আজ সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ ইং, ০৪ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



এই দিন দিন নয়, আরো দিন আছে

Published on 10 February 2018 | 12: 45 pm

:: কামাল পাশা ::

১৯৯৩ সালে জনতা টাওয়ার মামলায় জেনারেল এরশাদের সাত বছর জেল হয়ে ছিল।
২০১৮ সালে এসে খালেদা জিয়ার পাচ বছর জেল হলো। টাকার অংকে বিচার হয়নি। বিবেচ্য হয়েছে ক্ষমতা। মূল বিবেচ্য ছিল ক্ষমতার অপব্যবহার। জন প্রতিনিধি, প্রধানমন্ত্রী সংবিধান শপথ করে সংবিধানের অমর্যাদা করেছেন।
আ্সামি ১৩৯ বার সময় নিয়েছে। অনেকবার মামলাটি stayed হয়েছিল। আদালতের উপর অনাস্হা হয়েছে ছয়বার, ২০০৮ থেকে ২০১৮ দীর্ঘ দশ বছর লেগেছে রায় হতে।
দুই জন সরকার/ রাষ্ট্র প্রধানের রায় দেখলো বাংলাদেশের জনগন। দুর্নীতির র্যাংকিংএ বাংলাদেশ দুর্নীতি পরায়ন দেশ। এদেশে দূর্নীতি একটি সংস্কৃতি।এদেশে যারা দূ্নীতি করে তাদের সবাইকে সাধারন মানুষ সমীহ করে চলে, স্মার্ট মনে করে।

এদেশে নাকি এক কিলোমিটার রাস্তা বানাতে পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ ব্যয় হয় । এই হিসাবটা বা assessment কে করে, অবশ্যই কোন ইন্জিনিয়ার।

বুঝুন ঘটনা কোথায়। সরকারী হাসপাতালের বড় বড় ডাক্তার বাবুদের প্রাইভেট হাসপাতালে পাবেন। বেতন নিবেন সরকারি হাসপাতাল থেকে সেবা দিবেন নিজ মালিকানাধীন প্রাইভেট হাসপাতালে।

এদেশে সরকারি অর্থ আত্মসাৎকে কেউ অপরাধ মনে করেনা। ব্যাংক থেকে পরস্পর যোগ সাজসে, ভূয়া দলিল জমা দিয়ে হাজার কোটি টাকা ঋন নিয়ে গায়েব হয়ে যাওয়াকে অপরাধের বদলে স্মার্টনেস মনে করে কেন জানেন?

এই সব ঋন গ্রহীতারা সরকার থাকা কালীন জাপা, বিএনপি, আওয়ামী লীগের আশ্রয়ে প্রশয়ে বেড়ে উঠা।এই শিল্পপতি, ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক সরকারের মন্এী, এমপি, দলীয় নেতাদের মাসোহারা চাদা দেয়, অলিখিত ব্যবসায়িক পার্টনার, ব্যাংক, ইন্সুরেন্স কোম্পানির অনুমোদন করায়, বড় বড় টেন্ডার গুলো পাইয়ে দেয়, আবার স্হানীয় নেতারা সাব কন্ট্রাক্ট কাজ গুলো হাতিয়ে নেয়। শিল্পপতি, ব্যবসায়ী বানায় রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রীরা।

একটু চোখ বুলিয়ে দেখুন এদেশে সত্যি কারের ব্যবসায়ীরা ব্যাংক বীমার পারমিশন পায়নি। রাজনৈতিক দল, সরকারের চেলা, চামচা, আত্নীয় স্বজনেরা পেয়েছে। এরা আবার ২০০%, ৩০০% উচ্চ হারে শেয়ার বিক্রি করেছে। primium এর টাকা নিয়ে বিনা পয়সায় নিজে ডাইরেক্টর হয়।  যাত্রাবাড়ির ফ্লাইওভারের কাজ কে পেয়েছে/ অথবা মালিবাগ মগবাজার ফ্লাইওভারের কাজ কে পেয়েছে? তাদের ব্যবসায়িক back ground কি?

একজন সাধারন ব্যবসায়ী আটটি ব্যাংকের মালিক, কি তার ব্যবস্হাপনার মান, quality,তাদের পিছনে কে? রাজনৈতিক দল, নেতা, মন্এী, এমপিদের পিছনে যারা সব সময় থাকে, অনৈতিক, অকাম, কুকামের যোগান দেয় তারা শেয়ারে সব কিছু পরিচালনা করেন।ব্যাংক গুলেতে হাজার হাজার কেটি টাকা খেলাপি ঋন হয়েছে। সরকারি, বেসরকারি ব্যাংক ব্যবস্হাপনা গুলোকে নিজেদের মতো করে কাজ করতে দিন, এক বছরের মধ্ে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। ঋন খেলাপি সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে। বাংলাদেশে বিদেশী ব্যাংক গুলো তো বাংলাদেশি মানুষেরা চালায়। সেসব ব্যাংক গুলো সুশৃঙ্খল ন্যায় নীতি মেনে চললে দেশী ব্যাংক গুলোতে এত চুরি চামারি কেন?

গলদ কোথায় বাসা বেধেছে?

সব সময় সব সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংকের মানদন্ডের বাইরে ঋন দিতে বাধ্ হয়েছে ব্যাংকের ব্যবস্হাপনা কতৃপক্ষ । এই সব রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য পাওয়া প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের বিরুদ্বে কোন ব্যবস্হা নেয়া হয়নি। বরং বাংলাদেশ ব্যাংক সময় সময় বিভিন্ন সার্কুলার জারি করে খেলাপি ঋনকে শুন্য মার্জিনে restructured, reschedule করা হয়েছে। সময় সময় সমস্ত সুদ মাফ করে মূল টাকা ৫/১০ বছরের কিস্তিতে পরিশোধ করার সুযোগ দিয়েছে। ৫/৬ মাস পর আবার খেলাপি। কিন্তু তল্লাসি করে দেখা যাবে তাদের অর্থ, বিত্ত, শান সওকত, গাড়ি বাড়ি, ধন দৌলত, ব্যাংক ব্যালেন্স সব ঠিকই আছে।
এদের বিরোদ্বে গেলে সরকারের অস্তিত্বের সংকট,আপেষকামীতা, দেশ প্রেমের অভাব, বা অন্য কোন কিছুতে?

বাংলদেশের সাধারন মানুষের আস্হা সমর্থন, ভোট নিয়ে দল ক্ষমতায় আসে, সরকার গঠন করে।আর সরকার চলে ধনীক, বনিক,মূখ চেনাসুবিধা কিছু ভুইপোড় লোকদের দ্বারা। crisis এর সময় সাধারন মানুষই আশা ভরসা। রঙিন চশমা দিয়ে দল দেখে ক্ষমতাকে। আচরন গুলো এমন যেন ক্ষমতা চির স্হায়ী। সাধারন মানুষের সংগে একটা দেওয়াল তৈরি হয়। দলের সাধারন কর্মি, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী, সাধারন জনগনকে দাপুটে নেতা, মন্ত্রী, কিছু কিছু এমপি, মানুষই মনে করে না। ওদের কাছে অর্থ বিত্ত অর্জনই সব। হয়ে উঠে বেপরোয়া। শংকিত হয়ে জনগন, মিডিয়ার পাতা খুললেই হাজার হাজার ভুরি ভুরি খবর মিলবে। ২৫০ আসন নিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে ৩০/৫৯ আসন পেয়ে চোখের পানিতে পরাজয় বরন করতে হয়েছে। শিক্ষা হয়নি।

১/১১ তে বাংলাদেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলের বড় বড় নেতা হোমরা,চোমরা,যে নামে অভিহিত করুন, বড় বড় ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, মিডিয়ার মালিক, কেউ জেলে গেছেন, কেউ শাড়ি পড়ে লুকিয়েছিলেন, কেউ দেশ ত্যাগ করেছেন, কেউ মুচলেকা দিয়ে বাপ ডেকে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। এত বেইজ্জত হওয়ার পরও স্বভাব বদলাইনি আমাদের নেতৃবৃন্দের। ইতিহাসের নির্মম শিক্ষা কি জানেন?

কেউ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না।
কেউ আজীবন ক্ষমতায় থাকবেনা বা বাইরেও থাকবেনা। আমাদের সব কিছুর হিসাব দিতে হবে আসামির কাটগড়ায় যেমন খালেদা জিয়া দিলেন গতকাল ।
কেউ আইনের উর্ধে নয়। বিবেচ্য শুধু সময়।
Today its me, tomorrow yours.

০৯-০২-২০১৮


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন