আজ মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং, ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



মার্কিন গণমাধ্যমে প্রথম সাক্ষাৎকার – মৃত্যুর আগে ক্ষমতা ছাড়বেন না সৌদি যুবরাজ

Published on 20 March 2018 | 3: 26 am

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সৌদি আরবের ক্ষমতা ছাড়বেন না সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। রাজপরিবারের ১৫ হাজার রাজপুত্রের কেউই তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে না। একমাত্র মৃত্যুই তাকে সৌদির শাসন ক্ষমতা থেকে সরাতে পারে। মার্কিন গণমাধ্যমে নিজের প্রথম সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন সৌদি যুবরাজ।

রাজক্ষমতায় আসতে নিজের মাকে পর্যন্ত বন্দি করে রেখেছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রামের খবর, শাসন ক্ষমতায় আসতে নিজের মাকে গত দুই বছর ধরে বন্দি করে রেখেছেন যুবরাজ। এর দুদিন পর সিবিএস নিউজের এই সাক্ষাৎকারে তিনি যে সব কথা বলেছেন তা তার ক্ষমতালিপ্সাকেই আরেকবার সামনে এনেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

টানা ৬০ মিনিটের ওই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, আমি কোনো গান্ধীও নই, কোনো ম্যান্ডেলাও নই। আমি ধনীর দুলাল। বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য বিতর্কিত ও সমালোচিত সৌদি যুবরাজ। সাক্ষাৎকারে এ সমালোচনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় তাকে। উত্তরে তিনি বলেন, আমার ব্যক্তিগত খরচের কথা যদি বলেন তাহলে বলব, আমি একজন ধনীর দুলাল, গরিব নই। আমি গান্ধী বা ম্যান্ডেলা নই। তাকে প্রশ্ন করা হয়, নারীরা কি পুরুষের সমান। জবাবে তিনি বলেন, পুরোপুরি। আমরা সবাই মানুষ এবং এখানে কোনো পার্থক্য নেই। তিনি জানান, সরকার নারীদের জন্য সমান মজুরি নিশ্চিত করতে নিয়ম জারি করার জন্য কাজ করছে। সালমানের নেতৃত্বে এসব সংস্কারের পরও দেশটির নারীরা তথাকথিত পুরুষের অভিভাবকত্বের অধীনে রয়েছেন। এই আইনে নারীদের জীবনের নিয়ন্ত্রক পুরুষ আÍীয়রা। এর ফলে নারীরা একা বিদেশ ভ্রমণ করতে পারেন না এবং নির্দিষ্ট ধরনের মেডিকেল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

টেলিগ্রাফ জানায়, মোহাম্মদ বিন সালমান তার মাকে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ‘বন্দি’ করে রেখেছেন। এমনকি তার মাকে বাবা সৌদি বাদশা মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গেও দেখা করতে দেন না। যুবরাজের মা ফাহদা বিনতে ফালাহ আল হাতলেনে ৮২ বছর বয়সী মোহাম্মদ বিন সালমানের তৃতীয় স্ত্রী। গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে মায়ের ‘উধাও’ হওয়ার বিষয়ে নানা ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন সালমান।

তিনি জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে তার চিকিৎসা চলেছে। তবে সৌদি সরকার গণমাধ্যমের এ খবরকে নাকচ করে দিয়েছে। ওয়াশিংটনে সৌদি দূতাবাসের একজন মুখপাত্র এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, এটা সত্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক কর্মকর্তা জানান, তারা বিশ্বাস করেন ক্ষমতা দখলে যুবরাজের পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন এবং বাদশাহকে প্রভাবিত করতে পারেন এ আশঙ্কায় যুবরাজ তার মাকে লুকিয়ে রেখেছেন।

২০১৭ সালে চাচাতো ভাইকে রাজ্যের যুবরাজের পদ থেকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসেন ৩২ বছর বয়সী মোহাম্মদ বিন সালমান। এর পরই তিনি দুর্নীতি দমনের নামে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ীসহ পরিবারের অপর সদস্যদের গ্রেফতার করতে থাকেন। দেশটির শীর্ষ ধনী প্রিন্স আলওয়ালিদ বিন তালালকেও গত নভেম্বরে আটক করা হয়। ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি সেনাবাহিনী ও প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল করেন।


Advertisement

আরও পড়ুন