আজ বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ ইং, ০৬ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য – বিশ্বব্যাংক থেকে নেয়া হচ্ছে চড়া সুদে ঋণ

Published on 18 February 2018 | 5: 11 am

বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বাড়াতে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিচ্ছে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রচলিত ঋণের (শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ) বাইরে স্কেল-আপ ফ্যাসিলিটিজের (এসইউএফ) আওতায় প্রায় ৩-৫ শতাংশ সুদে এ ঋণ নেয়া হচ্ছে। এ অর্থে দেশের পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। এ জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৮০৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ঋণ ৩ হাজার ৬৪২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ হাজার ৬৮৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৪৭৮ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। চড়া সুদের এ ঋণ নিতে ইতিমধ্যে সব পক্ষই সম্মত হয়েছে। জানুয়ারি মাসে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নেগোশিয়েশনও সম্পন্ন করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

এ প্রসঙ্গে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমাদের প্রচুর বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু তারপরও মানুষ অনেক সময় বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। এর কারণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন নেটওয়ার্কের দুর্বলতা। তাই এ প্রকল্পটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যে ফান্ড থেকে ঋণ নেয়া হচ্ছে এতে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। কারণ ধীরে ধীরে সহজ সুদের ঋণ উঠে যাচ্ছে। তাছাড়া প্রচলিত সহজ শর্তের ঋণে কনসালটেন্সিসহ নানা রকম শর্তযুক্ত করা হয়। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়। সে ক্ষেত্রে এ ঋণে শর্ত মানার ঝামেলা অর্থাৎ খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি হওয়ার মতো হবে না।’

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ‘পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড নেটওয়ার্কের পরিবর্ধন এবং ক্ষমতাবর্ধন’ নামের এ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানায়, স্কেল-আপ ফ্যাসিলিটিজে ঋণ নেয়ার জন্য এর আগে বিদ্যুৎ বিভাগ ও পিজিসিবির সম্মতির বিষয়টি বিশ্বব্যাংককে জানিয়ে দেয় ইআরডি। তবে এ ফান্ডের আওতায় ঋণ গ্রহণের সুনির্দিষ্ট শর্তাবলির বিকল্পসমূহের মধ্যে সুবিধাজনক বিকল্প নির্ধারণের বিষয়াদি গত বছরের ৯ ডিসেম্বর অনুমোদন দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। পরে ইউরো মুদ্রায় ফ্লোটিং ইন্টারেস্ট রেট এবং ফিক্সড স্প্রেডভিত্তিক ঋণ গ্রহণের বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রিপারেশন মিশন ঢাকা সফর করেছে গত বছরের ২৪-৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। এ ছাড়া টেকনিক্যাল মিশন গত বছরের ২৩-৩০ অক্টোবর সফর করে। গত ৩ জানুয়ারি বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ইআরডির নেগোশিয়েশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেলে এরপরই চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রকল্পটি যে ৯টি জেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে সেগুলো হলো- মুন্সীগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কক্সবাজার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০২১ সালের মধ্যে সবার কাছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুৎ সঞ্চালন খাতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ আবশ্যক। এ জন্য মাস্টার প্ল্যান ২০১৬ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশব্যাপী ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম একটি সঞ্চালন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) লিমিটেড একটি শক্তিশালী গ্রিড নেটওয়ার্ক বিনির্মাণের মাধ্যমে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের জন্য এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলো হচ্ছে- ১২ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ, ১৭৫ দশমিক ৯১ কিলোমিটার ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ, ২৫৬ দশমিক ৩ কিলোমিটার ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ, ২টি ৪০০ কেভি সাব-স্টেশন, ২টি ২৩০ কেভি সাব-স্টেশন, ১০টি ১৩২ কেভি সাব-স্টেশন, ৬টি বে সম্প্রসারণ, রক্ষণাবেক্ষণ, ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উন্নতকরণ এবং ৮৬ একর ভূমি অধিগ্রহণ।

পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেন, প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নের ফলে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড নেটওয়ার্কের পরিবর্ধন ও ক্ষমতাবর্ধনের মাধ্যমে বৃহত্তর কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা ও বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

সূত্র জানায়, সহজ শর্তের ঋণের বাইরে অতিরিক্ত হিসাবে স্কেল-আপ ফ্যাসিলিটিজের নামে চড়া সুদে ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এর সুদ হবে বিশ্বব্যাংকের বর্তমান হারের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। বর্ধিত সুবিধা বা স্কেল-আপ ফ্যাসিলিটি (এসইউএফ) তহবিলে ৩৯০ কোটি ডলার রয়েছে। গত বছরের আগস্টে এ তহবিল থেকে চড়া সুদে প্রথম ঋণ চুক্তি করেছে সরকার। বাংলাদেশ পাওয়ার সিস্টেম রিলাইএবিলিটি অ্যান্ড ইফিশিয়েন্সি ইমপ্র“ভমেন্ট শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে এ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। এ ঋণের সুদের হার ধরা হয় ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এ ছাড়া অনুত্তোলিত ঋণের স্থিতির ওপর বার্ষিক শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি এবং এককালীন ফ্রন্ট অ্যান্ড ফি হিসেবে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ হারে দিতে হবে। ৯ বছরের রেয়াতকালসহ ৩০ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করার শর্ত রয়েছে।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন