স্পিকারের কাছে প্রটেকশন চাইলেন ম খা আলমগীর

ফারর্মাস ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকাকালে ঋণ কেলেঙ্কারি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান ও সরকারি দলের সংসদ সদস্য ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর।

তিনি এ ব্যাপারে স্পিকারের কাছে প্রটেকশন দাবি করে বলেন, ‘তিনটি পত্রিকা ফারর্মাস ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে আমার বিরুদ্ধে কতিপয় ঘৃণিত, অসত্য তথ্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জাতির সামনে প্রকাশ করেছে। যে অভিযোগ এসেছে তা সম্পূর্ণ কল্পনাভিত্তিক ও অনুমাননির্ভর’। ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, ফারর্মাস ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে আমি নাকি ঋণ বিতরণের আগে গ্রাহকদের কাছ থেকে কমিশন নিয়েছি। এত বড় অসত্য কথার সম্মুখীন আমার ৭৭ বছরে কখনও হতে হয়নি।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে আমি শিল্প ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় ছিলাম, কৃষি ব্যাংকের শিল্পঋণ সংস্থার সভাপতি ছিলাম, জেদ্দায় প্রতিষ্ঠিত ইসলামি ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ছিলাম। আমার কার্যক্রম সম্পর্কে এভাবে কোন উদাহরণ, কোন অপবাদ কেউ কোনোদিন উপস্থাপন করতে পারেনি।

এ সময় তিনি নিজের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তুলে ধরে বলেন, আমার ব্যাংকের হিসাবের পুরো অংশ নিয়ে এসেছি। এখানে কেউ কী প্রমাণ করতে পারবেন যে, কোন ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে আমার এখানে অর্থ ঢুকেছে? পত্রিকাগুলো রিপোর্টে উল্লেখ করেছে যে, আমি চেয়ারম্যান থাকাকালে ১৭ জুলাই ১৩ কোটি টাকা গ্রাহকের হিসাব থেকে আমার হিসাবে এসেছে।

ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, আমার ব্যাংক হিসাবে এখানে আছে, গত ১৭ জুলাই থেকে পরবর্তী ৭ বা ১০ দিনে আমার হিসাবে এ ধরনের কোনো অর্থ জমা হয়নি। তাই আমি মনে করি এই ধরনের অপবাদ সমাজের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করার প্রতিকূল। আর প্রতিকূল বর্জন করার জন্য দূরে সরিয়ে সুসংহত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য স্পিকারের কাছে প্রতিবিক্ষণ চাইব।

তিনি আরও বলেন, চেয়ারম্যান থাকার সময় অনুমোদনহীন ঋণ দেওয়া হয়েছে বলে যা প্রচার করা হয়েছে এই অভিযোগও অস্বীকার করছি। কেননা আমি চেয়ারম্যান থাকার সময়ে অনুমোদন ছাড়া কোনো ঋণ প্রক্রিয়াজাত করা হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পর্যবেক্ষক তারাও এটা অবলোকন করেছেন। এভাবে অনুমানভিত্তিক প্রচার আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা রক্ষা করার প্রতিকূল।

তিনি বলেন, ফারর্মাস ব্যাংকে যে পরিমাণ ঋণ অনুমোদন হয়েছে তার চাইতে বেশি ঋণ দেয়া হয়েছে এমন অভিযোগও আনা হয়েছে রিপোর্টে। আমি এই অভিযোগও অস্বীকার করছি। কারণ টাকা দেওয়া ও সঞ্চালন করার এখতিয়ার ব্যাংক কর্মকতাদের, ম্যানেজার এবং অন্যান্যদের। অনুমোদনের বাইরের কোনো ঋণ দিয়ে থাকলে সেটা তাদের দায়িত্ব। তবে আমি চেয়ারম্যান থাকার সময়ে আমার জানামতে এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি।

ব্যাংকটিতে সবক্ষেত্রে যথাযথ কর্মকর্তা নিয়োগ হয়নি বলে যে অভিযোগ এসেছে সে সম্পর্কে সাবেক এই চেয়ারম্যান বলেন, ফারর্মাস ব্যাংকের সবক্ষেত্রে যথাযোগ্য কর্মকর্তা নিয়েছি, তাই হয়েছে। শুধু তাই না, বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে একমাত্র ফারর্মাস ব্যাংকেই সবচেয়ে বেশি মুক্তিযুদ্ধের উত্তরসূরিদের নিয়োগ দিয়েছি। এটা ইচ্ছা করেই করেছি। এতে কেউ যদি মনে ব্যাংকের স্বার্থ লঙ্ঘিত করেছে, তারা সত্য ও সৎকথা বলেননি।

21Shares
Mahabubur Rahman Mahabubur Rahman

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this:
Web Design BangladeshBangladesh Online Market