আজ সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ ইং, ০৪ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



মুসলিম ইনিস্টিটিউটে সন্দ্বীপ টাউন সোসাইটির আয়োজনে মিলনেরই সুর বেজেছে

Published on 24 February 2018 | 1: 56 pm

:: রনজিত কুমার বনিক ::

ছোট বড় নেই ভেদাভেদ সমান সবে আজি। আজ মিলনের বেহেশতি সুর উঠছে সদা বাজি

সত্যি ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, চট্টগ্রাম মুসলিম ইনিস্টিটিউটে সন্দ্বীপ টাউন সোসাইটির আয়োজনে মিলনেরই সুর বেজেছে। বসেছে হৃদয় বেচা-কেনার হাট।আনন্দের বিশালতা বলতে যা বোঝায় ।মিলন মেলার স্টল গুলো যেন ভাব বিনিময়ের কেন্দ্র স্হল হয়ে উঠেছে।
নাহার আপার টক মিষ্টি ঝাল, লোটনদার বাবুল ষ্টোর, আলমগিরের পিপাসা, ডাঃ সুরাইয়া বেগম মনা ও মিনার মিলন মেলা পিঠাঘর, আলতাফ হেসেন ও আব্দুল হালিমের দোকান তেমাথা,অধ্যাপক রঞ্জনের বইঘর, জেসমিন-আফরিনের টাউনের পিঠাপুলি,
সীমা বুটিকস,সন্দ্বীপ টাউন পিঠাঘর, ANNEX world wide ltd এর রূপ মেলা, লিও ক্লাব অব চিটাগাং সন্দ্বীপ এর সেবা মূলক রক্ত পরীক্ষা কেন্দ্র, লাল সবুজ শাড়ি-কামিজের দোকান ইত্যাদি।
স্টল গুলোর কোন বানিজ্যিক উদ্দ্যেশ্য ছিলনা। নামমাত্র মুল্যের বিনিময়ে সেবা প্রদান করে সন্দ্বীপ বাসির মধ্যে প্রানের স্পন্ধন বাড়ানো ও আনন্দ প্রদানই ছিল স্টল গুলোর পরিচালকদের মূল লক্ষ্য।বরং স্টল গুলো সাজাতে যে পরিমান পূঁজি বিনিয়োগ করতে হয়েছে ঐ বিনিয়োগই কেউ উঠাতে পারেনি।এ জন্য বিনিয়োগ কারীদের
কোন দুঃখ বোধও নেই।বরং অন্যদের আনন্দ দিতে পেরেছে বলে তারাও খুশি। এখানেই সন্দ্বীপিদের হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কের পরিচয় পাওয়া যায়।এ জন্যই তারা গর্বিত এবং ইহাই সন্দ্বীপ।

মূল অনুষ্ঠান প্রঙ্গন জুড়েতো সাগরের বিশালতা।
অনুষ্ঠান স্হলের আয়তনের দিক থেকে নয়, মনের মাধূরী মেশানো হৃদয়ের বিশালতার কথা এখানে বলছি। ছোট-বড়, উচু-নিচু, ধনি-গরীব, শিক্ষিত-মূর্খের মধ্যে
কোন বিন্দুমাত্র ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়নি। শুধু হৃদয় নিয়ে টানাটানি হয়েছে।ভালবাসা দিবসেও এমনটা হতে দেখা যায়না। সে এক দারুন অনুভুতি। অপূর্ব। সন্দ্বীপ থাকতে গরীব বা নিম্ন বর্ণের বলে যাকে কেউ পাত্তা দিতনা-সে ব্যক্তি মুসলিম হলে এসে সবার হৃদয়ের ছোঁয়া পেয়েছে।
হয়েছে অবিভুত,আপ্লুত।নিজেকে নিজে প্রশ্ন করেছে – এও কি সম্ভব? হাঁ এটাও সম্ভব হয়েছে সন্দ্বীপ টাউন সোসাইটির কল্যানে।

চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, মরনোত্তর সম্মাননা প্রদান, গুণীজন সম্বর্ধনা-প্রতিটি পর্বই ছিল মন ছুঁয়ে যাওয়ার মত। সাউন্ড সিস্টেম ও আলোক সজ্জা ও ছিল অতুলনীয়। আবেগ মিশ্রিত এমন ব্যতিক্রমি অনুষ্ঠান আর কখনো হয়নি। আর এ অনুষ্ঠানটি সন্দ্বীপবাসি অনেক দিন স্মরনে রাখবে।
অনেকে প্রশ্ন রেখেছেন এমন একটি অনুষ্ঠান সন্দ্বীপে করা যায় কিনা? আবার দু’এক জনকে এমনও বলতে শুনেছি যে, এই সংগঠনটি শেষ অবধি টিকবে কিনা? এর কার্যক্রম সঠিক ও সুন্দর ভাবে পরিচালিত হবে কিনা? নিন্দুকেরা কোন ফাঁক বা দুর্বলতার সুযোগ নিবে কিনা?
প্রশ্ন জটিল হলেও উত্তর কিন্তু অতি সহজ।
আমরা উদার, সৃজনশীল। আমাদের মধ্যে পরশ্রীকাতরতা নেই। ক্রোধ, লোভ, মোহ মুক্ত আমরা। অতএব আমরাই আশাবাদি। আর আমাদের শ্লোগন হবে “যে আছে সত্য ও সুন্দরের আড়াল করে তাকে হঠাও”।

২৪-০২-২০১৮ ইং।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন