আজ বৃহঃপতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৪ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



সেতু ভবনে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা! আমাদের সময়ের রিপোর্টারকে আটকে রাখা হয় দেড় ঘন্টা

Published on 07 February 2018 | 3: 41 am

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু ভবনে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার আমাদের সময়ের সিনিয়র রিপোর্টার তাওহীদুল ইসলামকে সেতু ভবনে প্রবেশের দায়ে দেড় ঘন্টা আটকে রাখা হয়। এরপর চলে দফায় দফায় জেরা।

পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে তিনি সেতু ভবন থেকে বের হন। এর আগে প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার আনোয়ার হোসাইন ও সমকালের স্টাফ রিপোটর্ার রাজীব আহম্মদকে নাজেহাল করা হয়।

এ প্রসঙ্গে তাওহীদুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, তিনি মঙ্গলবার সকালে সেতু ভবনে পেশাগত কাজ শেষে বের হওয়ার পথে তার পথ আটকান সেতু কর্তৃপক্ষের রিসিপশনিস্ট শহীদুল। পদ্মা সেতু প্রকল্পে আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত শহীদুলের বক্তব্য, ‘আপনাকে ঢুকতে দেয়ার কারণে আমার চাকরি চলে যাচ্ছে।’ এরপর তাওহীদকে নিয়ে যাওয়া হয় সেতু কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মনিরুল আলমের কক্ষে।

মনিরুল আলম তখন এই সাংবাদিক কিভাবে ঢুকেছেন, কোন কোন অফিসারের কাছে এবং কী কাজে গেছেন তার ব্যাখ্যা চান। পেশাগত কাজের কথা বলা হলে ক্ষেপে যান মনিরুল আলম। এ সময় তিনি রিসিপশনিস্টকে নির্দেশ দেন, ‘এরপর থেকে উনিসহ কোনো সাংবাদিক যেন ভেতরে ঢুকতে না পারে।’ এই কথার পর তাকে বলা হয়- সাংবাদিকরা সাধারণত সচিবালয়সহ যে কোনো স্থানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। এক্রিডিটেশন কার্ড থাকলে পাশ নেয়ার প্রয়োজন হয় না। একথার পর আরও উত্তেজিত হয়ে যান এই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকের সেতু ভবনে কোনো কাজ নেই। দরকার মনে করলে দাওয়াত দেয়া হবে। আর ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের সঙ্গে তার ভাই সম্পৃক্ত; যিনি যুগ্ম সচিব। ফলে সাংবাদিকতা সম্পর্কে তার বেশ জ্ঞান রয়েছে।’ এরপর সচিবের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তিনি বাধা দেন। তার রুমে দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখেন।

পরে পরিচালক (প্রশাসন) এম কায়সারুল ইসলামের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনিও উপ পরিচালকের সুরে বলতে থাকেন- সাংবাদিকের ভেতরে কাজ নেই। সুনির্দষ্টি কারণ ব্যাখ্যা দিয়ে সংশস্নষ্টি কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে যেতে হয়।’ এরপর ভেতরে আটকে রাখাসহ ঘটনার বিস্তারিত ফোনে জানানো হয় মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা শেখ ওয়ালিদ ফয়েজকে। তার হস্তক্ষেপে পরবর্তীতে সেতু ভবন থেকে বের হন এই প্রতিবেদক।

সাংবাদিক প্রবেশ নিয়ে এই অবস্থানের কারণ জানতে ফোন করা হয় সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামকে। তিনি উল্টো জিজ্ঞেস করেন, সাংবাদিকের কাজ কী সেতু ভবনে? তথ্য সংগ্রহের কথা তুলে ধরলে তিনি বলেন, ব্রিফিং ছাড়া সাংবাদিকের কোনো কাজ থাকতে পারে না।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন