আজ রবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৮ ইং, ০৯ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



তিন পরীক্ষার্থী বহিষ্কার, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ, চার অভিভাবক আটক, মামলা

Published on 16 February 2018 | 4: 38 am

ডিসি অফিসের মতো সরকারি স্থাপনায় বিক্ষোভের নামে উচ্ছৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির উস্কানি দাতাদের বিরুদ্ধেই এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. হাবিবুর রহমান।

শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা যায়, বহিষ্কৃত তিন পরীক্ষার্থীর মধ্যে দুই ছাত্র সেন্ট প্ল্যাসিডস্‌ স্কুল অ্যান্ড কলেজের এবং এক ছাত্রী সেন্ট স্কলাসটিকা স্কুলের। সকালের পরীক্ষায় কেন্দ্র পরিদর্শন করতে গিয়ে এই তিন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন জেলাপ্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রমিজ আলম। পরে দায়িত্বরত শিক্ষক তাদের বহিষ্কার করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রমিজ আলমের দাবি, তিন পরীক্ষার্থীর প্রশ্নপত্রে কলমের দাগ, লেখা ও নকলের আলামত দেখার প্রেক্ষিতে তাদের বহিষ্কারের নির্দেশনা দেয়া হয়।

তবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের তিন সহপাঠী নৈর্ব্যক্তিক অংশের প্রশ্নপত্রে ছোট করে দাগ দেয়। শুধু এই কারণেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদের তিন সহপাঠীকে বহিষ্কার করেছেন। বিক্ষোভের সময় পরীক্ষার্থীরা দাগ দেওয়া প্রশ্নপত্রটি দেখায় এবং জানতে চায় প্রশ্নে দাগ দেওয়া মানে কি নকল করা? বিক্ষোভকারীদের দাবি, সামান্য ভুলের জন্য তিন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করার ঘটনা মেনে নেয়া যায় না। তাছাড়া যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তারা সবাই বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র–ছাত্রী হিসেবে পরিচিত। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরীক্ষাকেন্দ্রে নিজে স্মার্টফোন নিয়ে প্রবেশ করেছেন এবং পরীক্ষাকক্ষে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের স্মার্টফোন নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশের বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো.হাবিবুর রহমান বলেন, এই নির্দেশনা যারা পরীক্ষা পরিচালনার সাথে সম্পৃক্ত তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ডিসি, এডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা পরীক্ষা কেন্দ্রে যাবেন, কিন্তু স্মার্টফোন নিয়ে যেতে পারবেন না, তা কি করে হয়।

প্রসঙ্গত, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক সম্প্রতি জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, পরীক্ষাকেন্দ্রে কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। কেবল কথা বলার প্রয়োজনে কেন্দ্র সচিব একটি সাধারণ ফোন (ছবি এবং ভিডিও করার উপযোগী নয় এমন) ব্যবহার করতে পারবেন, কোনো ভাবেই স্মার্টফোন নয়। এছাড়া শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কোনো কর্মকর্তাও পরীক্ষা কেন্দ্রে ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুত্র : আজাদী


Advertisement

আরও পড়ুন