আজ শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৮ ইং, ১৪ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



আন্তর্জাতিকমানের কমপ্লেক্স হলো নেভাল একাডেমীতে

Published on 21 March 2018 | 3: 20 am

আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ নেভাল একাডেমীতে উদ্বোধন করবেন আন্তর্জাতিকমানের ‘বিএনএ বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স’। প্রায় চার বছর ধরে প্রতিদিন গড়ে চার শতাধিক শ্রমিক ও কারিগরের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই নয়নাভিরাম স্থাপনা।
প্রধানমন্ত্রী ২০১০ সালের ২৯ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। আধুনিক এই কমপ্লেক্সটি ১৬টি পৃথক ভবন ও অবকাঠামোর সমন্বয়ে নির্মিত। এতে রয়েছে একাডেমিক ভবন, ট্রেনিং উইং, ওয়ার্ডরুম, প্যারেড গ্রাউন্ড, সুইমিং পুল, বোট পুল ও বাসস্থানসহ অন্যান্য সুবিধাদি। আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে এতে সংযুক্ত করা হয়েছে সীম্যানশীপ, এন্টি সাবমেরিন, গানারী ও কমিউনিকেশন মডেল রুম, চার্ট রুম, সুপরিসর লাইব্রেরি, কম্পিউটার ও ল্যাংগুয়েজ ল্যাব এবং আধুনিক অডিটোরিয়াম। এছাড়া বিজ্ঞান ও কারিগরি প্রযুক্তিবিষয়ক প্রশিক্ষণের জন্য রয়েছে সাতটি বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞানাগার।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় উন্নয়ন ও সমুদ্রসম্পদ রক্ষায় একটি শক্তিশালী ও আধুনিক নৌবাহিনীর গুরুত্ব অনুধাবন করেছিলেন। আর তাই স্বাধীনতা পরবর্তীকালে ১৯৭৪ সালে তিনি যুদ্ধজাহাজ সংগ্রহ এবং বানৌজা ঈসা খানসহ তিনটি নৌবাহিনী ঘাঁটি কমিশনিং করার মাধ্যমে নৌবাহিনীর অগ্রযাত্রার সূচনা করেন। প্রথমে স্বতন্ত্র নেভাল একাডেমি বানৌজা ঈসা খানের অভ্যন্তরে ছিল। পরবর্তীতে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় বর্তমান নেভাল একাডেমি পূর্ণোদ্যমে কাজ শুরু করে। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও যুগোপযোগী সামরিক একাডেমি প্রতিষ্ঠার। তার স্বপ্ন আজ বাস্তবায়ন হয়েছে। সুনীল সাগরের কোলে গড়ে ওঠা বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নান্দনিক সৌন্দর্যের বিচারে এক অনন্য স্থাপত্য। কমপ্লেক্সের মূল একাডেমিক ভবনটি জাহাজের সম্মুখভাগের আদলে নির্মিত হওয়ায় বঙ্গোপসাগর হতে এটি ভাসমান জাহাজের মতো দৃশ্যমান হবে। এর সাথে জাতির পিতার স্মৃৃতিকে চিরঅম্লান করে ধরে রাখতে কমপ্লেক্স প্রাঙ্গনে নির্মাণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ প্রতিকৃতি ভাস্কর্য। সম্পূর্ণ ব্রোঞ্জের তৈরি ১৮ ফুট উচ্চতার এ ভাস্কর্যটি সমতল থেকে ২৩ ফুট উচ্চতায় স্থাপন করা হয়েছে। অর্থাৎ ভাস্কর্যটির মোট উচ্চতা ৪১ ফুট এবং ওজন প্রায় ১৮ টন। যা এ যাবতকালে বাংলাদেশে নির্মিত জাতির পিতার সর্ববৃহৎ আবক্ষ প্রতিকৃতি। প্রায় দুই বছর ধরে শিল্পী ও কারিগরদের নিরলস পরিশ্রম, মেধা ও মননের এক অভূতপূর্ব সমন¡য় মহান এই নেতার ভাস্কর্য। পরম শ্রদ্ধা ও আবেগে নির্মিত এই ভাস্কর্যটি নৌবাহিনীর প্রতিটি সদস্য ও কারিগরের ভালবাসার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। সংশ্লিষ্টরা জানান, ঐতিহ্যবাহী দোকড়া পদ্ধতিতে ৪টি ধাপে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়। প্রথম ধাপে কাদামাটি দিয়ে মূল ভাস্কর্যটি তৈরি করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে প্লাস্টার অব প্যারিস দিয়ে ছাঁচ তৈরি করা হয়। তৃতীয় ধাপে এই ছাঁচের ভিতর মোম ও মাটির প্রলেপ দিয়ে হলোকাস্টিং মল্ড তৈরি করা হয়। চতুর্থ ধাপে এই হলোকাস্টিং মল্ডকে উচ্চতাপে আগুনে পোড়ানো হলে ভেতরের মোম গলে বেরিয়ে আসে এবং ছাঁচটি শক্ত আকার ধারণ করে। এই ছাঁচের ভিতর ১৫০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় তরল ব্রোঞ্জ ঢালা হয়। পরে এই মাটির ছাঁচগুলোকে ভেঙ্গে ভাস্কর্যের বিভিন্ন অংশগুলো বের করে জোড়া দিয়ে ভাস্কর্যের পূর্ণাঙ্গ অবয়ব তৈরি করা হয়।
ভাস্কর্যটি কালো পাথরের বেদিতে সাদা মার্বেলের উপর স্থাপিত যা পরাধীনতার অন্ধকার থেকে আলোর পথে বেরিয়ে আসার প্রতীক। যেখানে বঙ্গবন্ধু তাকিয়ে আছেন অবারিত দূর সমুদ্রপানে– চোখে তার সোনার বাংলাদেশের স্বপ্ন। সেই উপলব্ধিকেই বাস্তবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন স্বনামধন্য ভাস্কর্যশিল্পী সুদীপ্ত মল্লিক সুইডেন।
সামগ্রিকভাবে নবনির্মিত ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স’ বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিকে একটি দৃষ্টিনন্দন, আধুনিক, পরিপূর্ণ ও আন্তর্জাতিকমানের প্রশিক্ষণ একাডেমি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলো। জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যার ঐকান্তিক পৃষ্ঠপোষকতা ও সুনির্দিষ্ট দিক–নির্দেশনায় নেভাল একাডেমি তথা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দিগন্ত আজ বহুদূর প্রসারিত হলো। প্রখ্যাত স্থপতি মঞ্জুর কাদের হেমায়েত উদ্দিন–এর নকশায় কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করে স্বনামধন্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ারস লিমিটেড।


Advertisement

আরও পড়ুন