আজ রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৭ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



২৬৮ প্রকল্পের ভাগ্য দাতাদের হাতে – তালিকায় গঙ্গা ব্যারাজ, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর * বাস্তবায়নে সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকা প্রয়োজন

Published on 10 March 2018 | 3: 36 am

দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার বেশকিছু মেগা প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে। এগুলোর বাস্তবায়নে প্রায় সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকা প্রয়োজন। তবে দাতাদের আর্থিক সহায়তার ওপর এ প্রকল্পগুলোর ভাগ্য নির্ভর করছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির সুবিধার্থে ২৬৮টি প্রকল্প নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো বরাদ্দহীন ও অননুমোদিত প্রকল্প তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। এগুলোর বিপরীতে সম্ভাব্য বিভিন্ন দাতা সংস্থার নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে- বৈদেশিক সাহায্যের সাড়া পেলে জনগুরুত্বপূর্ণ এসব প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে। ২০২৪ সালের মধ্যে এগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এ ধরনের লোক দেখানো প্রকল্প নেয়া হচ্ছে।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, ঢাকা পূর্ব-পশ্চিম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, চার লেনবিশিষ্ট সীতাকুণ্ড-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ, কুমিল্লা-লাকসাম-ঢাকা দ্রুতগতির ডাবল ট্র্যাক রেললাইন, সোনাদিয়া দ্বীপে গভীর সমুদ্রবন্দর ও জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণের মতো মেগা প্রকল্প। সম্প্রতি সংশোধিত এডিপি অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। তবে চলতি অর্থবছরে শেষ পর্যন্ত এসব প্রকল্পে অর্থায়ন নিশ্চিত হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে শুক্রবার পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম বলেন, এ ধরনের তালিকা থাকলে বৈদেশিক সহায়তা পেতে সুবিধা হয়। কোন ধরনের প্রকল্পে আমরা সহায়তা চাচ্ছি বা কত টাকার সহায়তা প্রয়োজন সেসব বিষয়ে নিজস্ব প্রস্তুতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়। উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে দরকষাকষিতেও সুবিধা হয়। তবে মেগা প্রকল্পের ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা যাচাই করে এ ধরনের তালিকায় সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এতে ভিন্ন মত পোষণ করে ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বৈদেশিক সহায়তা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের তালিকা কোনো গুরুত্ব বহন করে না। এ ক্ষেত্রে প্রকল্পের আর্থসামাজিক ও পরিবেশগত বিভিন্ন দিক গুরুত্ব পায়। অনেক সময় গুরুত্ব বিবেচনা করে তালিকার বাইরের প্রকল্পেও সহায়তা দেয়া হয়।

সূত্র জানায়, বৈদেশিক সাহায্য পাওয়ার আশায় তালিকায় যেসব প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে পরিবহন খাতের (সড়ক, নৌ-রেল, বিমান) প্রকল্পের সংখ্যা ৯৫টি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভৌত পরিকল্পনা ও পানি সরবরাহ এবং গৃহায়ন খাতের ৪৩টি প্রকল্প। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে কৃষি খাতের ৪২টি এবং চতুর্থ অবস্থানে বিদ্যুৎ খাতের ২১টি প্রকল্প। এ ছাড়া অন্য খাতের মধ্যে পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতের ছয়টি, পানিসম্পদ খাতের আটটি, শিল্প খাতের ছয়টি, শিক্ষা ও ধর্ম খাতের ৯টি, স্বাস্থ্য-পুষ্টি-জনসংখ্যা ও পরিবারকল্যাণ খাতের ১১টি, বিজ্ঞান-তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের ১১টি এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতের সাতটি প্রকল্প তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৩১ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে বৈদেশিক সহায়তা সংগ্রহ করতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া চার লেনবিশিষ্ট সীতাকুণ্ড-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ ও উপকূলীয় অঞ্চল রক্ষাবিষয়ক প্রকল্প বাস্তবায়নে ২৫ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চীনের অর্থায়ন আশা করা হচ্ছে। ঢাকা পূর্ব-পশ্চিম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৬ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে মালয়েশিয়া সরকার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও জানা গেছে। এটি চলতি বছর থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন করার কথা রয়েছে।

পাটুরিয়া-গোয়ালন্দে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৩ হাজার ১২১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এটি ২০২১ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাইকা, আইডিবি, নেদারল্যান্ডস ও চীন সরকারের কাছে অর্থ সহায়তার চেষ্টা করা হচ্ছে। সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে নেদারল্যান্ডস ও বিভিন্ন সংস্থার অর্থায়ন আশা করা হচ্ছে। কুমিল্লা-লাকসাম হয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত দ্রুতগতির ডাবল ট্র্যাক রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ৩০ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এটি ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটির সমীক্ষা প্রস্তাব ইতিমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। সমীক্ষার পর ফলাফলের ভিত্তিতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হবে।

গুরুত্বপূর্র্ণ প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- আখাউড়া-সিলেট সেকশনে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ইভেকুয়েশনের জন্য সঞ্চালন অবকাঠামো উন্নয়ন, এক্সপানসন অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং অব পাওয়ার সিস্টেম নেটওয়ার্ক আন্ডার ডিপিডিসি এরিয়া, ডিপিডিসির আওতায় ঢাকা কারওয়ান বাজারে ভূ-গর্ভস্থ উপকেন্দ্র নির্মাণ, পায়রা পোর্টের কোর পোর্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার কম্পোনেন্ট, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সড়কসমূহে ভূ-গর্ভস্থ ইউটিলিটি টানেল নির্মাণ এবং তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের নগর ও গ্রামের জীবনযাত্রার আধুনিকীকরণ প্রকল্প।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন