আজ মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং, ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশে উন্নয়ন হয়… পটিয়ায় জনসমুদ্রে জননেত্রী

Published on 22 March 2018 | 2: 54 am

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশে উন্নয়ন হয়। জাতির পিতাকে নৌকায় ভোট দিয়েছিলেন। একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছেন। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার দেশের আনাচে–কানাচে উন্নয়ন করেছে। এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। আজ আমাদের দরিদ্র বলে কেউ অবহেলা করতে পারবে না। আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশ। আমরা মাথা উঁচু করে চলছি। যদি নৌকা মার্কায় ভোট পাই তবেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা থাকবে। গতকাল বুধবার পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে জনসমুদ্রে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সকাল থেকেই লাখো মানুষ পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত হন। চৈত্রের তপ্ত রোদে তারা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে উপস্থিত হলে মাঠ এবং আশপাশে অবস্থান করা জনসমুদ্র তাকে শ্লোগান এবং করতালির মধ্য দিয়ে স্বাগত জানান।
দীর্ঘ ৩৫ মিনিটের ভাষণে শেখ হাসিনা উপস্থিত জনসমুদ্রের কাছে নৌকায় ভোট দেয়ার ওয়াদা চেয়ে বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আপনারা নৌকায় ভোট দেবেন ? এসময় উপস্থিত জনতা দুই হাত তুলে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার অঙ্গীকার করেন।
বিএনপি–জামায়াতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা উন্নয়ন করি। আর বিএনপি–জামায়াত জোট মিলে দেশকে পিছিয়ে দেয়। এতিমের টাকা মেরে খায়। এতিমের হক আত্মসাত করে। বিগত নির্বাচন ঠেকানোর নামে খালেদা জিয়ার নির্দেশে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। ক্ষমতায় থাকতে খালেদা ও তার দুই ছেলে কালো টাকা সাদা করেছে। তাদের পাচারের টাকা বিদেশে ধরা পড়েছে। বাংলাদেশকে তারা জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। বাংলা ভাইয়ের দেশ বানিয়েছে। দুর্নীতিতে দেশকে করেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজদের সাথে জনগণ নেই। থাকতে পারে না।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে খালেদা জিয়া বেছে নিয়েছিলো উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মইনউদ্দিন–ফখরুদ্দিন–ইয়াজউদ্দিন তারই পছন্দের মানুষ। তারাই খালেদার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। দুদকের তদন্তের পর আদালত রায় দিয়েছে। অথচ তারা সেই রায়ও মানে না। বিএনপি কিছুই মানে না। উল্টো আন্দোলনের হুমকি–ধমকি দেয়।
মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকুরিতে মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি–পতিদের জন্য যে কোটা আছে, তা বহাল থাকবে। মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কারণে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, এ কথাটা ভুললে চলবে না। কাজেই তাঁদেরকে আমাদের সম্মান দিতেই হবে। তাঁদের ছেলে, মেয়ে, নাতি, পতি পর্যন্ত যাতে চাকুরি পায়, সে জন্য কোটার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোটা যদি পূরণ না হয়, তাহলে শূন্যপদে সাধারণ চাকরিপ্রার্থী মেধাবীদের নিয়োগ দিতে কোটার বিষয়টি শিথিল করা হয়েছে। যদি মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন না করতেন, তাহলে কেউ আমরা কোনো চাকুরি পেতাম না।
প্রয়োজনে বুকের রক্ত দিয়ে হলেও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষকে উন্নত জীবন দেব। আমার বাবাও এদেশের জন্য রক্ত দিয়েছেন। মা, ভাই, ফুফুসহ পরিবারের সকলকে হারানোর কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি এই শোককে শক্তিতে পরিণত করেছি। আমার আর চাওয়া–পাওয়ার কিছু নেই। এদেশে প্রতিটি মানুষ শিক্ষা পাবে, চিকিৎসা পাবে। একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। যার জায়গা নেই তাকে খাস জমি দেয়া হবে। যার জমি আছে ঘর তৈরির সামর্থ্য নেই তাকে ঘর বানানোর টাকা দেয়া হবে। সবাই সুন্দর জীবন পাবে, উন্নতভাবে বাঁচবে–এটাই আমার চাওয়া।
তাঁর রাজনীতি এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, নৌকা মার্কায় আবারও আপনাদের কাছে ভোট চাই। নির্বাচনে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার দিয়ে সরকার তা পূরণ করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বাংলাদেশে ইন্টারনেট সেবা চালু হয়েছে। ফোর–জি করার ব্যবস্থা করেছি। মোবাইল এখন সবার হাতে হাতে। বিনা পয়সায় বই দিয়েছি। শিক্ষার্থীদের মায়ের একাউন্টে উপবৃত্তির টাকা চলে যাচ্ছে। আমরা ১ কোটি ৩০ লাখ মায়ের হাতে উপবৃত্তির টাকা দিচ্ছি, যেন তাদের সন্তানেরা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষপণ হলে ডিজিটাল বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।
আওয়ামী লীগ দেশের শান্তি এবং উন্নয়ন চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে ১৬ হাজার মেগাওয়াট্ বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি। যেখানে বিদ্যুৎ নেয়ার সুবিধা নাই সেখানে স্বল্পমূল্যে সোলার নেয়ার ব্যবস্থা করেছি। একশটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছি। আজ দেশে কাজের অভাব নেই। বদলে গেছে গ্রামও।
জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার পর দীর্ঘদিন উন্নয়ন হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন ক্ষমতা নিই তখন বিদ্যুতের জন্য হাহাকার ছিল। ৯৬ সালে ক্ষমতা পেয়ে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ করেছি। কিন্তু ২০০১ সালে ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিইনি বলে ক্ষমতায় আসতে পারিনি। বিদেশিদের কাছে মুচলেকা দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতা পেয়েই তারা একের পর এক নেতাকর্মীকে হত্যা করতে থাকে। চট্টগ্রামে একসাথে ছাত্রলীগের আট নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। গোপাল কৃষ্ণ মুহুরীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এমনকি নিজ দলের নেতা জামাল উদ্দিনকে অপহরণশেষে লাশ গুম করে তারা।
বিএনপির শাসন আমলকে দুঃশাসন উল্লেখ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা ক্ষমতায় থাকাকালে এই চট্টগ্রামে দশ ট্রাক অস্ত্র পাওয়া গেছে। তার ছেলেরাও বিদেশে টাকা পাচার করেছে। আমেরিকা ও সিঙ্গাপুরের আদালত সেটি প্রমাণও পেয়েছে। এতিমের টাকা চুরি করেছে তারা। একটি টাকাও এতিমকে দেয়নি তারা।
গত নির্বাচনের পূর্ববর্তী অবস্থা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে সারাদেশে অরাজক এক পরিস্থিতি তৈরি করে বিএনপি জামায়াত জোট। খালেদা জিয়ার নির্দেশে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারা হয়। অন্তঃসত্ত্বা মহিলার গায়ে ছুড়ে মারা হয় পেট্রোল বোমা। স্কুলে যাওয়ার সময় শিশু সন্তানের গায়ে ধরিয়ে দেয়া হয় আগুন। পুলিশ, বিজিবি সদস্যদের হত্যা করা হয়। এভাবে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি করে পাঁচ শতাধিক মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে বিএনপি–জামায়াত। কোনো মানুষ আরেক মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারতে পারে না।
জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মা–বাবারা দেখেন আপনার ছেলে কোথায় যায়, কার সাথে মিশে। শিক্ষকরা খেয়াল করুন দীর্ঘদিন কোনো শিক্ষার্থী অনুপস্থিত আছে কিনা। ভালভাবে খতিয়ে দেখুন– আপনার প্রিয় সন্তান কিংবা শিক্ষার্থী জঙ্গিবাদে জড়ালো কিনা। দেশটাকে রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার।
সারাদেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুরো চট্টগ্রামকে উন্নয়নের আওতায় এনেছি আমরা। চলছে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ। নারীদের সুবিধার্থে ১৮ হাজার কমিউনিটি সেন্টার গড়েছি। ৩০ প্রকার ওষুধ বিনামূল্যে দিচ্ছি। এক কোটি ৩০ লাখ মায়ের কাছে উপ–বৃত্তির টাকা তুলে দিচ্ছি। ৩৫ কোটি ৪২ হাজার নতুন শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে বছরের প্রথম দিন।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা, বয়স্ক, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তাসহ অসহায়দের ভাতা দিচ্ছি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান ও যুগ্ম সম্পাদক শাহজাদা মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এমপি, নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, সামশুল হক চৌধুরী এমপি, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এ কে এম এনামুল হক শামীম, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী, উপ–প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপ–দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া, ফজিলাতুন্নেসা ইন্ধিরা এমপি, ওয়াসিকা আয়েশা খান এমপি, মোস্তাফিজুর রহমান এমপি, নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম চৌধুরী, সাবেক এমপি চেমন আরা তৈয়ব, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আবু সুফিয়ান, মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন প্রমুখ।


Advertisement

আরও পড়ুন