আজ সোমবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৮ ইং, ১০ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



বাদল রায় স্বাধীন : কবি ও কবিতার কথা

Published on 18 February 2018 | 8: 15 pm

ছবি : কবি বাদল রায় স্বাধীন

 :: সবুজ আনোয়ার ::

 

কবি বাদল রায় স্বাধীনের সাথে আমার সখ্যতা ও হৃদ্যতার বয়স গোটা দেড়যুগ।শিল্প সাহিত্যের প্রতি অকিঞ্চিৎ মমত্ববোধের কারণে তাঁকে বরাবরই বড়’দা জ্ঞানে সমীহ করি,অগ্রজ হিসেবে কুর্ণিশ জানাতে কার্পন্য করি না আজও।

কবি,সংবাদ কর্মী,নাট্যভিনেতা,পল্লী চিকিৎসক,উন্নয়ন কর্মী আরো বহু গুণের অধিকারী সন্দ্বীপের সুবিদিত প্রিয়মুখ বাদল রায় স্বাধীনকে উন্মোচিত করার মতো ভূড়ি ভূড়ি স্মৃতির সঞ্চয় রয়েছে আমার নখদর্পে। আমার আলোচনার পরতে পরতে এসব সঞ্চিত স্মৃতির হানা নিজেকে নির্ভার করার ঢের রসদও পাচ্ছে তলে তলে।

প্রারম্ভে অপ্রকাশিত একটি তথ্য সংযুক্ত করা আবশ্যক মনে করছি-বাদল রায় স্বাধীন ও উপজেলা(সন্দ্বীপ)স্বাস্হ্যকর্মী সুফিয়ান মানিক ভাইয়ের উৎসাহ-অনুপ্রেরণা আর পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকাশনা জগতে আমার অভিষেক ঘটেছিল ২০০৩সালে,যদিও লেখালেখির হাতেখড়ি আরো বছর তিনেক আগে।কৃতজ্ঞ চিত্তে এই ধ্রুবসত্য প্রকাশ নিছক গালগল্প নয়।অভ্যাগত লিখিয়েদের সাদরে বরণ করে একটি জুতসই প্লাটফর্মে দাঁড় করিয়ে দিতে এই দুজনার জুড়ি মেলানো মুশকিল!বিকশিত হবার আগে প্রকাশের গরজ অবদমনের দোহাই দিয়ে যাঁরা নতুনদের নিয়ত নিরুৎসাহিত করতো বাদল রায় স্বাধীন ঈষৎ সংকুচিত ‘বাদল দা’ নামেই সর্বাধিক উচ্চারিত সেই বঞ্চিত নবীণদের আঁতুরঘর,এই বিদিত নামটি ক্রমশ হয়ে উঠেছে আশ্রয়ের অন্তিম বাতিঘর।

বছর বিশেক যাবত কবিতা গল্প নাট্যভিনয় করে ভূয়সী প্রশংসা কুড়ানো স্হানীয় সংবাদকর্মী।বাপ দাদার প্রাচীন চিকিৎসা পেশায় ইতি টেনে কেবল শখের বসে স্হানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ের প্রকাশনা জগতে অবাধ বিচরণশীল এই স্বভাবজাত লেখক নিজের একক কাব্যগ্রন্থ ‘তোমাকে নিঃসঙ্গ দেখতে চাই’ প্রকাশ করেছে খানিকটা বিলম্বে-এই বিলম্ব সাহিত্যানুরাগীদের খোঁটায় ‘প্রদীপের নিচের অন্ধকার’ বিতাড়িত করা বলে অভিহিত।অথচ স্কুল জীবনে অনেক তরুণ তরুণীর প্রেমপত্রকে বাদল দা’র সরস ছন্দে সয়লাব হতে দেখেছি চেনা পরিমন্ডলেও।

সুনিপুন শৈল্পিক চিত্তরসে ভরপুর সহজ সরল শব্দ নির্বাচন করে সিদ্ধ ছন্দ দোলায় ঠুনকো বিষয় আশয়কে সুক্ষ অন্তদৃষ্টির আলোকমালায় পুনর্পাঠের উপজীব্য করে তুলছেন গভীর মমতায়। নুন থেকে চুন, ভ্রুণ থেকে গুণ মানবিক জীবনের সর্বত্রই কবির মনোযোগ একনিষ্ট।দু’দশকের শানিত অভিজ্ঞতা, পরীক্ষিত উপলদ্ধি ও প্রকাশের ভিন্নতায় তাঁর সমুদয় রচনাশৈলীতে বিরাজ করছে বিচিত্র গতিময়তা। তবে তাঁর চেষ্টা যেমন সাবলীল,সৃষ্টি তেমনি স্বকীয়।বলে রাখা শ্রেয়-“কোথাও পরাশ্রয়ী চিন্তাচেতনার প্রাদুর্ভাব ঘটানোর লেশমাত্র অপচেষ্টা করে নি”মোটা দাগের এই দর্শন কবিকে জুগিয়েছে আলাদাদের ভীড়ে অনন্য হবার সাহস।

ছান্দ্যসিক কবি বাদল রায় স্বাধীনের জন্ম চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ থানাধীন প্রবল ভাঙ্গনের কবলে পতিত হরিশপুর নামক গ্রামের সুধীর কবিরাজের বাড়ীতে(সন্দ্বীপ পৌরসভা,ওয়াড- ৪)। পিতার নাম সুধীর কবিরাজ এবং মাতা কানন বালা রায়। জন্ম তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৮০ ইং। ‘কাব্য প্রভাকর’ উপাধীতে ভূষিত এবং জাতীয় ছড়াগুরু মহিউদ্দীন আকবর দাদুমণি সন্মাননা পদক প্রাপ্ত এই কবি কার্গিল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় হতে এস.এস.সি এবং সরকারী হাজী আব্দুল বাতেন কলেজ হতে বি.কম পাশ করেছেন। এর বাইরেও দুটি ডিগ্রী রয়েছে তার কাব্য তীর্থ ও ডি.এ.এম.এস।বর্তমানে দাতা সংস্থা অক্সফ্যাম ও এসডিআই’র যৌথ প্রকল্প রি-কল প্রজেক্ট এসডিআই এ কর্মরত আছেন।
স্ত্রী পলি রানী নাথ, ছেলে নিরব রায় সংগ্রাম ও মেয়ে সমাপ্তি রায় মুক্তিকে নিয়ে কবির সুখের সংসার ।

বাদল রায় স্বাধীনের কবিতাঃ

কোন কোন বিষয়াবলী প্রাধান্য পেয়েছে তাঁর কবিতায়, তা চাপিয়ে কোন কোন বিষয় আশয়ের আকাল পরিলক্ষিত হয় সেই বিষয়ে দ্বিতীয় কিস্তিতে বিশদ বিশ্লেষন করার প্রচেষ্টা অভ্যাহত থাকবে।
এই ছান্দ্যসিক কবির কাব্যসুধা স্হানীয় পাঠক মহলে ব্যাপক আলোড়নের পাশাপাশি দুই বাংলায় সমাদৃত হচ্ছে আজকাল ।
কল্পনা ও বাস্তবতার পরিমিত সংমিশ্রণে কবির মুদ্রিত চিত্তকল্পে উঠে আসে মা ও মাটির প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ভক্তি, চারু প্রেমের করুণ পরিনতি, তীক্ত বিরহের মাঝেও পরিতৃপ্তির জয়গান। ধর্মীয় কুপমুন্ডুকতা, গোড়ামি ও চিরায়ত বিশ্বাসের ফারাক নিয়ে বলিষ্ঠ প্রতিবাদ,আচার ও অনাচারে অভ্যস্ত যাপিত জীবনের সাতকাহন।চলবে,,,,,


Advertisement

আরও পড়ুন