আজ রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৭ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



দুর্নীতি-কোচিংবাজদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু ১৩ জনকে বদলি * ধরাছোঁয়ার বাইরে উপ-পরিচালকরা

Published on 18 February 2018 | 5: 07 am

১৩ জেলা-উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এদের মধ্যে চারজনকে পাঠানো হয়েছে খাগড়াছড়িসহ পার্বত্যাঞ্চলে। বাকিদের অপেক্ষাকৃত পিছিয়েপড়া ও দুর্গম অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। কাউকে বদলি করা হয়েছে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। বদলির আদেশপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের (ডিইও) আজকের মধ্যে এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের (ইউএসইও) কালকের মধ্যে আগের পদ ছেড়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেয়নি।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার তালিকা ধরে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অনুযায়ী উল্লিখিত কিছু কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী তারা স্থলাভিষিক্ত কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে যাবেন। এমন কর্মকর্তা না থাকলে বিধি মোতাবেক পরবর্তী সিনিয়র কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, ‘যাদের আমরা বদলি করেছি, করছি এবং করব, তারা যদি নিজের পক্ষে কোনো ধরনের তদবির করান তাহলে বিভাগীয় মামলাসহ অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বদলির আদেশপ্রাপ্ত ডিইওরা হলেন- কুড়িগ্রামের খন্দকার আলাউদ্দীন আল আজাদকে পাঠানো হয়েছে বরগুনায়। ঝালকাঠির প্রাণ গোপাল দে’কে যেতে হবে ভোলার তজুমদ্দিন সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদে। ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন আকতারকে যেতে হবে মেহেরপুরে একই পদে। সাতক্ষীরার এসএম ছায়েদুর রহমানকে পাঠানো হয়েছে ফেনীতে। আর সাতক্ষীরা ডিইওর শূন্যপদে দেয়া হয়েছে সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম আবদুল্লাহ আল মামুনকে।

বদলির আদেশ পাওয়া ইউএসইও নেত্রকোনার কলমাকান্দার এসএম আবদুল ওয়াজেদ তালুকদারকে পাঠানো হয়েছে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে। ময়মনসিংহের ত্রিশালের ঝিল্লুর রহমান আনমকে খাগড়াছড়ির গুইমারায় পাঠানো হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের কাজী আ. মোকিমকে শরীয়তপুরের ডামুড্যায় পাঠানো হয়েছে। মাদারীপুর সদরের এসএম সাইফুল আলমকে যেতে হবে পটুয়াখালীর দুমকিতে। কালকিনির আবদুল জলিলকে পাঠানো হয়েছে নওগাঁর রানীনগরে। রাজৈরের সনজিব কুমার বালাকে যেতে হবে বান্দরবানের রুয়াংছড়িতে। শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জের মনিরুজ্জামান চৌধুরীকে যেতে হবে রাঙ্গামাটির কাউখালীতে। ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের মো. আরিফুল্লাহকে পাঠানো হয়েছে কক্সবাজারের রামুতে। বরিশালের বানারীপাড়ার আলী আহাদকে বদলি করা হয়েছে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বদলির এ ঝড়ের মধ্যেও মাউশির ‘ম-স’ আদ্যাক্ষরের সিন্ডিকেটজুড়ি বাণিজ্য করে ফেলেছে। বদলির পর শূন্য অন্য কোনো জেলা বা উপজেলায় পদায়ন করা হয়নি। কিন্তু সাতক্ষীরার ডিইও পদে একজন প্রধান শিক্ষককে বসিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি বদলিকৃত চার ডিইওর মধ্যে একজনকে স্কুলে পাঠানো হয়েছে। এ পদটি সমপর্যায়ের হলেও ডিইও থেকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক পদে বদলিকে শাস্তিমূলক হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু সিন্ডিকেটের উল্লিখিত দুই ব্যক্তি মহাপরিচালক এবং পরিচালককে ভুল বুঝিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে ফেলেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাউশি পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান যুগান্তরকে বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থার তালিকা ধরে আমরা অ্যাকশনে নেমেছি। তালিকায় অনেকের নাম থাকলেও কয়েকজন হয়েছে মানে বাকিরা পার পাবে- এমন নয়। বড় ধরনের প্রশাসনিক বদলিতে ম্যাপিং করে এগোতে হচ্ছে। সেটাই করছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয়, মহাপরিচালক এবং সর্বোপরি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তৎপর। কেউ যদি আগুনে আলু পুড়ে খেতে চায় তাহলে তাকেও আগুনে পুড়তে হবে। আমরা এ ব্যাপারে সজাগ আছি।’

উল্লেখ্য, একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের আলোকে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সারা দেশে এমপিও কার্যক্রমে অনিয়ম-দুর্নীতি করছেন বলে ৮৬ ব্যক্তির নাম পাঠানো হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। ওই তালিকা ধরে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যবস্থা নিতে বলা হয় মাউশিকে। মাউশি ওই দিনই উল্লিখিত ১৩ জনকে বদলি করে। বাকিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ ব্যাপারে মাউশি মহাপরিচালক যুগান্তরকে বলেন, ‘তালিকায় যাদের নাম আছে তাদের মধ্যে উপ-পরিচালকদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আমার জানা মতে, এ ব্যাপারে সেখানে প্রক্রিয়া চলছে। আমরা আমাদের অধিক্ষেত্রের চিহ্নিতদের নিয়ে কাজ করছি।’

কোচিংবাজদের রিট, অতঃপর… : এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে যেসব কোচিংবাজ শিক্ষক চিহ্নিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ২৫ জন সরকারি হাই স্কুলের শিক্ষক। মাউশি সূত্র জানিয়েছে, ওই ২৫ জন শিক্ষক আগের কর্মস্থলে থাকতে কোচিংবাজদের প্রাণান্ত চেষ্টা করছে। কোনো কিছুতে কাজ না হওয়ায় সর্বশেষ বদলির আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আদেশের ওপর উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ দেয়া হয়েছিল। পরে মাউশি সেই আদেশের ওপর আপিল করে। আপিলে সরকার বা মাউশির পক্ষে রায় গেছে। এর ফলে দুদক চিহ্নিত কোচিংবাজদের বদলিকৃত স্থানে যেতেই হচ্ছে।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন