আজ সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮ ইং, ১১ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট তিন কিয়াও পদত্যাগ করছেন

Published on 22 March 2018 | 10: 27 am

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট তিন কিয়াও পদত্যাগ করছেন। প্রায় পঞ্চাশ বছরের সেনা শাসনের পর নির্বাচনের মাধ্যমে মিয়ানমারের প্রথম বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন তিনি। গতকাল বুধবার তার কার্যালয় থেকে জানানো শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন। তিনি এখন বিশ্রাম নিতে চান। সেনাবাহিনীর তৈরি সংবিধানে বিধি-নিষেধের কারণে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি নিজে প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি। এ কারণে তিনি কিয়াও’কে প্রেসিডেন্ট করেন। যদিও মিয়ানমার সরকারের কার্যত সরকার প্রধান দেশটির স্টেট কাউন্সেলর সু চি’ই। এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, সু চি’র কোনো আস্থাজনই নতুন প্রেসিডেন্ট হবেন। এই ঘটনায় সেনাদের প্রভাব থাকা দেশটিতে বড় কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে না।
মিয়ানমারে দীর্ঘ সামরিক শাসনের পর ২০১৫ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে এনএলডি বিপুলভাবে বিজয়ী হয়। ঐতিহাসিক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে তিন কিয়াও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পান। তিনি সু চি’র ডান হাত হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন সু চি’র ছেলেবেলার বন্ধু, দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত উপদেষ্টাও। তিনি সব সময় কথা খুব কম বলতেন। নির্বাচনে বিজয়ের পরপরই তিন কিয়াও বলেছিলেন, এ বিজয় বোন সু চির। কিন্তু এমন এক সময়ে তিনি পদত্যাগ করলেন যখন রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র ক্ষোভের মুখে রয়েছে সরকার।
প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে ফেসবুকে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে বিশ্রামে যাচ্ছেন কিয়াও। বিবিসি’র এক খবরে বলা হয়েছে, ৭১ বছর বয়সী তিন কিয়াও’র স্বাস্থ্যের অবস্থা গত কয়েক মাস ধরেই খারাপের দিকে যাচ্ছিল। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছিল না। মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী নতুন একজন প্রেসিডেন্ট বেছে নিতে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলা হয়েছে। নতুন প্রেসিডেন্ট শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত দুই ভাইস প্রেসিডেন্টের মধ্যে জ্যেষ্ঠ জেনারেল মিন্ট সোয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বর্তমানে পার্লামেন্টের নিন্মকক্ষের স্পিকার উই মিন্ট সু চি’র খুবই আস্থাভাজন। তাকেই নতুন প্রেসিডেন্ট করা হতে পারে। সু চি’র দল এনএলডি’র মুখাপত্র অং শিন বলেন, মিন্ট এনএলডি’র প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই দলের সদস্য।

 


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন