আজ শনিবার, ১৮ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০৩ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



আমরা কেবল অতীতের ঘ্রান টেনে সুখ খুঁজি

Published on 24 February 2018 | 3: 15 pm

:: মোসলেহ্ মহসিন  ::

সন্দ্বীপ টাউন ভাঙ্গার ২ যুগ পর সন্দ্বীপ টাউন সোসাইটির মিলন মেলা যেনো শিকড় খুঁজে বেড়ানোর আবেগী প্রয়াস। ভালোবাসাময় পুরো একটি দিন। মুসলিম হল হয়ে উঠে সন্দ্বীপ টাউন। স্মৃতি খুঁজে ফিরি পোলঘাট, খুঁজে ফিরি কার্গিল মাঠ, খুঁজে ফিরি সন্দ্বীপ টাউন…..

বয়স তখন কত জানিনা। বড় খালার বাড়ি ছিলো স্টিমার ঘাটের পাশে। তাই ছোট হতেই সন্দ্বীপ টাউনে পদচারনা। এমনি এমনি ঘুরতেও যেতাম। কার্গিল মাঠে টুর্ণামেন্ট দেখতে যেতাম। কতবার খেলা নিয়ে মারপিটও দেখেছি। কলাভবনে সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম দেখতে গিয়েছি। আদালত মাঠে ব্যাটবিন্টন ভলিবল টুর্ণামেন্ট দেখেছি। আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের মাথার উপর লম্বা ঝুলানো কাপড় / পাখার বিকল্প টানতে দেখেছি। ১বার মাত্র আদালত চলাকালিন গিয়েছি। বিশাল আদালত দীঘি, যার পশ্চিম এবং উত্তর পাড়ে অনেকগুলো বাসা ছিলো। মোমেনা সেকান্দর বালিকা বিদ্যালয়ের সুদৃশ্য হলরুমে সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম দেখেছি দুইএকবার। প্রাইমারীতে থাকাকালীন কার্গিল মাঠে থানা বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতায় দৌঁড় দিয়ে কিছুই হইনি। তবু অংশ গ্রহন করতাম। থানা কম্পাউন্ডে ২/১ বার ডুকেছি। টাউন বাজার, বাজার মসজিদ, টাউন মসজিদ, ৫রাস্তার মোড়, সরকারী হসপিটাল, আইচক্রিম ফ্যাক্টরি রোড, টিএন্ডটি অফিস, ভাইভাই বেকারী, লাশঘর, হেলিপ্যাড ময়দান, বশিরিয়া মাদ্রাসা, অব্যবহৃত সন্দ্বীপ হাইস্কুল সবই দেখা। আবুল খায়ের ভাই অনেক আদর করতেন তাই ওনার মিলন স্টোরে প্রায় যেতাম। আনোয়ার হোসিয়ারীতে যেতাম। শাহজাহান ডিলার ভাইজানের টিনের দোকান নাকি চালকল ছিলো মনে নাই। তবে গিয়েছি বেশ কয়েকবার। সম্ভবত ওনার দোতলা বোর্ডিংও ছিলো। হাজী বাড়ির বাবুল আংকেলের বাবুল বোর্ডিং ছিলো (বোর্ডিং এর নাম ভুল না হলে)। আংকেল ডেকে নিয়ে কয়েকবার আদর করে নাস্তা করিয়েছেন। ন্যাশনাল ব্যাংকের মোড়ে, যেখান হতে একটু পরে পশ্চিম দিকে স্টিমার ঘাটের দিকে যেতে হাতের বা পাশে কয়েকটা হিন্দু বাড়ি ছিলো। রক্ত জবা আর টগর ফুটে থাকতো। কি যে ভালো থাকতো।
৫ম শ্রেনীতে বশিরিয়ায় ভর্তি হই। বাড়ি হতে নিয়মিত সন্দ্বীপ টাউনের উপর দিয়ে কয়েক মাইল হেঁটে যাই। একদিনও অনুপস্থিত থাকিনি। ক্লাস চুরিও করিনি কোনদিন। তবে একদিন বন্ধুদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের কারনে টিপিনের পর বশিরিয়ার পিছনের খালপাড় দিয়ে লুকিয়ে যেই মেইন রোডে উঠে হেলিপ্যাডের কাছাকাছি আসি অমনি দেখি প্রিন্সিপাল ইলিয়াস স্যার মোটর বাইকে করে টহল দিচ্ছে। আমাদের গ্রুপে কে কে ছিলো আজ আর মনে নাই। তবে সম্ভবত Md Belal বেলাল, আনোয়ার, সুফিয়ান ছিলো। পরে আমাকে বাইকের পিছনে চড়িয়ে ক্লাসে নিয়ে আসে। বাকিদেরও ক্লাসে ফিরতে হয়। জানিনা এখন আর এভাবে ছাত্রদের পাহাড়রা দেয় কিনা। সেই বশিরিয়া চোখের সামনে ভেঙ্গে যেতে দেখেছি। ভেঙ্গে যেতে দেখেছি সন্দ্বীপ টাউন। হায় স্মৃতি।

পোলঘাটে দুইটা বাঁশের সাঁকো ছিলো। একটা ভাইভাই হোটেলের পাশে, অন্যটা কামাল মিয়াদের গদির পাশে। পরে ওখানে বেইলি ব্রিজ হয়। কি জমজমাট পোলঘাট। খাদ্য গুদাম, পোলঘাট বাজার, বাজার মসজিদ। পাওয়ার হাউজের কালো ধোঁয়া। সুদৃশ্য ওয়াপদা। উত্তর চট্টগ্রামের একমাত্র সরকারী কলেজ সরকারী হাজী আবদুল বাতেন কলেজ। কদম মোবারক… সব সবই হারিয়ে গেছে মেঘনার করালগ্রাসে….. আমরা কেবল অতীতের ঘ্রান টেনে সুখ খুঁজি।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন