আজ রবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৮ ইং, ০৯ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



ভাঙ্গলো যখন মিলন মেলা

Published on 24 February 2018 | 6: 00 pm

:: ইলিয়াস কামাল বাবু ::

ততক্ষন পর্যন্ত ভালো লাগছিলো, যতক্ষন পর্যন্ত সন্দ্বীপ টাউনবাসীরা মিলে-মিশে একাকার ছিলাম।
চট্টগ্রাম মুসলিম হলের সুবিশাল মঞ্চে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে উপস্হাপনার যাদুকর, মোহনা টিভির চট্টগ্রাম ব্যুরো চীফ, প্রিয়ভাজন- শ্রদ্ধাভাজন জামাল হোসেন (মঞ্জু কাকা) যখন ঘোষনা করলেন – আবারও একটি মিলন মেলার অপেক্ষার আগ্রহকে বুকে বাঁচিয়ে রেখে আজকের অনুষ্ঠানের শুভ সমাপ্তি টানছি,তখন সত্যিই বুকে এক ধরনের হাহাকার ধ্বনি,প্রতিধ্বনিত হলো।

যখন ফিরবো আপন নীড়ে, তারপর থেকে তো আর কারোরই সাথে নিত্য দেখা মিলবে না।
মুসলিম হলের ঠিক সামনের সারির পূব পাশের পেছনেই বিকেল তিনটে থেকে ঠাঁয় বসেছিলাম।ভখন পেছন ফিরে দেখি সুবিশাল হলের উপর-নিচের অর্ধেকের চাইতেও বেশি আসন ফাঁকা হয়ে গেছে।
মনে হলো, এ যে নাড়ির টান ছেঁড়ে সকলের জীবনের বাস্তবিক আহবানে পিছু ছুটে চলা।
এবং এক সময় আমরা যারা শেষ অবধি ছিলাম
তারাও একে অপর থেকে বিদায় নিলাম,হয়তো
এ বিদায় হবে কারো জন্যে চির বিদায়, নয়তো বেঁচে থাকলে হবে আবার দেখা,অন্তত এই আশায় – ” আবার জমবে মেলা বটতলা -হাটখোলা ”

সন্দ্বীপ টাউন সোসাইটির অসাধ্য সাধন- ২৩ ফেব্রুয়ারী-২০১৮ ‘ র চট্টগ্রাম মুসলিম হলের টাউনবাসীর সেই মিলন মেলা।
শ্লোগান ছিলো -আমার সন্দ্বীপ টাউন- ” স্বপ্নেরা ঘর বাঁধে যেখানে “।
টাউনবাসীর সেই মিলন মেলায় যেনো অবশ্যই উপস্হিত থাকি, তার জন্যে স্কুল জীবনের সহপাঠি, আমার নিকটতম প্রতিবেশী লিংকন, বন্ধু আলমগীর, লোটন,ছোট ভাই বাবন ও মঞ্জু কাকার আহবান পাওয়ার আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইস বুকে বেশ কিছু” ক্যাপশন পোষ্ট” দেখি এবং একজন টাউনবাসী হিসেবে আবেগে-আপ্লুত হয়ে তাৎক্ষনিক এটি শেয়ার করি, ফেবু বন্ধুদের সাথে ও অন্যদের সাথে মোবাইলে এ কমেন্টে অংশ নিই।
এ দিকে সন্দ্বীপের অনেক কাজ কে তুচ্ছ রেখে চট্টগ্রাম যাওয়ার মানসিক প্রস্তুতি সেরে ২২ ফেব্রুয়ারী, বিকেল ৪ টায় বর্তমান ঠিকানা রহমতপুরের বাড়ী থেকে বের হই।
সদরঘাটের হোটেল আল- ইসলামে ওঠে ফ্রেস হয়ে যখন মুসলিম হলে পৌঁছাই, তখন রাত ৯ টা।
মুসলিম হলের সামনের চত্বরেই দেখা হয়ে গেলো
মঞ্জু কাকা, লিংকন,নাছির,মানিক,আকতার ভাই,সাগর,পল্টু ভাই,রিপনদের সাথে। নন্দন কাননের বোস ব্রাদার্সে ডবল মিষ্টি ও নিমকী খেলাম। অতপর: যে যার গন্তব্যে চলে গেলাম।
সেই রাতেই ফোন করে লোটন কে জানালাম আমার আসার কথা।
পরদিন সকাল সাড়ে নয়টায় পৌঁছে মুসলিম হলে
দেখা হলো অনেক স্মৃতির যৌথ স্বাক্ষী বন্ধু লোটন ও ভাবী, বাচ্চাদের সাথে।
তখন স্টল বরাদ্ধের ব্যাস্ততায় নাছির, সাগর। এর অল্প কিছুক্ষন পরেই একে একে আসতে থকলো
আয়োজক কমিটির সদস্য্য ও স্টলের লোকজন।
মুসলিম হল চত্বরে বই মেলা চলায় হলের দোতালায় লোটনের টি-শার্ট স্টলের ঠিক সামনেই নিজের প্রকাশিত বইয়ের স্টল দেয় অধ্যাপক রঞ্জন।যার সাথে দেখা ২০/২৫ বছর পর। দেখা হয় খদ্দর কাকার ছেলে সবুজের সাথে, ছোট ভাই হলেও বিচিত্রার সাংগঠনিক কাজে সক্রিয়তায় তার সাথে আমার ছিলো গভীর ও আন্তরিক সম্পর্ক।অথচ সুদীর্ঘকালের গ্যাপে সে আমাকে চিনতেই পারলো না। অবশ্য পরে সে আমাকে অনেক কস্টে চেনেছে বলে জানালো। কিন্তু তাতে আমার একটু সন্দেহ রয়ে গেছে। কেননা সে সারাদিনই ছিলো একটু অন্যমনস্ক।তবে তার ছোট ভাই সোহাগ পরে আমাকে জানালো সবুজের বুকে সমস্যার কথা।
ডা. মনা, নাজু,নাসরীন তিন বোনই আমাকে সহজে চিনতে পেরেছিলো। যদিও সোহাগ সহ ওদের সাথে তাও ২০/২৫ বছর পরে দেখা।
সবচে আশ্চর্যের বিষয়, নাহার আপার সাথে দেখা প্রায় ৩০ বছর পর।
কৃষ্ণ,দিপক,মিন্টু কাকা,আলতাফ,মিঠু,শিল্পী,পিন্টু, পণ্টুভাই,হায়দারভাই,হামিদ,মারুফ,মিনা,দোলন,
দিপন,শিপন,পারভেজ,আবদুল হালিম নাছির,
আবু ইউসুফ রিপন,রনজিত,শিবলী ভাই সহ কত যে সেই চেনা মুখ গুলো দেখেছি।সময়ের বিবর্তনে
আমি সহ অনেকেই যেনো অচেনা হয়ে গিয়েছিলাম

(৯১-৯৫)মূলত: ঘূর্নিঝড়, ও ভয়ংকর, সর্বগ্রাসী নদী ভাঙ্গনের সময়ে সন্দ্বীপ টাউনে যারা বয়সে ছোট ছিলো তাদের কে তো চিনতেই পারিনি। খোকন স্যারের ছেলে মনা,সাব-রেজিস্ট্রারের ছেলে হামিদ,মালেক স্যারের ছেলে আলতাফ এরা সহ আরো অনেকের সাথে পরিচয় নিয়ে রীতিমতো ইন্টারভিউ হয়েছে।
সেদিন ছিলো শুক্রবার, মুসাফির খানা মসজিদ পাশেই ছিলো দুপুরে যারা ছিলাম সবাই একসাথে জুমআয় গেলাম।
পিপাসার আলমগীরের ছোট ভাই নাছির স্টলের লোকজন ছাড়াও আগতদের লাঞ্চের প্যাকেট সরবরাহ করছিলো। সবাই মিলে পেট পুরে খেলাম।

হলের নীচ তলার দু পাশে দুটি বিশাল ডিসপ্লে ছিলো।এর একটি টাউন পরিচিতি অন্যটি দেয়ালিকা। (চলবে)


Advertisement

আরও পড়ুন