আজ বৃহঃপতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৪ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



লিভ টু আপিলের শুনানি রোববার – সহসা মুক্তি পাচ্ছেন না খালেদা জিয়া

Published on 18 March 2018 | 2: 20 am

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের নিয়মিত আপিলের আবেদনের (লিভ টু আপিল) শুনানি হচ্ছে রোববার। একই সঙ্গে খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিনের ওপর আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে করা আবেদনেরও শুনানি হবে।

রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা পৃথক দুটি আবেদন সুপ্রিমকোর্টের রোববারের কার্যতালিকায় রয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানির জন্য সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে তালিকার ৯ এবং ১০ নম্বরে রাখা হয়েছে।

আদালত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আপিল বিভাগ থেকে জামিন পেলেও সহসা মুক্তি পাচ্ছেন না না বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

সম্প্রতি কুমিল্লার একটি নাশকতার মামলায় তাকে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (পিডব্লিউ) দেখানো হয়েছে। আগামী ২৮ মার্চ ওই মামলায় তাকে হাজির করার জন্য কারাগারে এ সংক্রান্ত হাজিরা পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে ওই মামলায় জামিন না হওয়া পর্যন্ত খালেদা জিয়া মুক্তি পাচ্ছেন না।

গত ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্ট চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। আদালত আদেশে বলেন- খালেদা জিয়ার বয়স, শারীরিক অসুস্থতা, সাজার পরিমাণ, নিয়মিত বিচারিক আদালতে হাজিরা, এবং মামলার পেপারবুক এখনও প্রস্তুত না হওয়ায় জামিন মঞ্জুর করা হলো। একই সঙ্গে আগামী চার মাসের মধ্যে মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেন আদালত। হাইকোর্ট বলেন, পেপরবুক প্রস্তুত হয়ে গেলে যে কোনো পক্ষ শুনানির জন্য আপিল উপস্থাপন করতে পারবে।

পরের দিনই আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে তা স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক। ওই দিন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী জামিন আদেশ স্থগিত না করে আবেদন দুটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

১৪ মার্চ চার মাসের জামিন দিয়ে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ ১৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। ওই সময়ের মধ্যে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত আপিলের আবেদন (লিভ টু আপিল) করার নির্দেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত। ওইদিন বিকালে খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিনের ওপর আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে তার আইনজীবী চেম্বার জজ আদালতে একটি আবেদন করলে তা শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

এদিকে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার লিভ টু আপিল দায়ের করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার প্যানেল আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বয়সসহ চারটি গ্রাউন্ডে হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার জামিন দিয়েছেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার জজ আদালতে যায়। কিন্ত আদালত জামিন স্থগিত না করে আবেদন দুটি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। সেখানে আদালত আমাদের কথা না শুনেই জামিন স্থগিত করেন। আমরা আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করেছি। রোববার সে আবেদনেরও শুনানি হবে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন হবে বলে আশা প্রকাশ করছি। জামিন হলে জামিননামা কারাগারে দাখিল করা হবে। এরপর সরকারের কৌশল লক্ষ্য রেখেই আমাদের পরবর্তী আইনি লড়াই চলবে।

দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান যুগান্তরকে বলেন, খালেদা জিয়াকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন আপিল বিভাগ ১৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত রেখেছেন। এখন কোনো কারণে যদি ১৮ মার্চ লিভ টু আপিলের শুনানি না হয় তাহলে কী হবে? সেই কারণে স্থগিত আদেশের মেয়াদ বৃদ্ধি চেয়ে অর্থাৎ লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে।এ আবেদনের শুনানি হবে রোববার। তিনি বলেন, যে চারটি গ্রাউন্ডে হাইকোর্ট জামিন দিয়েছেন তা খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না। দুদকের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধিতা করা হবে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আক্তারুজ্জামানের আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই আদালত খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয় আসামির সবাইকে মোট ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। এ অর্থদণ্ডের টাকা প্রত্যেককে সমান অঙ্কে প্রদান করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। রায়ের পর থেকে কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন