আজ রবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৮ ইং, ০৯ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



ঘুরে এলাম দেখে এলাম দ্বীপভুমী সন্দ্বীপ

Published on 16 March 2018 | 3: 36 am

 :: ইঞ্জিনিয়ার আবু তাহের রায়হান ::

এই স্কুলটি আমাদের পাড়াতে অবস্থিত পুর্ব বাউরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। জন্মে খড়কুটোর ছিল এখনত স্কুল মানেই পাকা। আমরা তখন খালি পায়ে লুংগী পড়ে স্কুলে যেতাম। এখন গ্রামের স্কুলগুলোতেও স্কুল ড্রেজ নির্ধারিত পেন্ট সার্ট সেখানে খালি পা হাস্যকর। তাছাড়া টালকোম্পানীর জুতা জামা প্যান্ট লুংগীর চেয়েও মুল্য কম।

গ্রামের রাস্তাঘাট এখন প্রায় পাকা সড়ক। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য হাজার বছরের অবহেলিত সন্দ্বীপে কিছু দিনের মধ্যে বানিজ্যিক বিদ্যুতে আলোকিত হওয়ার কাজ এগিয়ে চলছে।যদিও এ কারনে রাতের ঘুমটা এবং রাত্রিকালীন যাতায়ত অনেকের জন্যে আরামদায়ক হবে। শহুরে আবহাওয়ায় কিছু ক্ষুদ্রশিল্পও গড়ে উঠবে।
মাননীয় সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সন্দ্বীপবাসীর পক্ষে ধন্যবাদ।

কিন্তু আমি নৈরশ্যবাদী বলবেন কিনা জানিনা সব কিছুতে একটা কালো মেঘের ছায়া খুজে পায়!
আমি যখন এ স্কুলের শিশুদের দিকে তাকালাম দেখতে পায় এমন নিষ্পাপ শিশুদের অবয়বে হতাসার চাহনী যেন তাদের পরিবার সমাজের প্রতিচ্ছবি।

ব্রিটিশ আমলে লুংগী পড়ে খালি পায়ে স্কুলে গেলেও তাদের উদরভর্তি পুষ্টিকর মাছ ভাত শাক সবজী ছিল। আতিথিয়তার বন্ধন ছিল অসীম। আর এখন ব্রিটিশ রা না থাকলেও তাদের পোষাক আসাক বেড়েছে শতগুন কিন্তু হারিয়ে গেছে সেই মাছ, সেই ভাত, শাক সবজী সেই লুংগি, আতিথিয়তা। সবি যেন এক দুস্বপ্ন।

জ্ঞানীরাই বলছেন আমরা নাকি পরনির্ভরশীল। যেটুকু নির্ভরতা মেইড ইন জিঞ্জিরা নতুবা মেইড ইন ফরমালীন।
আমিও বিস্ময়ে লক্ষ্য করলাম অনাগত ভবিষৎ কর্নধার এই সব বাচ্ছাদের চোখেমুখে সেই জিঞ্জিরা আর ফরমালীনের প্রতিচ্ছবি ।
এরি মাঝে হুইসেল —– ।

বাচ্ছাদের সাথে আমিও গাইলাম –
আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি —— ।

[লেখক : আঞ্চলিক প্রকৌশলী, বাংলাদেশ বেতার, চট্টগ্রাম]


Advertisement

আরও পড়ুন