আজ সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮ ইং, ১১ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



নানা ভাইয়ের মূলা ক্ষেত ও রত্নগর্ভা নানু…

Published on 09 March 2018 | 2: 43 am

:: সারোয়ার সুমন ::

যৌবনে অপেক্ষার প্রহর কেটেছিলো বিয়ের জন্য। শৈশবে আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল খেলার মাঠ। আর কৈশরে দেহ সন্দ্বীপের রহমতপুরে থাকলেও প্রাণ থাকতো ৭ মাইল দূরে মুছাপুরে। ভুলাই নামের এক বাড়িতে। সেখানে কোন বিনোদন কেন্দ্র ছিল না। ছিল না কোন প্রেমিকা। তবু বড্ড মায়া ছিল সেই বাড়িতে। ছিল ভালোবাসার ছড়াছড়ি। আদর যত্নের মাখামাখি। ভুলাই নামের সেই বাড়িটি ছিল আসলে আমার নানা বাড়ি।

বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হতেই ছুটে যেতাম নানা বাড়িতে। আমাদের পেয়ে ঘরের পিছে সুপারী গাছে দোলনা বানাতো ছোট খালা। কিল্লার পুকুরে জাল মেরে মাছ ধরতো সেজ মামা। আর রাতের বেলা গল্প বলে ঘুম আনতো ছোট মামা। আবার সকাল হতেই শুনতে পেতাম নানা ভাইয়ের মায়াভরা এক ডাক- ‘কইরে টাউন্যা। ক্ষেতে চল। ‘ নানার জমির ফসল তাকতো অন্যরকম। মূলা, টমেটো, বেগুন, বাদাম -সবই অন্যদের তুলনায় হৃষ্টপুষ্ট দেখে খুশিতে আটখানা হতো মন। এ সুযোগে ক্ষেতের মূলা আমার মাথায় তুলে দিয়ে বাজারে বেচতে পাঠাতো নানা ভাই। তবে কষ্ট ভুলিয়ে দিতে টিনের পটে টোস্ট বিস্কুট রেখে পাশে ফ্লাস্ক ভর্তি চা রেডি রাখতেন নানু।

আমার নানা রুহুল আমীন ছিলেন সামান্য একজন স্কুল শিক্ষক। আর নানু মমতাজ বেগম শুধুই গৃহিনী। ১১ সন্তানের এই জনক – জননী অর্থের দিক থেকে বিত্তশালী না হলেও চিত্তে ছিলেন পাহাড় সমান। দারিদ্রতার কাছে কখনোই মাথা নত করতে দেখিনি নানা ভাইয়াকে। অন্যায়ের সাথে আপোষ করতে দেখিনি নানুকে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে মামাদের নিয়ে নিজের জমিতে ফসল ফলাতে দেখেছি নানাকে। আর নানুকে দেখেছি পরম মমতায় ধুয়ে মুছে সেই ফসল তুলছে ঘরে।

নানা ভাইয়া বেঁচে নেই। আজ সেই নানু পেয়েছেন রত্নগর্ভা পুরষ্কার। পেয়েছেন গর্বিত মাতার স্বীকৃতিও। কারণ নিজের জমিতে চাষ করেই ১১ সন্তানের প্রত্যেককে সুশিক্ষিত করেছেন তারা। নানুর চার ছেলে সন্তানের ৩ জনই আজ এডভোকেট। ৭ মেয়ের ২ জন স্কুল শিক্ষিকা। ১ মেয়ে অবসরপ্রাপ্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। আরেক মেয়ে আমেরিকা প্রবাসী। ৩ মেয়ে গৃহিনী।

অজপাড়াগাঁয়ে এক মায়ের ব্যক্তিত্ব কতটা দৃড় হলে, কতটা তীক্ষ্ণ হলে সব সন্তান সুশিক্ষিত হয় তা অনুধাবন করতে পেরেছে বলেই নানুকে রত্নগর্ভা পুরষ্কার দিয়েছে বীর প্রতীক কর্ণেল (অব.) দিদারুল আলম ফাউন্ডেশন। এ ফাউন্ডেশন থেকে এর আগে একইভাবে পুরষ্কার পেয়েছিলো নানুর বড় মেয়ে ও আমার মা মোহছেনা বেগমও। Didarul Alam আপনাকে জানাই অভিভাদন। আর নানু তোমায় সশ্রদ্ধ সালাম।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন