব অভাব বোধ করতেছি এখন।
হাজারো সাদা বকের আবাস স্থান ছিল এই সবুজ চড়ের নিকটস্থ খালে..এই ছাড়া ও পানকৌড়ি, জলে বসাবাসকৃত এমন হরেক প্রজাতির পাখির আর্দশ স্থান ছিল এটি,চাচা দাদাদের কাছে পশ্চিমা এই খালের অনেক গল্প শুনেছি ছোটবেলায় বর্ষা মৌসুমে গভীরতা বৃদ্ধি সহ আশে পাশে ভাঙ্গন বেড়ে যেত তাদের গৃহে পালিত গরু কে খালের এক পাশ থেকে ছেরে দিলে গরু নিজে নিজেই অন্যপাশে ওঠে যেত বাস্তবতা অভিঙ্গাতার মধ্যে আমি নিজেও এই খালে মাছ ধরার জন্য যেতাম চাচার সাথে মাসে দুই এক দিন সন্দ্বীপের মানুষের জল মানেই জীবন আর জীবন মানে নদী ও সাগরের বুকে ভাসমান নাবিক হয়ে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা, বিশাল শাপলা জলরাশি বুকের উপর পুরাতন বেড়ি থেকে নতুন বেড়ীতে যাওয়ার জন্য একমাএ অবলম্বন ছিল বাঁশের তৈরি সাকু যা বহমান বিস্তিত্ব খালের উপর ছিল কোনমতে দুই জন ব্যাক্তি একজন আরেক জন কে ওভারটেক করে যেতে পারতেন। শ্বাসমূল,নোনাজল,আকা বাকা ছোট ছোট খাল আর সবুজ ঘাসের বিছানা।
সামনে বিস্তৃত বহমান নদী সকালটা রাখালদের গরু ছাগল বেড়া চড়ানোর অনন্য দৃশ্য আপনি এখানে পাবেন, আর সুযোগ পেলে কিনে নিতে পারবেন সন্দ্বীপের ঐতিহ্যবাহী দধি উৎপাদনকারী মহিষের দুধ।
আর বিকালটা পর্যটক দর্শনার্থীদের জন্য আর্দশ্য সময় কারন শেষ বিকালের সূর্য তার আপন পথে বহমান নদীর বুকে ডুবে যাওয়ার দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করে, নতুন বেড়ীবাঁধ এর আধুনিক সৌন্দয্য,বিদুৎ সুবিধা সহ, রিং রোড কার্যকম শতভাগ নিশ্চিত হলে সবুজ চড় সন্দ্বীপের একমাএ অন্যতম পর্যটক স্থান হতে এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। আর এখন সুযোগ মিলবে দুটি নতুন সুইচ গেইট দেখার।
যাওয়ার পথে দেখে যেতে ভুলবেন না সন্দ্বীপের ঐতিহ্যবাহী হযরত ইদ্রিস রাঃ এর নিজ হাতে গড়া নিজ এলাকায় সন্দ্বীপের সর্ব বৃহৎ আলেমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সন্তোষপুর মাদ্রাসা।মাদ্রাসায় যেতে আপনি সবুজ বাংলা রোড যেখান থেকে শুরু তার একটু উওরে গেলে দেখতে পাবেন হেটে ৩ মিনিট সাইকেলে ১ মিনিট সময় লাগবে।চাইলে দেখে আসতে পারবেন সন্দ্বীপের বড় কোন দীঘির একটি সন্তোষপুর বোর্ড অফিস সলগ্ন দিঘি ও জুনুধি পুকুর।রয়েছে সন্দ্বীপের সবচেয়ে বড় ঐতিহ্যবাহী ফুটবল খেলার প্রাণকেন্দ্র স্থান সন্তোষপুর হাই স্কুলের মাঠটি যেখানে সন্দ্বীপের ফুটবল খেলার বড় আসর গুলো বসত বহু কাল থেকে, এখন ও তা অব্যাহত রয়েছে,আর ও আছে সন্দ্বীপের সর্ববৃহৎ বাজার আকবর হাট, এখানে মিষ্টি প্রিয়দের জন্য রয়েছে উওর সন্দ্বীপের সেরা খাঁন মিষ্টি বিতানের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন